
ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোলেস্তান। সেখানে বসবাস করেন মারভে পোরকাজ। পেশায় তিনি হেয়ারড্রেসার। সম্প্রতি বাড়ির কাছে বোমা বিস্ফোরিত হলে ভীত পোরকাজ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ৩২ বছর বয়সী পোরকাজ জানান, তিনি প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পার্বত্য সীমান্তে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি তুরস্কের শহর ভ্যানে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার আশা করছেন। এখানে অপেক্ষারত অবস্থায় তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘যদি তারা আমাকে অনুমতি দেয়, তাহলে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি ভ্যানেই থাকব। যদি যুদ্ধ শেষ না হয়, তাহলে হয়তো আমি ফিরে গিয়ে মারা যাব।’
পোরকাজ সেই ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মানুষের একজন, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা যাদের এই চলমান যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা করছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের কেউ ইরানের নিরাপদ অঞ্চলে কিংবা প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় খুঁজছেন। আবার কেউ বিদেশ থেকে ফিরে আসছেন—নিজেদের পরিবার ও ঘরবাড়ি রক্ষা করার জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁদের এই ফিরে আসা আসলে যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়ারই নামান্তর।
রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট জেরেমি কোনিনডিক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি রূপ নেয়, বিশেষ করে যদি ইরানের ভেতরে অভ্যন্তরীণ সংঘাত শুরু হয়, তাহলে মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে অবনতির দিকে যেতে পারে।’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ফিলিস্তিনি নারীদের মতো ইরানের নারীরাও কি দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকটে পড়তে যাচ্ছেন—এই প্রশ্ন এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি দ্রুত সেদিকে এগোচ্ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতে এরই মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তবে এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর বড় অংশই নারী ও শিশু, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যারা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে পড়েছে।
ইউরোপিয়ান পলিসি সেন্টারের (ইপিসি) ওয়েবসাইটে ইউরোপীয় ডাইভারসিটি অ্যান্ড মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান এবং একজন জ্যেষ্ঠ নীতিবিশ্লেষক আলবার্তো হর্স্ট নাইডহার্টের একটি নিবন্ধ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। ওই নিবন্ধে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইরানে যদি দীর্ঘ মেয়াদে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ঘটে, তাহলে ইউরোপের দিকে শরণার্থীর ঢল নামবে।
দ্রুত বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
সংঘাতের প্রথম সপ্তাহে প্রায় ৮ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবিক সাহায্য সংস্থা। যুদ্ধ তীব্র হওয়ার কারণে অনেকে রাজধানী তেহরানসহ বড় শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চল বা সীমান্তের দিকের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি ফিলিস্তিন কিংবা সিরিয়ার যুদ্ধের শুরুর পর্যায়ের সঙ্গে তুলনীয়, যেখানে দ্রুত বাস্তুচ্যুতি-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকটে রূপ নিয়েছিল।
নারীদের ওপর বহুমাত্রিক প্রভাব
বাস্তুচ্যুতি নারীদের জন্য শুধু আশ্রয় হারানোর বিষয় নয়; এটি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদার সংকটও তৈরি করে।
প্রথমত, যুদ্ধাবস্থার কারণে ইরানে স্বাস্থ্যঝুঁকি খুবই মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের কারণে দেশটির একাধিক হাসপাতাল খালি করে দিতে হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও চাপে রয়েছে। গর্ভবতী ও নবজাতকদের জন্য এটি বিশেষভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
দ্বিতীয়ত হলো নিরাপত্তা সংকট। যুদ্ধের সময় আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা অস্থায়ী বসতিতে নারীরা প্রায়ই লৈঙ্গিক ভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকে; যা ফিলিস্তিন এবং অন্যান্য সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
তৃতীয়ত হলো সামাজিক কাঠামোর ভাঙন। পুরুষ সদস্য নিহত, আহত কিংবা যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে নারীদের ওপর পরিবারের দায়িত্ব চেপে বসে। ফলে তারা একই সঙ্গে শরণার্থী, উপার্জনকারী এবং অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হয়। এই অবস্থা একই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক রোগে ভোগা খুব সাধারণ বিষয়।
সংঘাতের সরাসরি মানবিক মূল্য
সংঘাতে নারী হতাহতের ঘটনাও কম নয়। আগের সংঘাতগুলোতে শতাধিক নারী নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার মাত্রা নির্দেশ করে।
এ ছাড়া কারাগার ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনাও নারীদের ঝুঁকি বাড়িয়েছে; যেখানে নারী বন্দী ও অধিকারকর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সম্ভাব্য শরণার্থী সংকট
বর্তমানে ইরানের ভেতর বাস্তুচ্যুতি বেশি হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। এরই মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলো সম্ভাব্য শরণার্থী ঢলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এটি নতুন শরণার্থী সংকটে রূপ নিতে পারে।
এখানেই ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইরানের মিল বেশ স্পষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী দখল ও সংঘাত যেমন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ফিলিস্তিনি নারীদের শরণার্থী জীবনে ঠেলে দিয়েছে, তেমনি ইরানেও দীর্ঘ সংঘাত সেই বাস্তবতা তৈরির পথ প্রশস্ত করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি এখনো প্রাথমিক সংকটের পর্যায়ে থাকলেও এর গতি ব্যাপক উদ্বেগজনক। পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তুচ্যুতির ঘটনা এরই মধ্যে লাখ ছাড়িয়ে মিলিয়নে পৌঁছেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ইরানের নারীরাও ফিলিস্তিনি নারীদের মতো দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতার চক্রে আটকে পড়তে পারে।
সূত্র: ইপিসি, এপিনিউজ ডট কম, রয়টার্স

নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরের বহেরাতলী গ্রামের এক টিলার ওপর ইতিহাসের পিদিম হয়ে বেঁচে ছিলেন এক নারী। তাঁর নাম কুমুদিনী হাজং। ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ তিনি মারা যান। তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে আমরা হারিয়েছি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও ঐতিহাসিক টংক আন্দোলনের এক কিংবদন্তি নেত্রীকে।
৩ ঘণ্টা আগে
এলিস মরিসনকে বলা হয় নারী ইন্ডিয়ানা জোন্স। তিনি একজন ব্রিটিশ অভিযাত্রী, লেখক এবং টিভি উপস্থাপক। মধ্যবয়সে এসে তিনি নিজের স্থিতিশীল করপোরেট জীবন ছেড়ে অজানার উদ্দেশে পা বাড়িয়েছেন। ৫ বছর বয়সে উগান্ডার পাহাড়ে সাপ তাড়িয়ে বেড়ানো শিশুটি...
৪ ঘণ্টা আগে
আমার চারপাশের সফল মানুষদের দেখলে নিজেকে নিয়ে খুবই হতাশ লাগে। আমার পরিবারকে অনেক কিছু দিয়ে ভরিয়ে তুলতে পারি না। এটা কেউ হয়তো আমাকে মুখের ওপর বলে না, কিন্তু তা আমি অনুভব করি। বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি চলে এসেছি। কিন্তু বাবা-মাকে চাইলেই ছোটখাটো কিছু দিতে পারি...
৫ ঘণ্টা আগে
২৩ মার্চ বিশ্ব আবহাওয়া দিবস। আবহাওয়াবিষয়ক কাজ নিয়ে আলোচনায় অন্যতম নাম ফ্লোরেন্স ভ্যান স্ট্র্যাটেন। তিনি ছিলেন একজন মার্কিন আবহাওয়াবিদ এবং মার্কিন নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান
৫ ঘণ্টা আগে