Ajker Patrika

বিশ্বে মিথেন গ্যাসের ভয়াবহ ‘মেগা-লিক’ উন্মোচিত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ২২: ৪৯
বিশ্বে মিথেন গ্যাসের ভয়াবহ ‘মেগা-লিক’ উন্মোচিত
তুর্কমিনিস্তানে মিথেন গ্যাসের একটি মেঘপুঞ্জের স্যাটেলাইট চিত্র। এখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় ১৮ টন গ্যাস নির্গত হচ্ছে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিথেন গ্যাস নিঃসরণের ঘটনাগুলো স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ‘স্টপ মিথেন প্রজেক্ট’-এর এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো থেকে বের হওয়া বিপুল মিথেন প্লুম জলবায়ুর ওপর ভয়াবহ উষ্ণায়ন প্রভাব ফেলছে। অথচ এর অনেকগুলোই সামান্য রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সহজেই বন্ধ করা সম্ভব।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গবেষণায় কয়েক ডজন ‘মেগা-লিক’ শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর প্রত্যেকটির প্রভাব একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমান। বিশ্লেষকদের মতে, অনেক সহজ সমাধান থাকার পরও এসব লিক বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া ‘ক্ষুব্ধ হওয়ার মতো’ বিষয়। কারণ মিথেন গ্যাসই মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস, যা সংগ্রহ করে বিক্রি করা সম্ভব—অর্থাৎ লিক বন্ধ করা অনেক ক্ষেত্রে বিনা খরচেই সম্ভব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—বিশ্বজুড়ে এসব লিক দেখা গেলেও তালিকার শীর্ষ ২৫ টির বেশির ভাগই তুর্কমিনিস্তানে অবস্থিত। দেশটির মিথেন নিঃসরণের পরিমাণ আগেই ‘চোখ কপালে তোলার মতো’ বলে বর্ণনা করা হয়েছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা এবং ইরানেও একাধিক বড় লিক শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সবচেয়ে বড় লিকটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫.৫ টন মিথেন নিঃসরণ করছে, যা প্রায় ১০ লাখ এসইউভি গাড়ির নির্গমনের সমতুল্য।

শুধু তেল-গ্যাস নয়, বর্জ্য ফেলানোর স্থানগুলো থেকেও বিপুল মিথেন নিঃসরণ হচ্ছে। তুরস্ক, আলজেরিয়া, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে এমন দূষণ দেখা গেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রায় ২৫ শতাংশের জন্য দায়ী মিথেন গ্যাস। ২০০৭ সালের পর থেকে এর নিঃসরণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে এটি ভয়াবহ জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে আশার দিক হলো—কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় মিথেন দ্রুত বায়ুমণ্ডল থেকে অপসারিত হয়। তাই এর নিঃসরণ কমালে দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া সম্ভব। এ জন্য একে জলবায়ু সংকটের ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ বলা হচ্ছে।

গবেষকেরা বলছেন, আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এখন এই অদৃশ্য দূষণকে দৃশ্যমান করেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশ ও কোম্পানিগুলোর ওপর জবাবদিহি বাড়ানো এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দুই বছরের কন্যাকে নিয়ে ২৩ তলা থেকে বাবার ঝাঁপ, দুজনেরই মৃত্যু

সব লঞ্চার ‘ধ্বংসের’ পরও এত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে ছুড়ছে ইরান, আর কত অবশিষ্ট

ইরান এতগুলো দেশে হামলা চালাবে ভাবিনি, আমরা হতবাক: ট্রাম্প

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বিলিয়ন ডলারের রণতরিতে ৩০ ঘণ্টা ধরে আগুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত