বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

সেকশন

 

সিনিয়রদের সুযোগ

দ্বিধায় ভুগতে চায় না বিসিবি

আপডেট : ২২ মে ২০২৩, ১০:৩৪

নাজমুল হাসান পাপন বাংলাদেশে ক্রিকেটে এখন বোধ হয় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বিশ্বকাপ দল। নানা কাটাছেঁড়া চলছে এই দল নিয়ে। যদিও নির্বাচকেরা এত দূর না ভেবে আপাতত আগামী মাসে আফগানিস্তান সিরিজ চোখ রাখছেন। তাতে অবশ্য আলোচনা থামছে না। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে ৭ নম্বর পজিশন। এই পজিশনে যে কজন লড়াইয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নামটাও আছে। 

যদিও টানা কয়েকটি সিরিজে মাহমুদউল্লাহ দলে নেই। তাঁকে দলে নিতে যে বিষয়টি সবার আগে আসছে—তাঁর ফিল্ডিং। একই পজিশনে আলোচনায় থাকা আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেনরা এই জায়গায় ৩৭ বছর বয়সী মাহমুদউল্লাহর চেয়ে এগিয়ে। বয়সের কারণেই হোক কিংবা অন্য কিছু—ফিল্ডিংয়ে এই তরুণদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে থাকছেন মাহমুদউল্লাহ। তাঁকে যদি এখন স্কোয়াডে রাখাও হয়, নিয়মিত একাদশে রাখা কঠিনই। এখানেই প্রশ্নটা উঠছে। স্কোয়াডে থেকে একাদশে না থাকাটা কীভাবে নেবেন মাহমুদউল্লাহ? দৃষ্টি যদি আরেকটু প্রসারিত হয়, সিনিয়র ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে স্কোয়াডে থাকার পর বসিয়ে রাখা কতটা কঠিন? 

প্রশ্নটা মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে হলেও কদিন আগে এই প্রসঙ্গে নাজমুল হাসান পাপন ইতিবাচক একটা বার্তাই দিতে চাইলেন। ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে সাংবাদিকদের বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘ওই মানসিকতা (স্কোয়াডে থাকার পর একাদশে না থাকলে মাহমুদউল্লাহর জন্য অস্বস্তিকর কি না) থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ এ সময় ফিল্ডিংয়ের দিক থেকে মাহমুদউল্লাহ যে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে, সেটাও ফুটে ওঠে পাপনের কথায়। মানসিকতার বদল নিয়ে বিসিবি সভাপতির কণ্ঠে এখন যে দৃঢ়তা, একটা সময় তাঁকেই দ্বিধায় ভুগতে দেখা গেছে। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়ই তিনি বলেছিলেন, ‘একজন সিনিয়র ক্রিকেটার দলে থাকলে তাঁকে আপনি বাদ দেবেন (একাদশে না রাখা) কীভাবে?’ 

সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিয়ে এই দ্বিধা বড় বড় ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। শুধু একাদশে থাকা না থাকা নয়, সিনিয়র ক্রিকেটারদের অবসরসংক্রান্ত বিষয়গুলো এখানে চলে আসে। উপমহাদেশের ক্রিকেটে এই ব্যাপারটা একটু বেশিই ঘটে। মহেন্দ্র সিং ধোনি নিজেকে যেটার সবচেয়ে বড় ‘ভুক্তভোগী’ ভাবতেই পারেন। ২০০৭ সালে দায়িত্ব পেয়ে তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়তে গিয়ে অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে অনেক কঠিন সিদ্ধান্তই নিতে হয়েছে। পরে এসব সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী ফলও পেয়েছে ভারত। তবে এর জন্য তির্যক সমালোচনাও সইতে হয়েছে ভারতের সবচেয়ে সফল অধিনায়ককে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেরা অবস্থানে যেতে বাংলাদেশের মতো দলে অভিজ্ঞ-তরুণ ক্রিকেটারদের এই দ্বিধা বড় বাধা বলে মনে করেন নাজমুল আবেদিন ফাহিম। বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা ফাহিম আজকের পত্রিকাকে বলছিলেন, ‘এখানে অনেকে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, না বলতে পারে না। কিন্তু যারা পেশাদার, তারা এসব বিষয় এভাবে দেখে না। তারা ভাবে, যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে, সে-ই একাদশে থাকবে। কিন্তু আমাদের মানসিকতায় যেহেতু পেশাদারি ব্যাপারটা আসেনি, একটু দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকি। আমরা ভাবি, সিনিয়র কাউকে যদি বসিয়ে রাখি বা না খেলে, ব্যাপারটা সে কীভাবে নেবে? এটা আমাদের সবার মধ্যেই আছে। এগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেরা পর্যায়ে যেতে এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।’ 

বিষয়টি নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের বাইরে যথেষ্ট চিন্তিত হতে হয় নির্বাচকদের। তবে নির্বাচক প্যানেলের সদস্যরা এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে হচ্ছেটা কী

    উন্নতি করতে সুপারিশ আছে, বাস্তবায়ন করে না বিসিবি

    বিসিবির এজিএম কি শুধুই প্রশংসা আর দামি উপহারের

    অস্ট্রেলিয়া সিরিজেই বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু করছে বাংলাদেশ

    স্বাধীনতা দিবসে দেশকে জয় উপহার দিতে চান জামালরা

    তবে কি দ্বিতীয় টেস্টে ফিরছেন সাকিব

    চাঁদপুরে ব্যবস্থাপক নিখোঁজ, পূবালী ব্যাংকের ৮ কর্মকর্তা বদলি

    রাজধানীর মতিঝিলের ফুটপাত থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার

    বায়ুবাহিত রোগ সংক্রমণের নতুন তথ্য দিল ডব্লিউএইচও

    রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের পুকুরে কনস্টেবলের রহস্যজনক মৃত্যু

    সিলেটে প্রবাসী বৃদ্ধাকে হত্যার দায়ে ১ জনের মৃত্যুদণ্ড

    শুক্রবার মঙ্গল প্রার্থনায় শেষ হবে রাখাইনদের জলকেলি উৎসব