বসন্ত নিয়ে আসলে কোনো কথা নেই। থাকা উচিত নয়। কারণ, এটা বসন্তকাল। এ কালে মানুষের মনে দোলা লাগে। দোলা লাগলেই অনুরণন তৈরি হয় মনে কিংবা দেহে। এ কালেই ‘বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ’ উড়ে উড়ে আসে, বিমোহিত করে অকারণে।
বসন্ত এলেই মনে পড়ে যায় কিশোর বয়সে শোনা সেই সব ছড়া। সেই যে—
‘গাছের পাতা নড়েচড়ে
তোমার কথা মনে পড়ে।’
কিংবা—
‘তেঁতুল গাছে তেঁতুল ধরে
তেঁতুল বড় টক
তোমার সঙ্গে প্রেম করিতে
আমার বড় শখ।’
অথবা মনে পড়ে—
‘কোথায় পাব কলসি কন্যা
কোথায় পাব দড়ি
তুমি হও গহিন গাঙ
আমি ডুইব্যা মরি।’
কিন্তু বসন্তেই কেন এই অদ্ভুত মানসিক অবস্থা তৈরি হয়, সেটা একটা প্রশ্ন বটে। খুব সম্ভবত দীর্ঘ শীতের পর প্রকৃতি একটু উষ্ণতা নিয়ে আসে। সে উষ্ণতার প্রথম দিনটিতেই বসন্তের শুরু। ফলে এ দিন মানুষ উদ্দীপ্ত থাকে, একে অন্যকে শুভেচ্ছা জানায়, একটু পানভোজন করে, উৎসব করে। এ উৎসবের কারণেই হয়তো মানুষ বসন্তের মাতাল সমীরণে বনে যায়। মূল কথা হলো, শীতের স্যাডিস্ট আবহাওয়া থেকে মানুষ বসন্তেই মুক্তি পায়। তাই তার আনন্দ। কিন্তু বসন্ত শব্দটির অর্থ কী?
কোথাও তার কোনো উত্তর নেই। বসন্ত শব্দটি নিয়ে অনেক কেজি কাগজ ব্যয় করা হলেও তার অর্থ পাওয়া যায় না। প্রায় সবাই তার বৈশিষ্ট্যগত তথ্য দিয়ে গেছেন। এমনকি হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বৈশিষ্ট্যগত তথ্য দিয়েছেন। তবে তিনি একটু এগিয়ে বলেছেন অন্যদের চেয়ে। ‘বঙ্গীয় শব্দকোষে’ বসন্তের অর্থ হিসেবে বলেছেন, ‘যাহাতে কামের বাস।’ আরও বলেছেন, এর অন্য অর্থ হচ্ছে ‘কামসখ’। ‘সুহৃদঃ পশ্য বসন্ত কিং স্থিতম্।’ এই সংস্কৃত বাক্যটি উল্লেখ করে হরিচরণ বোঝাতে চেয়েছেন, বসন্ত শব্দটির যোগাযোগ আছে হৃদয়ের সঙ্গে। তাই এটি ইন্দ্রিয়জাত বা ইন্দ্রিয়জ, কাম উদ্ভূত।
তাই বসন্তের একটি সমার্থক শব্দ কামদেব, যা এই উপমহাদেশে প্রেমের দেবতা। এই দেবতার কাজ মানুষসহ পৃথিবীর প্রাণিজগতে প্রমভাবের জন্ম দেওয়া। সম্মোহন, উন্মাদন, শোষণ, তাপন, স্তম্ভন—এই পাঁচটি শর দিয়ে শোভিত কামদেব। অরবিন্দ, অশোক, আম্র, নবমল্লিকা বা শিরীষ ও নীলোৎপল—এই পাঁচ ফুল পাঁচটি শরের প্রতীক। খেয়াল করলেই দেখবেন, এই ফুলগুলো সব বসন্তকালেই ফোটে।
বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে এবার? বসন্ত শব্দটির অর্থ যাই হোক, এটি প্রেমের ঋতু। ভালোবাসার ঋতু। অর্থ খোঁজার কাজ করুক যাদের দরকার, তারা। আমরা কেবল প্রেমে ভাসে যাই।
আরও পড়ুন:

এপ্রিল মাসের প্রথম দিনটি বিশ্বজুড়ে ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ হিসেবে পরিচিত। এ দিনে অনেকেই কাছের বা পরিচিত মানুষকে বোকা বানিয়ে মজা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এপ্রিলের প্রথম দিনটি কীভাবে বোকা বানানোর দিন হলো? এ নিয়ে মার্কিন সাময়িকী ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
’৭১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ ১০ হাজার টন যুদ্ধসামগ্রী নিয়ে পাকিস্তানি জাহাজ এমভি সোয়াত চট্টগ্রামে এসে পৌঁছায়। সেনাবাহিনীতে চাকরি করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝতে পারি যে, এই জাহাজ পাকিস্তান থেকে রওনা দেওয়ার আগে অন্তত এক মাস সময় লেগেছে বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে, সমরাস্ত্রগুলোকে...
৫ দিন আগে
একটা সময় বিমানবন্দর অফিসার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী। কিন্তু পরে যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মেজর হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন কুষ্টিয়ায়। অপারেশন সার্চলাইটের খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার ঘাঁটিতে পৌঁছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
৬ দিন আগে
একাত্তরের ১৮ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর নাজমুল হককে নওগাঁয় ৭ ইপিআর উইংয়ের অধিনায়ক করে পাঠানো হয়। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যা শুরু হলে পরদিন স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে নওগাঁ মহকুমাকে শত্রুমুক্ত স্বাধীন বাংলার অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি।
১৩ দিন আগে