
ইটের সোলিং করা রাস্তার পাশে আধা পাকা বাড়ির উঠানে মাদুরে বসে আছে ২০ থেকে ২২ জন কিশোরী। তাদের বাল্যবিবাহের কুফল ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে বোঝাচ্ছিল অন্য কিশোরী নুসরাত জাহান। সে বলছিল, ‘আমি ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু আমার যদি বাল্যকালে বিয়ে হয়, তাহলে এ ইচ্ছা হাঁড়ি-পাতিলে রান্নার চুলায় পুড়ে কয়লা হবে।’ বাড়িটি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের মোহিনীকাটি গ্রামে। এ গ্রামেই বাড়ি নুসরাতের। সে রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। নুসরাত কিশোরীদের নিয়ে গঠিত গ্রামভিত্তিক ‘স্বপ্নসারথি’ দলের সদস্য।
একই গ্রামের কিশোরী বেজিয়াতলা আলিম মাদ্রাসার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া খাতুন। তিনিও উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, এই উঠান বৈঠকে খেলার মাধ্যমে সুন্দর আচার-আচরণ শেখা, ইংরেজি ও কম্পিউটার শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনসহ মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বিষয়টি কিশোরীদের স্বপ্নসারথি হয়ে কাজ করছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌমিতা খাতুনের মা পারুল আক্তার মেয়ের সঙ্গে উঠান বৈঠকে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘উঠান বৈঠকে আমার মেয়ে অনেক কিছু জেনেছে। বিশেষ করে বাল্যবিবাহের কুফল, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে যে জ্ঞান অর্জন করেছে, যা তার ব্যক্তি, পারিবারিক ও সমাজজীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মেয়ে এখন বাল্যবিবাহ রোধে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তা ছাড়া, অভিভাবক গ্রুপের সঙ্গে ত্রৈমাসিক সভায় আমাকেও ডাকা হয়। সেসব সভায় অভিভাবকদেরও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতন করা হয়।’
উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তরুনা বেগম। তিনি পানিসারা ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। তিনি বলেন, ৮ মাস ধরে এই উঠান বৈঠকের কারণে এই গ্রামে কোনো বাল্যবিবাহ হয়নি। কিছুদিন আগে একজন ঘটক গ্রামে এসেছিলেন। তাঁকে এই কিশোরীরা সাফ জানিয়ে দেন, বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় স্বপ্নসারথি দলের কিশোরীদের জীবন-দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত করে বাল্যবিবাহের হার কমানোর উদ্দেশ্যে এ উঠান বৈঠক করা হয়। ঝিকরগাছা উপজেলার ১০ গ্রামে এ রকম দল রয়েছে। প্রতিটি দলে রয়েছে ২৫ জন করে কিশোরী। তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর। কর্মসূচির উপজেলা কর্মকর্তা (সেলপ) প্রশান্ত সাহা জানান, প্রতি মাসে স্বপ্নসারথি দল নিয়ে উঠান বৈঠক করা হয়। সেখানে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতন করাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বনে জ্ঞান দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ উপজেলায় ৫০ জন করে ১০টি অভিভাবক দল ও ১৫ জন করে ১০টি কমিউনিটি ওয়াচ দল রয়েছে।
ব্র্যাকের এই কর্মসূচির খুলনা অঞ্চলের জোনাল ম্যানেজার প্রশান্ত কুমার দে বলেন, স্বপ্নসারথি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহ রোধের জন্য ১৮ বছরের নিচে বিয়ে না করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে এ সদস্যদের আত্মপ্রত্যয়ী করা হচ্ছে। খুলনা বিভাগের ২৭৬টি ইউনিয়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৭০০টি করে স্বপ্নসারথি, অভিভাবক দল ও কমিউনিটি ওয়াচ দল রয়েছে। এ ছাড়া ৭০টি গণনাট্য দলের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে গ্রামভিত্তিক গণনাটক দেখানো হচ্ছে। কিছু এলাকায় প্রকল্পের আওতায় বিনা মূল্যে স্যানিটেশন ও শিক্ষাসামগ্রী দেওয়া হয়।

ইটের সোলিং করা রাস্তার পাশে আধা পাকা বাড়ির উঠানে মাদুরে বসে আছে ২০ থেকে ২২ জন কিশোরী। তাদের বাল্যবিবাহের কুফল ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে বোঝাচ্ছিল অন্য কিশোরী নুসরাত জাহান। সে বলছিল, ‘আমি ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু আমার যদি বাল্যকালে বিয়ে হয়, তাহলে এ ইচ্ছা হাঁড়ি-পাতিলে রান্নার চুলায় পুড়ে কয়লা হবে।’ বাড়িটি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের মোহিনীকাটি গ্রামে। এ গ্রামেই বাড়ি নুসরাতের। সে রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। নুসরাত কিশোরীদের নিয়ে গঠিত গ্রামভিত্তিক ‘স্বপ্নসারথি’ দলের সদস্য।
