ইউক্রেন সংকট নিয়ে আসন্ন আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না রাশিয়া। মার্কিন চাপে ইউক্রেন ইস্যুতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে আজ রোববার জানিয়েছে মস্কো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন সংকট ও নিরাপত্তা ইস্যুতে পশ্চিমাদের কাছ থেকে নিশ্চয়তা আদায়ের ব্যাপারে চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় কোনো ছাড় দেবে না মস্কো। মস্কোর এই কঠোর অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার সম্ভাব্য ফল নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
তিন দশক আগে স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবারই। এর আগে ক্রিমিয়া দখল নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও তা বেশি দূর গড়ায়নি। কিন্তু এবার ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সেনা মোতায়েন নিয়ে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগের সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে কাজাখস্তানে বিক্ষোভ দমনে দেশটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে মস্কোর সেনা প্রেরণ বড় ধরনের উদ্বেগের সূচনা করে। এই অবস্থায় মস্কোর দিক থেকে এমন কঠোর অবস্থান আগে থেকে জানিয়ে দেওয়াটাকে সহজভাবে নিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা।
বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যে রুশ-মার্কিন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে কয়েক ধাপে। এর মধ্যে জেনেভা, ব্রাসেলস ও ভিয়েনাতে দুই দেশের মুখোমুখি বসার কথা। কিন্তু রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রেবকোভকে উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এমন যে, প্রথম ধাপের আলোচনার পরই আলোচনা থেমে যেতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘এটাই হবে এমন বলছি না। কিন্তু সম্ভাব্য পরিস্থিতি এমন হতে পারে। তাই আমেরিকানদের এ বিষয়ে কোনো ভ্রম থাকা উচিত নয়।’
সের্গেই রেবকোভ বলেন, ‘আসন্ন আলোচনার আগে পশ্চিমা দেশগুলোর তরফ থেকে যে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এ সম্পর্কিত কোনো চাপের কারণে আমরা কোনো ধরনের ছাড় দেব না।’
আগামীকাল সোমবার জেনেভায় রুশ পক্ষের নেতৃত্ব সের্গেই রেবকোভ দেবেন বলে জানিয়েছে আরেক সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স। ইন্টারফ্যাক্সে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, রুশ পক্ষ আলোচনা নিয়ে আশাবাদী নয়। রেবকোভ বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৬২ সালে কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যখন গোটা বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখলের আট বছর পর রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্তে লাখখানেক সেনা মোতায়েন করেছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে কিয়েভ ও ওয়াশিংটন দেখছে যুদ্ধের বার্তা হিসেবে। যদিও রাশিয়া কোনো ধরনের যুদ্ধ পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। তারা এর ব্যাখ্যা হিসেবে বলছে, ন্যাটো ও ইউক্রেনের দিক থেকে উসকানিমূলক আচরণের প্রত্যুত্তরেই তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।
অবশ্য এই বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। গত সপ্তাহে এ সম্পর্কিত এক বক্তব্যে ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘এটা অনেকটা সেই শেয়ালের মতো কথা হলো, যে বলছে মুরগির ঘরে থাকা বাসিন্দাদের দিক থেকে আসা হুমকি মোকাবিলার জন্যই সেখানে তার হামলা করতে হয়েছে।’
বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে গতকাল শনিবার হোয়াইট হাউসের দেওয়া বক্তব্য। ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে জানালেও বাজে কিছু হলে রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
ইউক্রেন আক্রমণ করলে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে সংকটে পড়তে হবে বলে আগেই ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শনিবার আরও কড়া নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দেয় হোয়াইট হাউস। এতে শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের কথা উল্লেখ করা হয়।
এর মধ্যেই সোমবার জেনেভায় বৈঠক যাচ্ছে দুই দেশের। এতে এ অঞ্চলে সামরিক মহড়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে ন্যাটোর সদস্য দেশে মার্কিন সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে আলোচনা করতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
জেনেভায় বৈঠকের পর ব্রাসেলস এবং ভিয়েনায় আলোচনা করবেন শীর্ষ নেতারা। তবে ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ঐক্য আনতে পারবে কি-না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, এমন কিছু ক্ষেত্র আছে, যেখানে আমরা মনে করি অগ্রগতি করা সম্ভব হতে পারে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিবি নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈরুতে কোনো সেনা যাবে না। যেসব সেনা সেখানে যাওয়ার পথে ছিল, তাদেরও ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
৫ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তিনি লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সংগঠনটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনের অভিযোগে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ফ্রান্স। ‘ট্যাগর’ নামের জাহাজটি রাশিয়ার একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। গত কয়েক মাসে এটি তৃতীয়বারের মতো কোনো নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের ঘটনা।
১১ ঘণ্টা আগে
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। আজ সোমবার দেশটির আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে...
১২ ঘণ্টা আগে