বিশ্বকাপ ফুটবলে (পুরুষ) সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছুঁয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। কিন্তু জানেন কি, কার রেকর্ড ভাঙলেন তিনি? নারী ও পুরুষ ফুটবলারদের মধ্যে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করা প্রথম ফুটবলার ব্রাজিলিয়ান মার্তা ভিয়েরা দা সিলভা। ২০০৩, ২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১৭টি গোলের রেকর্ড তাঁর ঝুলিতে। চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলে সেই রেকর্ড ভাঙলেন মেসি। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে তিনি করলেন মোট ১৮টি গোল। মেসিকে বলা হয় এই গ্রহের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও পরিশ্রমী খেলোয়াড়। তাঁর অসাধারণ ড্রিবলিং এবং দক্ষতা মুগ্ধ করেছে ফুটবলের রাজা পেলেকেও। খোদ পেলে তাঁকে আদর করে ‘স্কার্ট পরা পেলে’ উপাধি দিয়েছিলেন।
ব্রাজিলের চরম দারিদ্র্যপীড়িত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অ্যালাগোয়াস। যেখানে সাক্ষরতার হার তলানিতে, আর শিশুমৃত্যুর হার আকাশচুম্বী। সেই অঞ্চলের এক ছোট্ট শহর দোইস রিয়াচোসের ফুটপাত থেকে উঠে এসেছেন মার্তা। জন্মের পরপরই তাঁর বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যান। মা তেরেজা আর বড় ভাই হোসের হাত ধরে চরম অভাবের সংসারে ফুটবল খেলাই ছিল তাঁর একমাত্র আনন্দ।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে ঘর ছাড়েন মার্তা। তাঁর বাড়ি থেকে টানা দুই দিন বাসযাত্রা করার পর পৌঁছান রিও ডি জেনিরোতে। যোগ দেন ‘ভাস্কো দা গামা’ ক্লাবে। ২০০২ সালে ক্লাবটি নারী দল বন্ধ করে দেয়, কিন্তু মার্তাকে থামানো যায়নি।
১৬ বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপে ৬ গোল করে এবং জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে নিজের জাত চেনান বাঁ পায়ের এই জাদুকর।
নারী ফুটবলের ‘পেলে’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া মার্তা প্রথম নজরে পড়েন ব্রাজিলের বিখ্যাত নারী ফুটবল কোচ হেলেনা পাচেকোরের। তাঁর পরিচর্যাতেই নিজের ফুটবল খেলার দক্ষতা দিয়ে পাড়ার ছেলেদের নাস্তানাবুদ করে দেওয়া সেই ১৪ বছরের মার্তা একসময় আন্তর্জাতিক ডি-বক্সে প্রতিপক্ষের ত্রাস হয়ে ওঠে।

২০০৪ ও ২০০৮ সালে মার্তার পারফরম্যান্সের সুবাদে অলিম্পিকে রৌপ্যপদক অর্জন করে ব্রাজিল। ২০০৭ সালে ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে চীনে প্রথম নারী বিশ্বকাপ খেলেন মার্তা। সেই আসরে ৭ গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলেও পেয়েছেন সাফল্য তিনি। ২০০৪-২০০৮ সাল পর্যন্ত সুইডেনের উমেয়া আইকে দলের হয়ে ১০৩ ম্যাচে গোল করেছেন ২১০টি! তাঁকে নিয়ে ২০০৫-এ ‘মার্তা, পেলে’স কাজিন’ নামে এক তথ্যচিত্র তৈরি করেছিল সুইডিশ টেলিভিশন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে মার্তা করেন ৪টি গোল। প্যান আমেরিকান গেমসে দুবার জিতেছেন সোনা। এই সময়েই ২০০৬-২০১০ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ফিফার বর্ষসেরা নারী ফুটবলারের সম্মান পেয়ে গেছেন। ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে চীনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা পাঁচটি অলিম্পিক গেমসে গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। ২০১৯ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়ের পর ক্যামেরার সামনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ব্রাজিলের তরুণীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘শুরুতে কাঁদলে তবেই শেষে হাসতে পারবে, নারী ফুটবলকে মূল্যায়ন করো।’
মার্তার অনন্য ফুটবলীয় নান্দনিকতাকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২৪ সালে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ‘ফিফা মার্তা অ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন করে। নারী ফুটবলে সমতা এবং লৈঙ্গিক বৈষম্য দূর করতে ‘গো ইকুয়্যাল’ নামে নিজস্ব স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড চালু করেন মার্তা। ২০১০-২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি ইউএনডিপির গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি প্রথম লাতিন আমেরিকান হিসেবে ইউএন উইমেন গুডউইল অ্যাম্বাসেডর নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি খেলাধুলায় নারীর সমতা ও তাদের অধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব মার্তা ভিয়েরা দা সিলভাকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার একজন বিশেষ আইনজীবী হিসেবেও নিযুক্ত করেন।

আমি একজন উদ্যোক্তা। ছয় বছর ধরে রেজিনের পণ্য তৈরি ও বিপণন করছি। পণ্যের ডিজাইন নিজেই করি। সেগুলো কীভাবে কপিরাইট করে নিতে পারি?
১ ঘণ্টা আগে
বিশ শতকের সর্বশেষ নোবেল বিজয়ী মারিয়া গোয়েপার্ট মায়ার। তিনি জার্মান বংশোদ্ভূত এক আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী। নোবেলজয়ী এই পদার্থবিজ্ঞানীর গবেষণার মূল ভিত্তি ছিল পরমাণু।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। আজ রোববার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এক...
২ দিন আগে
নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতা অর্জনে প্রণীত জেন্ডার বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়মিত মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির মতে, বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও তা কেবল পরিসংখ্যানগত অর্জনে সীমাবদ্ধ না থেকে নারীদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে হবে।
৬ দিন আগে