আজ শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী খারগ দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলোতে বোমাবর্ষণ শুরু করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলা মূলত ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাইন মজুত করার স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যা দিয়ে ইরান পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছিল।
তবে মার্কিন সামরিক সূত্র দাবি করেছে, তারা দ্বীপের মূল তেল অবকাঠামোতে হামলা এড়িয়ে গেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে এই দ্বীপে কী এমন রয়েছে, যা ট্রাম্পকে এই হামলা চালাতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
পারস্য উপসাগরের উত্তর দিকে ইরানের উপকূলের কাছে অবস্থিত ক্ষুদ্র এক ভূখণ্ড হলো খারগ দ্বীপ। আকারে এটি নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে এই দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এর প্রধান কারণ হলো, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের টার্মিনালগুলো দিয়ে সম্পন্ন হয়। পারস্য উপসাগরের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকার পানি অগভীর হলেও খারগ দ্বীপের চারপাশের পানি বেশ গভীর, যা বিশাল আকৃতির সুপারট্যাংকারগুলোকে ভিড়তে সাহায্য করে।
১৯৬০-এর দশক থেকে ইরান সমুদ্রপথে তেল রপ্তানির জন্য এই দ্বীপের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এখানে ইরানের বৃহত্তম তেল কোম্পানি ‘ফালাত ইরান অয়েল কোম্পানি’সহ তিনটি প্রধান জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে। এই টার্মিনালে একযোগে ১০টি সুপারট্যাংকারে তেল বোঝাই করার সক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া দ্বীপটি ইরানের বৃহত্তম তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলোর সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত।
ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হলো চীন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে একটি গোপন ট্যাংকার বহরের মাধ্যমে ইরান চীনে তেল পাঠায়, যা ইরানের মোট অর্থনীতির প্রায় ৬ শতাংশ এবং সরকারি ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক জোগান দেয়। অন্যদিকে, চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে ইরান থেকে। ফলে এই দ্বীপের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ইরান নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এর আগে ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী এই দ্বীপে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল। সাম্প্রতিক এই হামলার পর ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দ্বীপটিতে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা অবিরাম বিস্ফোরণে দ্বীপটি ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে। তিনি সতর্ক করেছেন, খারগ দ্বীপের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে কোনো আঘাত এলে ইরানের তেল রপ্তানি মুহূর্তেই থমকে যাবে।

একটা বিষয় আমরা অনুমান করতেই পারি যে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ শেষ বলে ঘোষণা করবেন, তখন তিনি নিশ্চিতভাবেই এটিকে ‘জয়’ বলে আখ্যা দেবেন। মাঠের বাস্তবতা যাই হোক না কেন, তিনি এই ঘোষণাই দেবেন। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি কর
৩ ঘণ্টা আগে
পারস্য উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে আগুন জ্বলছিল, আর সৌদি আরব আশঙ্কা করছিল—ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাবে। ১৯৮০-এর দশকে এই প্রণালি বাইপাস করে বা এড়িয়ে যেতে মরুভূমিতে যে পাইপলাইনটি তারা তৈরি করেছিল...
৮ ঘণ্টা আগে
১৯৪১ সালের পর থেকে আর কখনো ইরানকে জয় করা যায়নি। সে বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনাবাহিনী তাদের আকাশ, স্থল ও নৌ শক্তি একত্র করে ইরানে হামলা চালায়। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন শাসক রেজা শাহর গড়ে তোলা দুর্বল ও অনুন্নত সামরিক বাহিনীকে দ্রুত পরাজিত করা।
৯ ঘণ্টা আগে
একুশ শতকের যুদ্ধক্ষেত্রে এখন ড্রোনের একচ্ছত্র আধিপত্য। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা প্রমাণ করছে, বর্তমান যুদ্ধ কোনো শক্তিশালী বা ব্যয়বহুল সামরিক শক্তি নয়, বরং কে কত সস্তায় কার্যকর ড্রোন তৈরি করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করছে।
১১ ঘণ্টা আগে