
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীর এস এস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকদের বের হতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জোর করে বেরিয়ে আসা শ্রমিকেরা বলছেন, কারখানার মালিক আকরামের ছেলে এবং দারোয়ান আগুন লাগার পরও শ্রমিকদের ভেতরে আটকে রাখেন। এ সময় অনেকেই জোর করে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচান। তবে কয়েকজন ভেতরে আটকা পড়েন।
আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের ওই ঘটনায় কারখানা থেকে বেরিয়ে আসা মিমের বয়স ১১ বছর। সে জানায়, আগুন লাগার পর মালিক ও দারোয়ান তাদের বের হতে মানা করেন। এরপরও সে জোর করে দারোয়ানকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে ঘটনার পর আতঙ্কিত মিম কাঁদছিল এবং তার বাবা জাহিদ ও মাকে খুঁজে বেড়ায়। তার মা-বাবা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, তা সে জানে না। তার দাদি হাজেরাও এই কারখানায় ছিলেন। তাঁকেও সে খুঁজে পাচ্ছে না।
মিম জানায়, কারখানায় প্রায় ৭০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। আগুন লাগার পর অধিকাংশ শ্রমিক বের হয়ে গেলেও সাত থেকে আটজন বের হতে পারেননি।
এদিক আগুন লাগার পর কারখানার ভেতরে থাকা শ্রমিকদের বের হতে নিষেধ করা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী মিমসহ অনেকে। এ সময় অনেক শ্রমিক তাঁদের কথা অমান্য করে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে যাঁরা মালিকপক্ষের কথায় বিশ্বাস করেন বা তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিলেন, তাঁরা বের হতে পারেননি।
অভিযোগের বিষয়ে মালিক আকরামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করার খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কারখানার ভেতর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
বিকেলে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, বেলা ১টা ১৩ মিনিটে কদমতলীর ওই গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় একে একে সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণের কাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার ফাইটাররা।