Ajker Patrika

কীভাবে সমুদ্রে বেমালুম হাওয়া হয়ে গেল ৫৩০ রোহিঙ্গা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ২১: ৪০
কীভাবে সমুদ্রে বেমালুম হাওয়া হয়ে গেল ৫৩০ রোহিঙ্গা
ছবি: এএফপি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে মানব পাচারকারীদের নৌকায় পাড়ি দেওয়া অন্তত ৫৩০ রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থী প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। মানবাধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরে নৌকা দুটি ডুবে গেছে। যদি এই আশঙ্কা সত্যি হয়, তবে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ রোহিঙ্গা সমুদ্র ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হবে।

তথ্যানুসারে, গত ২৯ জুন রাখাইনের সিন টেট মাও এলাকা থেকে দুটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। একটি সকালে এবং অন্যটি সন্ধ্যায় রওনা হয়। পুরোনো মাছ ধরার ট্রলারকে রূপান্তর করে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের জন্য ব্যবহার করা এসব নৌকা বর্ষাকালের উত্তাল সাগর পাড়ি দেওয়ার মতো নিরাপদ ছিল না। দুর্বল ইঞ্জিন ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যাত্রার শুরু থেকেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল প্রবল।

রাখাইন প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লেওয়া বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মিলিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন, নৌকা দুটি সত্যিই যাত্রা করেছিল। তবে চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইনে প্রায় সব ধরনের টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। সাধারণত যাত্রার এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে থাকেন। কিন্তু প্রায় তিন সপ্তাহ পার হলেও কোনো যোগাযোগ হয়নি।

বাংলাদেশ উপকূলে এক রোহিঙ্গা নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলেও জেলেরা আরও কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখেছেন। এসব ঘটনার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, একটি নৌকা যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এবং অন্যটি কয়েক দিন পর সাগরে ডুবে যায়।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। কমে আসছে আন্তর্জাতিক সহায়তা, নেই কর্মসংস্থানের সুযোগ, অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্যও বাড়ছে। অন্যদিকে রাখাইনে থাকা প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গার জীবনও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। সামরিক জান্তার জোরপূর্বক নিয়োগ, সংঘাত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

এই বাস্তবতায় মালয়েশিয়া পৌঁছানোই অনেক রোহিঙ্গার শেষ আশার প্রতীক। সেখানে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করায় মানবপাচারকারীরা বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াজুড়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। জনপ্রতি প্রায় সাড়ে তিন থেকে পৌনে চার লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থ নিয়ে তারা বিপজ্জনক সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের পাঠায়। অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটে।

ক্রিস লেওয়ার হিসাবে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গা নৌকায় করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ছেড়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ যাতায়াতের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানালেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশ এখন পর্যন্ত সেই দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে নিপীড়ন থেকে বাঁচতে সমুদ্রপথে জীবন বাজি রাখাই অনেক রোহিঙ্গার কাছে একমাত্র বিকল্প হয়ে উঠেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত