বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস

বিশ্বজুড়ে খেলার মাঠের খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যে সাংবাদিকেরা দিনরাত পরিশ্রম করেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২ জুলাই পালন করা হয় বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস। একসময় ক্রীড়া সাংবাদিকতার জগতে শুধু পুরুষদেরই একচেটিয়া অধিকার ছিল। ধীরে ধীরে সেই অধিকারে ভাগ বসিয়েছেন নারীরাও। আর তাতে নারী সাংবাদিকদের জন্য উন্মোচিত হয়েছে নতুন দিগন্ত। এ যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আমেরিকান ক্রীড়া সাংবাদিকতার জীবন্ত কিংবদন্তি লেসলি ভিসার। প্রেস বক্সের ‘নিষিদ্ধ’ দেয়াল ভাঙা ক্রীড়া সাংবাদিক ছিলেন তিনি।
ষাটের দশকে যখন লেসলি বড় হচ্ছিলেন, সমাজে তখন নারীদের কর্মক্ষেত্র ছিল মূলত তিনটি পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেগুলো হলো শিক্ষক, নার্স এবং গৃহিণী। ছোট্ট লেসলি তাঁর মাকে বলেছিলেন, তিনি একজন ‘স্পোর্টস রাইটার’ হতে চান। সে সময়কার বাস্তবতায় তা ছিল চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখার মতোই অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার। কিন্তু লেসলির মা অন্য মায়েদের মতো মেয়ের স্বপ্নকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেননি; বরং মেয়ের পিঠে হাত দিয়ে বলেছিলেন, ‘মাঝে মাঝে যেখানে ডোন্ট ওয়াক বা হাঁটা নিষেধ লেখা থাকে, রাস্তা পার হওয়ার জন্য সেখানেই পা বাড়াতে হয়।’ মায়ের এই একটি বাক্যই লেসলির জীবনের মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছিল।

১৯৭৪ সালে কার্নেগি ফাউন্ডেশনের একটি বিশেষ স্কলারশিপের সাহায্যে মাত্র ২০ বছর বয়সে ‘দ্য বোস্টন গ্লোব’ পত্রিকার স্পোর্টস ডেস্কে যোগ দেন লেসলি। এর কিছুদিন পর তিনি নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টস দলের নিয়মিত ‘বিট রিপোর্টার’ হিসেবে নিয়োগ পান। এটি ছিল আমেরিকান ফুটবলের ইতিহাসে কোনো নারীর জন্য প্রথম ঘটনা।
সে সময় স্টেডিয়ামের প্রেস বক্সে প্রবেশপত্রের ওপর স্পষ্ট লেখা থাকত, ‘প্রেস বক্সে নারী ও শিশুদের প্রবেশ নিষেধ’। এমনকি পুরুষ সাংবাদিকদের জন্য তৈরি সেই প্রেস বক্সে নারীদের টয়লেট পর্যন্ত ছিল না। একটি সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে লেসলি বলেছিলেন, ‘খেলার মাঝে যখন প্যাট্রিয়টস দল বল নিয়ে মাঠের ২০ গজ দূরে থাকত, তখন আমি লিফট দিয়ে নিচে নেমে, মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উসাইন বোল্টের মতো দৌড়ে পাবলিক টয়লেটে যেতাম। আর মনে মনে প্রার্থনা করতাম, ওরা যেন আবার পান্ট করার আগেই আমি প্রেস বক্সে ফিরে আসতে পারি!’
শুধু তা-ই নয়, আশির দশকের আগে খেলোয়াড়দের লকার রুমে নারীদের ঢোকার অনুমতি ছিল না। তাই পুরুষ সহকর্মীরা যখন লকার রুমে বসে সাক্ষাৎকার নিতেন, লেসলিকে তখন হাড়কাঁপানো শীতে স্টেডিয়ামের পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়দের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু কোনো বৈষম্যই তাঁর খেলার প্রতি নিখাদ ভালোবাসাকে দমাতে পারেনি।
বোস্টন গ্লোবের ডেস্কে ১৪ বছর দাপটের সঙ্গে কাজ করার পর লেসলি পা রাখেন টেলিভিশনের দুনিয়ায়। প্রথমে সিবিএস এবং পরে এবিসি স্পোর্টসে। এরপর তাঁর ক্যারিয়ারের খাতাটি শুধু ‘প্রথম’ শব্দে ভরে উঠতে থাকে। তিনি বিশ্বের একমাত্র ক্রীড়া সাংবাদিক, যিনি একাধারে সুপার বোল, ওয়ার্ল্ড সিরিজ, এনবিএ ফাইনাল, অলিম্পিক গেমস, ট্রিপল ক্রাউন এবং ওয়ার্ল্ড ফিগার স্কেটিং চ্যাম্পিয়নশিপের মতো পৃথিবীর সব কটি মেগা ইভেন্টের নেটওয়ার্ক ব্রডকাস্টে কাজ করেছেন। ১৯৯২ সালের সুপার বোলে প্রথম নারী হিসেবে বিশ্বখ্যাত ‘লোমবার্ডি ট্রফি’ উপস্থাপনার গৌরব অর্জন করেন তিনি। প্রথম নারী হিসেবে অলিম্পিকের মশাল বহন করা কিংবা প্রথম নারী হিসেবে ‘প্রো ফুটবল হল অব ফেম’-এ জায়গা করে নেওয়া,—সব ক্ষেত্রে প্রথম নামটা ছিল লেসলি ভিসার।
সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথচলায় লেসলিকে বহুবার পুরুষ খেলোয়াড়, কোচ বা দর্শকদের অবজ্ঞার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিংবদন্তি বাস্কেটবল কোচ বব নাইট একবার প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলনে লেসলির এক প্রশ্নের জবাবে খিটখিটে মেজাজে অপমান করে বলেছিলেন, ‘আমরা ওদের চেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েছি, যা বোধ হয় আপনারা মিডিয়ার লোকেরা বোঝেন না।’ লেসলি দমে না গিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে স্রেফ হাসিমুখে জবাব দিয়েছিলেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন।’ তাঁর এই তাৎক্ষণিক রসবোধ আর ব্যক্তিত্ব পুরো প্রেস রুমে হাততালির ঝড় তুলেছিল। বিখ্যাত লেখিকা নোরা এফ্রনের একটি লাইন লেসলি সব সময় মেনে চলতেন, ‘যা তোমাকে মেরে ফেলে না, তা তোমাকে আরও রসিক করে তোলে।’
আজকের দিনে হাজার হাজার নারী ক্রীড়া সাংবাদিকতায় আসছেন। তাঁদের কেউ ধারাভাষ্য দিচ্ছেন, অনুসন্ধানী সংবাদ তৈরি করছেন কেউ কেউ, বিশ্লেষণও করছেন অনেকে। জীবনের দীর্ঘ পথচলা থেকে তরুণ সাংবাদিকদের জন্য তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন লেসলি, প্যাশন বা খেলার প্রতি ভালোবাসা, নলেজ বা গভীর জ্ঞান এবং স্ট্যামিনা অর্থাৎ টিকে থাকার শক্তি। তাঁর মতে, জ্ঞান হলো এমন এক অস্ত্র, যা আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
সূত্র: স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং হল অব ফেম, দ্য এসপিজে নিউজ

১৫০৭ সালে ক্যাথরিন অব অ্যারগন স্পেনের দূত হয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখেন। এরপর ১৫২৯ সালে ফ্রান্সের লুই অব স্যাভয় এবং অস্ট্রিয়ার মার্গারেট মিলে ইতিহাসের বিখ্যাত ‘লা পেক্স দেস দামেস’ বা নারীদের শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তখন পর্যন্ত বিশ্বরাজনীতিতে ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটি’ শব্দটির জন্ম হয়নি।
৮ দিন আগে
আমি একজন উদ্যোক্তা। ছয় বছর ধরে রেজিনের পণ্য তৈরি ও বিপণন করছি। পণ্যের ডিজাইন নিজেই করি। সেগুলো কীভাবে কপিরাইট করে নিতে পারি?
৮ দিন আগে
বিশ্বকাপ ফুটবলে (পুরুষ) সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছুঁয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। কিন্তু জানেন কি, কার রেকর্ড ভাঙলেন তিনি? নারী ও পুরুষ ফুটবলারদের মধ্যে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করা প্রথম ফুটবলার ব্রাজিলিয়ান মার্তা ভিয়েরা দা সিলভা। ২০০৩, ২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপে
৮ দিন আগে
বিশ শতকের সর্বশেষ নোবেল বিজয়ী মারিয়া গোয়েপার্ট মায়ার। তিনি জার্মান বংশোদ্ভূত এক আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী। নোবেলজয়ী এই পদার্থবিজ্ঞানীর গবেষণার মূল ভিত্তি ছিল পরমাণু।
৮ দিন আগে