একই গ্রামের কিশোরী বেজিয়াতলা আলিম মাদ্রাসার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া খাতুন। তিনিও উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, এই উঠান বৈঠকে খেলার মাধ্যমে সুন্দর আচার-আচরণ শেখা, ইংরেজি ও কম্পিউটার শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনসহ মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বিষয়টি কিশোরীদের স্বপ্নসারথি হয়ে কাজ করছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌমিতা খাতুনের মা পারুল আক্তার মেয়ের সঙ্গে উঠান বৈঠকে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘উঠান বৈঠকে আমার মেয়ে অনেক কিছু জেনেছে। বিশেষ করে বাল্যবিবাহের কুফল, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে যে জ্ঞান অর্জন করেছে, যা তার ব্যক্তি, পারিবারিক ও সমাজজীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মেয়ে এখন বাল্যবিবাহ রোধে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তা ছাড়া, অভিভাবক গ্রুপের সঙ্গে ত্রৈমাসিক সভায় আমাকেও ডাকা হয়। সেসব সভায় অভিভাবকদেরও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতন করা হয়।’
উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তরুনা বেগম। তিনি পানিসারা ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। তিনি বলেন, ৮ মাস ধরে এই উঠান বৈঠকের কারণে এই গ্রামে কোনো বাল্যবিবাহ হয়নি। কিছুদিন আগে একজন ঘটক গ্রামে এসেছিলেন। তাঁকে এই কিশোরীরা সাফ জানিয়ে দেন, বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় স্বপ্নসারথি দলের কিশোরীদের জীবন-দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত করে বাল্যবিবাহের হার কমানোর উদ্দেশ্যে এ উঠান বৈঠক করা হয়। ঝিকরগাছা উপজেলার ১০ গ্রামে এ রকম দল রয়েছে। প্রতিটি দলে রয়েছে ২৫ জন করে কিশোরী। তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর। কর্মসূচির উপজেলা কর্মকর্তা (সেলপ) প্রশান্ত সাহা জানান, প্রতি মাসে স্বপ্নসারথি দল নিয়ে উঠান বৈঠক করা হয়। সেখানে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতন করাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বনে জ্ঞান দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ উপজেলায় ৫০ জন করে ১০টি অভিভাবক দল ও ১৫ জন করে ১০টি কমিউনিটি ওয়াচ দল রয়েছে।
ব্র্যাকের এই কর্মসূচির খুলনা অঞ্চলের জোনাল ম্যানেজার প্রশান্ত কুমার দে বলেন, স্বপ্নসারথি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহ রোধের জন্য ১৮ বছরের নিচে বিয়ে না করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে এ সদস্যদের আত্মপ্রত্যয়ী করা হচ্ছে। খুলনা বিভাগের ২৭৬টি ইউনিয়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৭০০টি করে স্বপ্নসারথি, অভিভাবক দল ও কমিউনিটি ওয়াচ দল রয়েছে। এ ছাড়া ৭০টি গণনাট্য দলের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে গ্রামভিত্তিক গণনাটক দেখানো হচ্ছে। কিছু এলাকায় প্রকল্পের আওতায় বিনা মূল্যে স্যানিটেশন ও শিক্ষাসামগ্রী দেওয়া হয়।

যে সন্তান উত্তরাধিকারীর আগে মারা যান, তাঁর সন্তানেরা প্রতিনিধি হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে অংশ পান, ঠিক যেভাবে তাঁদের পিতা বা মাতা জীবিত থাকলে পেতেন।
৬ দিন আগে
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং সুবর্ণচর। নিশ্চয় সবার মনে আছে, সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যার গ্রামের ঘটনার কথা। সেই ঘটনাকে উইকিপিডিয়ায় লিখে রাখা হয়েছে ‘সুবর্ণচর গৃহবধূ গণধর্ষণ’ শিরোনামে। বাকিটা নিশ্চয় মনে করতে পারবেন।
৬ দিন আগে
খেমাররুজ পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য বা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য না থেকেও থিরিথ ছিলেন পার্টির প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী। পল পটের শাসনামলে কাম্পুচিয়ায় সংঘটিত হয় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। ফলে দেশটির প্রায় ২০ লাখ মানুষ অনাহারে, চিকিৎসার অভাবে, অতিরিক্ত পরিশ্রমে...
৬ দিন আগে
আগামীকাল নতুন একটি বছর শুরু করতে যাচ্ছে পৃথিবী। ২০২৫ সালকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরে সবারই প্রত্যাশা থাকছে ইতিবাচক কিছুর। তবে পেছনে ফিরে তাকালে গত বছরটি নারী অধিকার এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে রেখে গেছে এক মিশ্র অভিজ্ঞতা। ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দেখা গেছে পরিকল্পনা...
১৩ দিন আগে