Ajker Patrika

আমার কাছে ইরান প্রসঙ্গে ‘বেশ কিছু ভালো খবর’ আছে: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আমার কাছে ইরান প্রসঙ্গে ‘বেশ কিছু ভালো খবর’ আছে: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝেই স্বস্তিদায়ক ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ সাত সপ্তাহ পর আজ শনিবার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের ট্যাংকারের একটি বড় বহর সফলভাবে পার হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের এমন বড় ধরনের চলাচল দেখা গেল।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিক-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে চারটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-বাহী জাহাজ এবং বেশ কিছু রাসায়নিক ও জ্বালানি পণ্যবাহী ট্যাংকারের একটি বহর লারাক দ্বীপের দক্ষিণ দিক দিয়ে ইরানি জলসীমা অতিক্রম করেছে। এই বহরটিকে অনুসরণ করে পারস্য উপসাগর থেকে আরও বেশ কিছু ট্যাংকার যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে সাংবাদিকদের জানান, ইরান প্রসঙ্গে তাঁর কাছে ‘বেশ কিছু ভালো খবর’ আছে। তবে সেই সুসংবাদটি ঠিক কী, তা তিনি বিস্তারিত খোলসা করেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আমরা এই সপ্তাহান্তেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছি।’

তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প একটি কঠোর আল্টিমেটামও দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগামী বুধবারের মধ্যে যদি কোনো দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তবে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। তিনি আরও যোগ করেন, ‘সবকিছুর ঊর্ধ্বে একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।’

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে: ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজকে এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া চলাচলকারী সব জাহাজকে অবশ্যই ইরানি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

মার্কিন নৌ-অবরোধ চলতে থাকলে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

শান্তি আলোচনার মূল অন্তরায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই মজুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাফ জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই এই ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।

অপরদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় তেহরানে তিন দিনের আলোচনা শেষ হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে, যা পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ার বাজারগুলোতেও বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। ব্রিটেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এক ডজনেরও বেশি দেশ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা দিতে একটি আন্তর্জাতিক মিশনে যোগ দিতে আগ্রহী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত