
২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ভাইরাস ই-মেইলের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে, যার নাম দেওয়া হয় ‘অ্যানা কুর্নিকোভা ভাইরাস’। এটি ছিল এমন একধরনের কম্পিউটার ওয়ার্ম, যা দেখতে আপাত নিরীহ, কিন্তু ওপেন করার সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটার ও ই-মেইল সিস্টেমে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করত।
ভাইরাসটির আসল নাম ছিল ভিবিএস. এসএসটি অ্যাট দ্য রেট এমএম (VBS. SST@mm), তবে এটিকে সবাই অ্যানা কুর্নিকোভা ভাইরাস নামেই চিনত, কারণ, এর সঙ্গে বিখ্যাত টেনিস তারকা অ্যানা কুর্নিকোভার ছবির একটা সংযোগ রয়েছে।
ভাইরাসটি একটি ই-মেইলের মাধ্যমে ছড়াত, যার সাবজেক্ট লাইনে লেখা থাকত ‘হিয়ার ইজ অ্যা পিকচার অব অ্যানা কুর্নিকোভা’ এবং ই-মেইলের সঙ্গে যুক্ত থাকত একটি ফাইল। ওই ফাইলের নাম ছিল অ্যানাকুর্নিকোভা. জেপিজি. ভিবিএস (AnnaKournikova. jpg. vbs)। ফাইলটির শেষে . ভিবিএস থাকলেও অনেকেই ভেবেছিলেন এটি লাস্যময়ী টেনিস তারকা অ্যানা কুর্নিকোভার ছবি। কিন্তু আসলে তা নয়। সেটি ছিল মূলত একটি ‘ম্যাস মেইলিং ওয়ার্ম’, যার কাজ ছিল কেবল নিজেকে ছড়িয়ে দেওয়া। ফাইলটি খুললেই ভাইরাসটি সক্রিয় হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর ই-মেইল ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত সবার কাছে চলে যেত। যে কারণে খুব দ্রুত ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে।
অ্যানা কুর্নিকোভা ভাইরাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, এটি ব্যবহারকারীদের কৌতূহল ও অসেচতনাকে কাজে লাগিয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সামাজিক আচরণ কীভাবে সাইবার হামলার জন্য একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। এই ভাইরাসের সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার ছিল, এটি কোনো ফাইল মুছত না, কোনো তথ্য চুরি করত না, কম্পিউটারকে অকেজোও করত না—কিন্তু এরপরও এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতি করেছিল। কারণ, এটি লাখ লাখ ই-মেইল পাঠিয়ে সার্ভার ও নেটওয়ার্ক জ্যাম করে দিয়েছিল। হাজার হাজার মেইলবক্স অপ্রয়োজনীয় মেইলে ভরে উঠেছিল, ফলে সার্ভার ব্যবস্থাপনা ও কাজের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
২০০১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাত্র কয়েক ঘণ্টায় অ্যানা কুর্নিকোভা ভাইরাসটি তৈরি করেন নেদারল্যান্ডসের এক তরুণ, জান ডে উইট। ভাইরাসটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার কিছু দিন পর তিনি বুঝতে পারেন—তাঁর তৈরি এই ভাইরাস অনেক মানুষকে বিপদে ফেলেছে এবং বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে। তখন তিনি বিষয়টি বাবা-মাকে জানান এবং নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
১৪ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশে নিজের শহর স্নিকে আত্মসমর্পণ করেন উইট। আত্মসমর্পণের পর ডে উইটের প্রোগ্রামিং দক্ষতা দেখে স্নিক শহরের মেয়র সিবোল্ট হার্টকাম্প মুগ্ধ হন এবং তাঁকে একটি চাকরির প্রস্তাব দেন। তবে তা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ছিল না।
ডে উইটের বিচার হয় লেউয়ার্ডেন শহরের আদালতে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ইচ্ছা করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ভাইরাস ছড়িয়ে ক্ষতি করেছেন। এই অপরাধে সর্বোচ্চ চার বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ ডাচ গিল্ডার (প্রায় ৪১ হাজার ডলার) জরিমানার শাস্তি হতে পারত।
তবে ডে উইটের আইনজীবীরা বলেন, ভাইরাসটি তেমন বড় কোনো ক্ষতি করেনি, তাই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করা উচিত। অন্যদিকে এফবিআই আদালতে প্রমাণ দেয় যে, এই ভাইরাসের কারণে প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ডলারের ক্ষতি হয়েছে। আদালতে ডে উইট স্বীকার করেন, তিনি ইন্টারনেট থেকে একটি ওয়ার্ম তৈরি করার সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভাইরাসটি বানিয়েছিলেন এবং একটি গ্রুপে পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি এর প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। কোনো ধরনের ক্ষতি করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না।
শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালের আজকের এই দিনে (২৭ মে) আদালত ডে উইটকে ১৫০ ঘণ্টা সমাজসেবার কাজ (কমিউনিটি সার্ভিস) কিংবা ৭৫ দিনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ডে উইট ১৫০ ঘণ্টার কমিউনিটি সার্ভিস সম্পন্ন করেন, ফলে তাঁকে জেলে যেতে হয়নি।

কবিতা আমাকে ‘হেলাল হাফিজ’ বানিয়েছে। একটা পরিচিতি পেয়েছি। কিন্তু আমার সব সময়ই মনে হয়, সে তুলনায় আমি কিছুই দিতে পারিনি। মাত্র দুটি বই। ভাবো একবার। মাঝেমধ্যে মনে হয় আমি অন্যায় করেছি, নিজের সঙ্গে, পাঠকের সঙ্গে। মাথায় কত কিছু আসছে, কিন্তু লিখতে সাহস হয়নি।
৫ দিন আগে
১৯৩০-এর দশকে প্রাচীন পারস্যের রাজধানী পারসেপোলিসের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা কিছু প্রাচীন মাটির ফলক উদ্ধার করেন। ৫১৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের সেই ফলকগুলোতে রাজকীয় হেঁশেলের প্রয়োজনীয় উপাদানের তালিকা ছিল। সেখানে ছিল ফেসেনজান তৈরির মূল উপকরণগুলোর নামও। এটি আসলে ইরানের একটি বিখ্যাত...
৬ দিন আগে
ভারতবর্ষীয় ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের পরে যখন কৃষকেরা অভ্যুত্থানে যোগ দিলেন, তখন তাঁরা যত কালেক্টরেট, যত তহশিল অফিস—ধ্বংস করেন, নথিপত্র পুড়িয়ে দেন। তাঁদের ধারণা, এই নথিপত্রই ছিল শোষণ করার হাতিয়ার। অত্যাচারের হাতিয়ার। কৃষককে তো আপনি বক্তৃতা দিয়ে শেখাবেন না, তাঁরা জিনিসটা কীভাবে দেখেন, সেটাই আমি বলছি।
১২ দিন আগে
প্রাচীনকালে স্লাভিক অঞ্চলের মানুষ একধরনের বুনো উদ্ভিদের ডাঁটা ও পাতা গেঁজিয়ে একটি টক স্যুপ তৈরি করত। প্রাচীন স্লাভিক ভাষায় এই উদ্ভিদকে ‘বোর্শেভিক’ বলা হতো। এটি থেকে পরবর্তীকালে ইউক্রেনের জাতীয় ও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্যুপ ‘বোর্শ’-এর উৎপত্তি হয়। ষোড়শ শতাব্দীর দিকে ইউক্রেনীয়রা রোমানদের...
১৩ দিন আগে