
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তির এক বছর হয়েছে। চুক্তির আলোকে গাজায় প্রাথমিকভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি এখনো দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। তারা কায়রোতেই অবস্থান করছে এবং গাজায় প্রবেশে ইসরায়েলের অনুমতির অপেক্ষায় আছে।
ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকদের মতে, এই বিলম্ব গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর সমস্যার লক্ষণ। যাঁদের অঞ্চলটি শাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁরা এখনো সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না, অন্যদিকে ইসরায়েল গাজার শাসনব্যবস্থা ও পুনর্নির্মাণের শর্তাবলি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের অধীনে গত জানুয়ারিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সাবেক উপমন্ত্রী ও প্রকৌশলী আলী শাথের সভাপতিত্বে ন্যাশনাল কমিটি ফর দি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা গঠন করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি অনুমোদিত হয় এবং ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত গাজার রূপান্তর পর্যবেক্ষণের জন্য ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিসকে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়।
কমিটিকে জায়গা করে দিতে হামাস জুলাই মাসে তাদের শাসন পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেয়, কিন্তু ইসরায়েল এখনো কমিটিকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’র পেছনে গাজার ৫৩ শতাংশ অঞ্চল ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা থাকলেও তারা এখন ভূখণ্ডটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
ইসরায়েলবিষয়ক গবেষক মোহাম্মদ দারাগমেহ আবু আলান যুক্তি দেন, অস্ত্র ত্যাগ করা থেকে শুরু করে হামাসের শেষ সুড়ঙ্গ ধ্বংস করার মতো শর্তগুলোকে ইসরায়েল এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যা পূরণ হয়েছে বলে কখনো প্রমাণ করা সম্ভব নয়। ফলে ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি একটি বাফার জোন ধরে রাখার ও গাজার ভেতর থেকেই ইসরায়েলি বসতিগুলোকে রক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছে।
দারাগমেহ আবু আলান বলেন, গাজা প্রশাসনিক কমিটি ইসরায়েলের মেনে নেওয়ার শর্ত হলো—হত্যাকাণ্ড ও যেকোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নস্যাৎ করাসহ গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ইচ্ছামতো ব্যবস্থা নেওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আর ঠিক এই কারণগুলো দেখিয়েই ইসরায়েল গাজার যেকোনো প্রকৃত সমাধান প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগস্টে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে জানান যে, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল পিছু হটবে না। আবু আলান মনে করেন, কমিটির পথ আটকে দেওয়ার পেছনে ইসরায়েলের মূল যুক্তি কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই হামাস নিজেদের বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর এটিকে লেবাননে হিজবুল্লাহর কাঠামোর মতো একটি কৌশল বলে উড়িয়ে দেন।
এদিকে, বোর্ড অব পিস জানিয়েছে, তারা হামাসকে তাদের কাজের ভিত্তিতে বিচার করবে এবং ‘এক কর্তৃত্ব, এক আইন ও এক অস্ত্র’-এর ওপর জোর দেবে। লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়াদ আল-কাররা ধারণা করছেন, গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ও কমিটি বাইরে আটকে থাকার এই বর্তমান স্থবিরতা অন্তত চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এবং ইসরায়েলের নতুন সরকারের রূপ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বজায় থাকবে।
আল-কাররা বলেন, সরকার থেকে সরে আসার জন্য হামাস প্রশংসার দাবিদার, কিন্তু শাথের কমিটি খুব কম কাজই করেছে। তারা কোনো বাস্তব কাজ না করেই মাসের পর মাস কেবল আলোচনায় কাটিয়েছে।
আবু আলান আরও কঠোর মন্তব্য করে বোর্ড অব পিসকে ইসরায়েলের লক্ষ্যের সঙ্গেই একাত্ম বলে বর্ণনা করেন। যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া এবং ইসরায়েলি অপরাধ, হত্যাকাণ্ড ও অবরোধের বিষয়ে নীরব থাকার কারণে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই কমিটি একটি অস্পষ্ট বা নিরাকার সংস্থা ছাড়া আর কিছুই নয়, যার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই আর এই কারণেই হয়তো ইসরায়েল গাজায় তাদের একটি শাসক সংস্থা হিসেবে মেনে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
সংঘাতবিষয়ক গবেষক সাইদ আবু রহমা যুক্তি দেন, চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত গাজাকে যুক্ত করে একটি ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের পথে হাঁটা, ‘গাজা প্রশাসন’ নামের কোনো পৃথক সত্তা তৈরি করা নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) ছাড়া ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন করে গড়ে তোলার কথা ভাবা কঠিন, ঠিক তেমনই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রেখে গাজার কথা ভাবাও অসম্ভব।
