Ajker Patrika

খালি হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির মজুত, তাতেই কি সুর নরম ট্রাম্পের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ১৫: ৪৯
খালি হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির মজুত, তাতেই কি সুর নরম ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে ক্ষত তৈরি করেছে, তা কেবল সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি এক কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানির দাম কমার আশ্বাসের বিপরীতে পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এক অভূতপূর্ব জ্বালানি মজুত সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। এই সংকট এখন আর কেবল পাম্পের দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং আসন্ন নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণী নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ছিল বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ ইভেন্ট। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের ১৩ শতাংশ বা দৈনিক ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল বাজার থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে।

ব্রেন্ট ক্রুড বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল থাকলেও ইউরোপীয় ডিজেল বাজারের চিত্র আরও ভয়াবহ। এপ্রিলের শুরুতে রেকর্ড ২০৫ ডলারে পৌঁছানোর পর বর্তমানে এটি ১৬০ ডলারে রয়েছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি।

জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও কার্গো পরিবহনে।

মার্কিন শোধনাগারগুলো বর্তমানে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। একদিকে বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির সংকেত পেয়ে তারা জেট ফুয়েল উৎপাদন ১৮ শতাংশ এবং পেট্রল-ডিজেল উৎপাদন ২ শতাংশ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর চেয়ে বিদেশের সমস্যাগ্রস্ত বাজারে উচ্চ মূল্যে জ্বালানি রপ্তানি করাকেই তারা লাভজনক মনে করছে।

গত ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সপ্তাহে মার্কিন জ্বালানি রপ্তানি রেকর্ড ১৪ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়েছে। এই রপ্তানি উন্মাদনা অভ্যন্তরীণ মজুতকে তলানিতে নিয়ে ঠেকিয়েছে। ইআইএ ডেটা অনুযায়ী, মার্কিন ডিজেল ও হিটিং অয়েলের মজুত বর্তমানে ১০ বছরের গড়ের চেয়ে ২০ শতাংশ নিচে রয়েছে। এটি ২০০৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়।

এই পরিস্থিতিতে আর্থিক বিশ্লেষক সংস্থা মরগান স্ট্যানলি এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের মতে, আগস্টের শেষ নাগাদ মার্কিন পেট্রল মজুত ২০০ মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে যাবে, যা আধুনিক ইতিহাসে গ্রীষ্মকালীন সময়ের জন্য নজিরবিহীন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বিশাল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৩০ ডলার পেট্রল মূল্য নিয়ে নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটারদের মুখোমুখি হওয়া তাঁর প্রশাসনের জন্য কঠিন হবে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে রপ্তানি সীমিত করার কথা ভাবছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি করলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে; মিত্রদেশগুলোর কাছে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ধূলিসাৎ হবে, শোধনাগারগুলোর মুনাফা কমে যাবে, যার ফলে তারা উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রর ‘জ্বালানি আধিপত্য’ একটি দুধারি তলোয়ার। মিত্রদের স্থিতিশীল রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজের দেশের ভোক্তাদের এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলেও এই শূন্য হতে যাওয়া মজুত পূর্ণ করতে কয়েক বছর লাগতে পারে। ফলে উচ্চ মূল্যের এই অভিশাপ হয়তো ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বিশ্ববাসীকে বহন করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ধর্ষক মসজিদের ইমাম নয়, বড় ভাই—ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত

ইলন মাস্কের শুক্রাণু নিয়ে চার সন্তানের জন্ম দেন সহকর্মী জিলিস

অনলাইন জুয়ার দেড় কোটি টাকার ভাগ-বণ্টন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর সরকারি কর্মচারীর আত্মহত্যা

এমএলএ বাগিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা বিরোধীদের, বিজয়ের দলের বিধায়কদের গণপদত্যাগের হুমকি

১২ মে থেকে শপিং মল-দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত