বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

সেকশন

 

সিসিক: কারসাজিতে করের বাইরে ছিল দুই হাজার হোল্ডিং

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:১৯

সিসিক: কারসাজিতে করের বাইরে ছিল দুই হাজার হোল্ডিং সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ আয়ের প্রধান উৎস নগরবাসীর দেওয়া হোল্ডিং ট্যাক্স। এই হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়েই ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) রাজস্ব বিভাগের দুই শাখার ছয় কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। অনিয়মের মাধ্যমে তাঁরা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নগরীর প্রায় দুই হাজার হোল্ডিংকে ট্যাক্সের বাইরে রেখেছেন বলে সম্প্রতি করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে। আজকের পত্রিকার অনুসন্ধানেও এসব অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য মিলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজস্ব বিভাগের দুই শাখার কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির ফলে সিসিক ২৬ কোটি ৭৪ লাখ ২ হাজার ১৮১ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৪১টি হোল্ডিংকে করের বাইরে রাখায় ২৪ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ২৪১ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে বিজ্ঞাপন কর আদায় না হওয়ায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬১ হাজার ৯৪০ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সিটি করপোরেশন।

শুধু তা-ই নয়, রাজস্ব আদায় নিয়ে খোদ মেয়রের সঙ্গেও এসব কর্মকর্তা প্রতারণা করেছেন। হোল্ডিং করদাতার নামে ভুয়া আবেদনপত্র তৈরি করে মেয়রকে দিয়ে টাকার পরিমাণ কমিয়েছেন তাঁরা। আবার মেয়রের অনুমোদনের পর ঘষামাজা (ওভার রাইটিং) করে ধার্য করা করের অঙ্ক পরিবর্তনের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন।
এসব অনিয়মের ঘটনায় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের চাপে কমিটির দুই সদস্যকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য হয় সিসিক প্রশাসন। সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় চার মাস সময় নেয় তদন্ত কমিটি। অবশেষে কমিটি গত ১০ জানুয়ারি সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে ১৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তে কর ধার্য শাখায় এসব অনিয়মের সত্যতা মেলায় তৎকালীন প্রধান অ্যাসেসর (বর্তমানে ওএসডি) চন্দন দাশ, সহকারী অ্যাসেসর শেখর দেবনাথ ও আহমদুজ্জামানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অনিয়ম সামনে এল যেভাবে
গত বছরের আগস্টে ১২টি ওয়ার্ডের কয়েক শ বাসিন্দার নামে কর প্রদানের জন্য নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশ পেয়ে কর দিতে এসে তাঁরা দেখেন, তাঁদের অনেকেরই হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া ১০ বছরের বেশি। তখন বিষয়টি নিয়ে করদাতারা মেয়রের কাছে অভিযোগ করেন। মেয়র বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি করে দেন। আর তাতে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ দুর্নীতির এমন চিত্র। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে গত ৭ সেপ্টেম্বর ওএসডি করা হয় কর ধার্য শাখার প্রধান অ্যাসেসর চন্দন দাশ ও কর আদায় শাখার প্রধান মোহাম্মদ রমিজ মিয়াকে। 

জাল আবেদন ও টাকার অঙ্কে ঘষামাজা
সিসিক কর্মকর্তাদের অনিয়মের শিকার সিলেট নগরের আম্বরখানা হাউজিং এস্টেট এলাকায় অবস্থিত এম আহমেদ রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের মালিকানাধীন আর্কেডিয়া টাওয়ার। ২০১৯ সালের ১৯ জুন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান চৌধুরীর নামে মেয়র বরাবর একটি জাল আবেদনপত্র দেওয়া হয় করহার কমানোর জন্য। সেই আবেদন পেয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তিন হাজার টাকা কর পুনর্নির্ধারণ করেন। তবে মেয়রের অনুমোদনের পর নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতিটি হোল্ডিংয়ের ধার্যকৃত টাকার পরিমাণ ‘ওভার রাইটিং’ করে কর আদায় শাখাকে চিঠি দেন সিসিকের কর ধার্য শাখার প্রধান চন্দন দাশ। অথচ সাফওয়ান চৌধুরী এসব বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এমনকি আবেদনে যে স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে, তা-ও তাঁর নয়। ঘটনা জানতে পেরে গত ২১ ডিসেম্বর সিসিক মেয়র বরাবর চিঠি দিয়ে তাঁর স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি অবহিত করেন সাফওয়ান চৌধুরী।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কর ধার্য শাখার প্রধান (বর্তমানে ওএসডি) চন্দন দাশ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কর আদায় করা নয়, ধার্য করা আমার দায়িত্ব। সরাসরি দেখা করে বিষয়টি আপনাকে বুঝিয়ে বলব। ফোনে বোঝানো যাবে না।’

কর আদায় শাখায় অনিয়ম
অনলাইনে কর মওকুফের তথ্য ও আদেশের কপি আপলোড দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়ার পরও কাজে গড়িমসি করেন কর কর্মকর্তা (বর্তমানে ওএসডি) মোহাম্মদ রমিজ মিয়া, সহকারী কর কর্মকর্তা জামিলুর রহমান, মোহাম্মদ মাহবুব আলম, মো. তারা মিয়া। কর কর্মকর্তা মোহাম্মদ রমিজ মিয়া ও কর আদায়কারীদের উদাসীনতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে বিজ্ঞাপন করের ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬১ হাজার ৯৪০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়নি। 
এ বিষয়ে কর কর্মকর্তা (বর্তমানে ওএসডি) মোহাম্মদ রমিজ মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘টেকনিক্যাল কারণে এই সমস্যাগুলো হয়েছে। বিল তৈরির পর সফটওয়্যারে আর কিছুই আপলোড দেওয়া যায় না। বিষয়টি আমরা তদন্ত কমিটিকেও দেখিয়েছি। এটা কর্তৃপক্ষও জানেন।’

দীর্ঘদিন ধরে সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে আছেন মো. মতিউর রহমান খান। রাজস্ব বিভাগের কর ধার্য ও আদায় শাখায় ১০ বছর ধরে চলা অনিয়মের বিষয়ে জানতে মো. মতিউর রহমান খানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদরুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তদন্তের এসব বিষয়ে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি কিছু সুপারিশও করেছে। বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এসব অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দু-তিন দিনের মধ্যে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     

    তিনি নিজাম, তিনিই সব

    রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ: মশা মারতে এখনো হাত মকশো

    বুয়েট শিক্ষার্থীরা দাবিতে অনড়, পরীক্ষা বর্জন

    আইআইইউসির টাকায় সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্রে ভিসি

    রাজউকে আমলাদের রাজত্ব

    উৎসবের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র

    কেনিয়ার প্রতিরক্ষা প্রধান ও শীর্ষ সামরিক কর্তাদের নিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

    উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

    চেয়ারম্যান পদে লড়ার ঘোষণা দিলেন প্রতিমন্ত্রীর ভাই

    ডেমরায় ঈদের ছুটিতে ফাঁকা বাসার ৪ ফ্ল্যাটে দুর্ধর্ষ চুরি

    অন্যের হয়ে জেল খাটার মামলায় দুজনের কারাদণ্ড

    গাইবান্ধায় রেলের চোরাই লোহা বিক্রির সময় আটক ৩

    মানবাধিকারকর্মীর দৃষ্টিতে কতটুকু আধুনিক হলো সৌদি আরব