
রাজধানীর বারিধারায় কূটনৈতিকপাড়ায় ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে পুলিশের কনস্টেবল মনিরুল হককে গুলি করে হত্যা করেছেন তারই সহকর্মী কাওছার আলী। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এ হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা। তবে কাউসারের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, চাকরিরত অবস্থায় প্রায় ১৪ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি সরকারিভাবে হাসপাতালে গিয়ে মানসিক রোগের চিকিৎসাও নিয়েছেন।
কাওছার আলীর বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী দাড়ের পাড়া এলাকায়। আজ রোববার দুপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মানসিক সমস্যা হলে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কম কথা বলতেন। গেল কয়েক দিনও কম যোগাযোগ করেছেন।
বেলা আড়াইটার দিকে সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছেন। তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা যায়নি। বাড়ির ভেতরে মা ও স্ত্রী বসেছিলেন ও তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়াত আলীর মাস্টার অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছেন। কাউসারের দুই ছেলে সন্তানও ছিল বাড়িতে। তারা দুজন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম ও অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।
পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীরা জানান, ২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পুলিশের চাকরিতে যোগদান করেন কাওছার। ২০১০ সালের দিকে প্রথম মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। পরে তাঁকে সরকারিভাবে কয়েকবার পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। চাকরি করা অবস্থায় বেশ কয়েকবার অসুস্থ হলেও চিকিৎসা করানো হয়। তবে পারিবারিকভাবে কোনো সমস্যা ছিল না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
কাউসারের বিষয়ে জানতে তাঁর মা মাবিয়া খাতুনের আজকের পত্রিকা’কে বলেন, ‘আমারা ছেলে এমনিতে খুব ভালো। তার মাথার সমস্যা আছে। সে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে অসুস্থ হয়। তার সঙ্গে আমার গতকাল শনিবার রাত ৮টার শেষ কথা হয়। আমার সঙ্গে ভালোভাবেই কথা বলেছে। মা কেমন আছ, আব্বা কেমন আছে জিজ্ঞেস করে। তবে কয়েক দিন ধরে বাড়িতে একটু কম কথা বলত আমার ছেলে।’
কাওছার মাদকাসক্ত কিনা জানতে চাইলে তার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন সাথি বলেন, তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত; মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়তেন। মাদকের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। চার-পাঁচ দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে কম কথা বলতেন।
নিলুফার আরও বলেন, ‘আমার স্বামী মানসিক রোগে আক্রান্ত। সে মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে যেত। তাকে কয়েকবার পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে। চিকিৎসার কাগজপত্র আমার স্বামীর কাছে আছে। আমাদের পারিবারিকভাবে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে সে মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সঙ্গে কম যোগাযোগ করত এবং কথাও কম বলত। ইদানীং পরিবারের সঙ্গে কথাও কম বলত সে।’
কাউসারের বিষয় জানতে চাইলে তাঁর প্রতিবেশী দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কাওছার চাকরিতে যোগদানের বছর পর থেকে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে তার চিকিৎসা করানোর পরে সুস্থ হলে আবার চাকরিতে যোগদান করেন তিনি।’
এই সম্পর্কিত আরও খবর পড়ুন:

শুক্রবার বিকেলে শিশুটিকে খালি ঘরে রেখে তার মা বাড়ির সামনের মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়েছিলেন। কিছু সময় পর ঘরে এসে দেখেন মেয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে, আর তার নিম্নাঙ্গ থেকে রক্ত ঝরছে। মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
৪ মিনিট আগে
মামলার আসামি সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমানকে ধিক্কার জানিয়ে ইমতিয়াজ বলেন, ‘আমার মাসুম বাচ্চাকে দুধ খাওয়া থেকেও তোমরা বঞ্চিত করেছ। আমার স্ত্রী ওই চেয়ারে বসে এক দিনও শান্তি পায়নি।’
৩৯ মিনিট আগে
ঈদের পর আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে সংগঠনের নাম, আহ্বায়ক কমিটি— যার মাধ্যমে ঢাকায় বসবাসরত মিরসরাই উপজেলার মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করবে।
১ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সময় আলম তাজ একা ছিলেন। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করার ফলে মুখমণ্ডল থেঁতলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি লোহার তৈরি শাবল জব্দ করেছে।
১ ঘণ্টা আগে