
পারস্য উপসাগরের নীল আকাশে যখন মার্কিন ও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন, ঠিক তখনই দুবাইয়ের তপ্ত রাজপথে বাইক নিয়ে দ্রুতবেগে ছুটে চলছেন এক বাংলাদেশি ডেলিভারি রাইডার। চারপাশে যুদ্ধের সাইরেন আর মানুষের ছোটাছুটি থাকলেও তাঁর থামার কোনো উপায় নেই। কারণ, এক দিন কাজ না করলে তাঁর চুলা জ্বলবে না, আর প্রবাসে অনাহারে থাকা মানেই তিলে তিলে মৃত্যু। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যে কজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় সবাই বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানের স্বল্প আয়ের প্রবাসী শ্রমিক।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে পানি সরবরাহ করার সময় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান ৫৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি শ্রমিক সালেহ আহমেদ। মানবাধিকার সংস্থা ‘ইকুইডেম’-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক ও হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত প্রত্যেক বেসামরিক নাগরিকই দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসী শ্রমিক— যারা অভাব মেটাতে পরবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশই প্রবাসী শ্রমিক। অথচ যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা চরমভাবে উপেক্ষিত। ইকুইডেম-এর নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা কাদরি জানান, এই দেশগুলোতে প্রবাসীরা এক গভীর কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার। প্রথমত, সরকার যখন নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করছে বা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার কথা বলছে, সেই তথ্যগুলো ইংরেজি বা আরবিতে হওয়ায় অনেক শ্রমিক তা বুঝতেই পারছেন না। দ্বিতীয়ত, যখন বিত্তবান ও শ্বেতাঙ্গ নাগরিকেরা তাঁদের ড্রয়িংরুমে বসে খবর দেখছেন বা বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছেন, তখন নির্মাণ শ্রমিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ডেলিভারি রাইডারদের বিপদের একদম মুখেই কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
দুবাই ও আবুধাবিতে কর্মরত ডেলিভারি রাইডারদের কাজের চাপ এখন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। স্থানীয় নাগরিকেরা ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে রাজি নন, ফলে অনলাইনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অর্ডারের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। দুবাইয়ে চার বছর ধরে কর্মরত এক পাকিস্তানি রাইডার বলেন, ‘সবাই ভয়ে থাকলেও আমাদের সাহসের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আমার কোম্পানি আমাকে কেবল ডেলিভারি পিছু টাকা দেয়। কাজ না করলে আমাকে না খেয়ে থাকতে হবে।’ অনেক রাইডার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ডিউটি করছেন, কারণ তাঁরা জানেন এই যুদ্ধের বাজারে কিছু বাড়তি বকশিশ বা টিপস মিলতে পারে।
এদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যে বাহরাইনে ৫ জন পাকিস্তানি এবং একজন বাংলাদেশি শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা ইরানি হামলার প্রশংসা করছিলেন। অথচ মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই প্রবাসীরাই যুদ্ধের মাঠের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী যারা নিজেদের ফোনে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভিডিও ধারণের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেক শ্রমিক না বুঝেই আইনি মারপ্যাঁচে জড়িয়ে পড়ছেন।
কাতার ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে কাজ করা নেপালি বা কেনিয়ান শ্রমিকদের পরিস্থিতি আরও নাজুক। পশ্চিমা দেশগুলো যখন বিশেষ বিমানে করে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে, তখন প্রবাসী শ্রমিকেরা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন। দোহার এক দোকানি শাহীন আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের কোনো মানসিক স্বাস্থ্য বা ট্রমা কাউন্সেলিং নেই। মাথার ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে ১৫ মিনিট আতঙ্কিত থাকা— এটাই এখন আমাদের জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ বাংলাদেশ বা নেপালের মতো দেশগুলোর দূতাবাস থেকেও এখন পর্যন্ত প্রবাসীদের সুরক্ষায় কোনো সুনির্দিষ্ট জরুরি সহায়তা বা প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পারস্য উপসাগরের এই তপ্ত মরুভূমিতে এখন কেবল সাম্রাজ্যের লড়াই বা জ্বালানি যুদ্ধই চলছে না, বরং এর আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের কান্না ও নীরব আর্তনাদ। বৈশ্বিক এই দ্বন্দ্বে প্রবাসীরা কেবল ‘অপরিহার্য শ্রমিক’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের জীবনের মূল্য যেন কারও কাছেই নেই।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত ৯ মে মস্কোতে রাশিয়ার বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি বলেন—ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়টি ‘সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে’ বলে তাঁর বিশ্বাস।
১০ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা আলোচনায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
২০২৪ সালের দমবন্ধ করা গরমে অনুষ্ঠিত ভারতের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির হোঁচট খাওয়া অনেকের কাছেই ইঙ্গিত ছিল যে তাঁর এক দশকের শাসনের অবসান হয়তো সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তিনি আগা আরও এক দশক পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ চীনের সামনে এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা কীভাবে কাজ করে, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছে বেইজিং। একই সঙ্গে এটি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেকোনো যুদ্ধে প্রতিপক্ষও ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
১৮ ঘণ্টা আগে