রামাল্লার অবস্থানও একই সূত্রের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফাতাহ মুখপাত্র ও আন্দোলনটির রেভল্যুশনারি কাউন্সিলের সদস্য মুনসুর আল-হায়েক বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ যে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে, তা থেকে জেনোসাইড বা গণহত্যা বন্ধের উদ্দেশ্যে বাধ্য হয়েই পিএ ‘বোর্ড অব পিস’ ও তাদের কমিটিকে মেনে নিয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘প্রথম থেকেই সবচেয়ে ভালো সমাধান ছিল হামাস ও দখলদারদের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে গাজায় তার দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া, কিন্তু তা ঘটেনি। এখন বোর্ড অব পিস থেকে উঠে আসা জাতীয় কমিটি রিকভারি বা পুনরুদ্ধারের পর্বটি সামলাবে—এমন বিকল্প পথ ছাড়া আমাদের কাছে কমই সুযোগ রয়েছে, তবে শর্ত থাকে যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পূর্বপ্রস্তুত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব নেবে।’
আল-হায়েক নির্বাচনকে গাজা ও পশ্চিম তীরকে কর্তৃপক্ষের আইনি এখতিয়ারের অধীনে পুনরায় একীভূত করার উপায় হিসেবে দেখেন। পিএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আগামী ২৮ নভেম্বর আইনসভা নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন, যা ২০০৬ সালের পর প্রথম নির্বাচন। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের নির্বাচনে হামাসের জয় পরবর্তী দ্বন্দ্বের জন্ম দিয়েছিল, যার ফলে ২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
ইসরায়েলও ২৭ অক্টোবর তাদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। ফিলিস্তিন সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চ সতর্ক করে জানিয়েছে, দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী এক মাস সময়ে নতুন কোনো ইসরায়েলি সরকারের পক্ষে নিজেদের নীতি নির্ধারণ করার সময় পাওয়া প্রায় অসম্ভব, যা ফিলিস্তিনি নির্বাচন স্থগিত করা প্রায় অনিবার্য করে তুলবে।
তবে আল-হায়েক আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠিত হলে তা নেতানিয়াহুর সরকারের চেয়ে কম ক্ষতিকর হবে। নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মতরিচ ফিলিস্তিনিদের হাতে কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু আবু আলান এমন কোনো পরিবর্তনের আশা করেন না। তাঁর মতে, ইসরায়েল গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রত্যাবর্তন মেনে নেবে না, কারণ, এতে পশ্চিম তীর ও গাজা একটি একক সত্তায় পরিণত হবে, যা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। আর কেবল ওয়াশিংটনই ইসরায়েলের এই অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে।
আবু আলান বলেন, হামাস, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, সাধারণ ফিলিস্তিনি জনগণ, এমনকি আরব-ইসলামিক দেশগুলো কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও এমন কোনো হাতিয়ার নেই, যা দিয়ে গাজাকে যেকোনো ফিলিস্তিনি শাসন বা প্রশাসনের বাইরে রাখার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়া যায়।
আল-কাররাও এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন যে—হামাস তার জনসমর্থন হারিয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, পশ্চিম তীরে ফাতাহও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ইসরায়েল তাদের বসতি ও চেকপোস্ট বাড়িয়েছে এবং হত্যাকাণ্ড জোরদার করেছে। আবু আলান বলেন, গাজার ভবিষ্যৎ কার হাতে ক্ষমতা আছে, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করবে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যকার সেই চুক্তির ওপর—যা ঠিক করবে কে শাসন করবে, কে পুনর্নির্মাণের অর্থ দেবে, কে নিরাপত্তা দেবে এবং শেষ পর্যন্ত কার কাছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে।
মানবাধিকারকর্মী হোসেন হামাদের মতে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো ঐক্যবদ্ধ সরকারের অনুপস্থিতির কারণে ফিলিস্তিনিদের একাকী যুদ্ধযন্ত্র ও ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গাজার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই ধারণা ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। তিনি বলেন, এই প্রশাসনিক শূন্যতা ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছে, কৌশলগত পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা গড়ে তুলছে এবং পুরো উপত্যকাকে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশে পরিণত করছে, যেখানে স্বল্প সম্পদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিপুল চাহিদাকে।
গাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের নেতৃত্বাধীন শেল্টার ক্লাস্টারের এক জরিপ অনুযায়ী, গাজার আনুমানিক ১৯ দশমিক ৮ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৯৪ শতাংশ) আশ্রয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সহায়তার মুখাপেক্ষী। অন্যদিকে বিশ্ব ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থা (আইপিসি) জানিয়েছে, ১২ লাখের বেশি মানুষ চরম ক্ষুধার মুখোমুখি।
হোসেন হামাদ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য গঠিত জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে বাদ দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন। তিনি এই বিপর্যয়ের মধ্যে সংস্থাটিকে ত্রাণ বিতরণের সক্ষমতা থাকা ‘একমাত্র লজিস্টিক মেরুদণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে ইতিমধ্যেই সংস্থাটি ২২০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি মেটাতে গিয়ে গত জানুয়ারিতে ৬০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং গাজায় কর্মচারীদের বেতন ২০ শতাংশ কমিয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম ও ইউনিসেফ থেকে শুরু করে আরব প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় দাতব্য সংস্থাগুলো যা শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করছে, তাদের কাছে আনরোয়ার মতো পর্যাপ্ত কর্মী, তথ্যভান্ডার ও অবকাঠামো নেই। হামাদ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে জানান যে, এই সংস্থাগুলো মূল প্রয়োজনের ১০ শতাংশের কম মেটাতে পারছে।
পুনর্নির্মাণের কাজও বলতে গেলে শুরুই হয়নি। বোর্ড অব পিস সেপ্টেম্বরে কার্যক্রম শুরুর জন্য ২৪৫ কোটি (২.৪৫ বিলিয়ন) ডলারের একটি পরিকল্পনা উন্মোচন করেছিল, যা মূলত গত এপ্রিলে ইইউ এবং জাতিসংঘের প্রাক্কলন করা পরবর্তী দশকের ৭১৪ কোটি (৭১.৪ বিলিয়ন) ডলারের চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।
আবু আলান বলেন, হামাসের কাছ থেকে অস্ত্র কমানো বা নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া কোনো পুনর্নির্মাণ সম্ভব নয়—এটি ইসরায়েল ও বোর্ড অব পিস উভয় পক্ষেরই অবস্থান। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল চায় গাজা যেন এমন একটি স্থানে পরিণত হয়, যা মানুষকে সেখান থেকে বিতাড়িত করে, যাতে তাদের উৎখাত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারে। বিষয়টি এখন আবার ইসরায়েলি নির্বাচনের প্রচারণায় ফিরে এসেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সেপ্টেম্বরে বলেন, ফিলিস্তিনিদের এই স্থানান্তর ছাড়া গাজার কোনো বাস্তব সমাধান নেই। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন যে, রাফাহ ক্রসিংয়ে ইসরায়েলের বহির্গমন নিয়মগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ফিলিস্তিনিরা ফেরতের চেয়ে বেশি সংখ্যায় চলে যেতে বাধ্য হয়।
এমনকি মধ্যবর্তী এই ব্যবস্থার ওপর ভর করে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখা ফাতাহও প্রত্যাশা করছে যে, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হবে। ফাতাহ মুখপাত্র আল-হায়েক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০২৭ সালে শেষ হতে যাওয়া বোর্ড অব পিসের মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে, কারণ কোনো কাজ না করেই প্রায় একটি বছর পার হয়ে গেছে। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে কোনো বাস্তব উন্নতির সম্ভাবনাকে বাতিল করে দিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন যে, তিন বছর পর সাধারণ বাসিন্দা ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর সমস্ত সহনশীলতা বা টিকে থাকার উপায় নিঃশেষ হয়ে গেছে। তিনি যুক্তি দেন, একটি স্থায়ী শাসনব্যবস্থা কেবল ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব মুক্ত ইচ্ছা থেকেই সৃষ্টি হতে পারে।
আল-হায়েক বলেন, যিনি শেষ পর্যন্ত গাজা পরিচালনা করবেন, তিনি এমন কোনো সংস্থা হতে পারেন না, যা ট্যাংকের ওপর ভর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কিংবা বাস্তবতাবিমুখ আন্তর্জাতিক প্রস্তাবের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
দ্য নিউ আরব থেকে অনূদিত

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানির প্রভাব ব্রিটেনের রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। একসময় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা বহু ব্রিটিশ নাগরিক এখন ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের জাঁতাকল, চড়া সুদহার, শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বৈরী আবহাওয়ার নানা বাধা সত্ত্বেও ভারত সাড়ে ৭ শতাংশের বেশি ঈর্ষণীয় গতিতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের দাবি করছে। যদিও ভারতের বিরোধীদের মধ্যে এই হার নিয়ে তীব্র দ্বিমত রয়েছে।
২ দিন আগে
ভারতের কোনো খেলনার দোকানে ঢুকে শিশুর পছন্দের নতুন কোনো খেলনা কেনার পাশাপাশি আপনি বুঝতে পারবেন, কীভাবে ভারত তার শক্তিশালী প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
৩ দিন আগে
হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জাতীয়তাবাদ এবং সীমান্ত সংঘাতকেন্দ্রিক সিনেমা সর্বদাই ভারতীয় বক্স অফিসে ব্যবসায়িক সাফল্যের অন্যতম মূল হাতিয়ার। তবে বলিউড তারকা সালমান খানের নতুন যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাতৃভূমি:
৩ দিন আগে