Ajker Patrika

ডিজিটাল মাধ্যমে নারীবিদ্বেষ মোকাবিলায় চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ডিজিটাল মাধ্যমে নারীবিদ্বেষ মোকাবিলায় চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান ঘৃণা-বিদ্বেষ, সহিংসতা ও সাইবার হয়রানি মোকাবিলায় চলচ্চিত্র নির্মাতা, উদ্যোক্তা এবং নারী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীবিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল কনটেন্ট নির্মাণে জোর দিতে হবে।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচার ও সহিংসতা মোকাবিলায় চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া চলচ্চিত্র নির্মাতারা বলেন, চলচ্চিত্র শিল্প এখনো অনেকাংশে পুরুষকেন্দ্রিক। নারীর বাস্তব জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প পর্যাপ্ত ভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে না। নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য এখনো নানা সামাজিক ও পেশাগত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তাদের বিকাশে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও সহায়ক পরিবেশ প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, এক সময় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে সহিংসতার ধরন আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই অপব্যবহার ও বিদ্বেষমূলক আচরণ বাড়ছে। সাইবার সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কনটেন্ট দেশব্যাপী প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বা বৈষম্যের বিষয়গুলো চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে। শুধু সমস্যার চিত্র নয়, প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়া নারীদের ইতিবাচক অবদানও তুলে ধরা জরুরি। একই সঙ্গে ঢাকা-কেন্দ্রিক কার্যক্রমের বাইরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সচেতনতা কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তাঁরা।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমাজে সাম্প্রতিক সময়ে হত্যা, নারীবিদ্বেষ ও ঘৃণামূলক আচরণ বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও আগের চেয়ে অনেক বেশি। তাই নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে এবং বিদ্বেষ মোকাবিলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। এ লক্ষ্যে নারী আন্দোলন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করা হলেও বর্তমান বাস্তবতায় সমাজ অনেক ক্ষেত্রে উল্টো দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এই অবস্থায় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃষ্টিশীলতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও নারীবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, পরিবার, সমাজ, বিনোদন জগৎ ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে নারীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নারী সংগঠন ও চলচ্চিত্রকারদের যৌথ উদ্যোগে ইতিবাচক মূল্যবোধভিত্তিক সামাজিক পুনঃ শিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে যে কোনো বার্তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে। তাই নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও ইতিবাচক সামাজিক মনোভাব তৈরিতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

সভায় চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার, মেহজাদ গালিব, শবনম ফেরদৌসী, ঝুমুর আসমা জুঁই, ফাহাদুল হক, শাহীনূর আখতার, চৈতালী সমাদ্দার, ফরিদ আহমেদসহ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা ও সদস্যরা অংশ নেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত