কলা খেতে কে না চায়! পাকা হলে খোসা ছাড়িয়ে তদনগদ মুখে পুরে দেওয়া যায়। আর কাঁচা হলেও সমস্যা নেই খুব একটা। ওই একটু প্রক্রিয়াজাত করে খেতে হবে আর কি! কিন্তু চড়-থাপ্পড় মারার পর কেউ যদি আপনাকে জোর করে কলা খাওয়াতে চায়, তবে?
অনেকটা গরু মেরে জুতা দানের মতো বিষয়টা। দুনিয়াটাই তো ওই প্রক্রিয়াতে চলছে। সুতরাং প্রিয় মাতৃভূমিই বা ব্যতিক্রম থাকবে কেন? তাই মার খাওয়ানোর পর অন্য কিছু খাওয়ানোর ব্যাপারে এ অঞ্চলেও আগ্রহ বাড়ছে। এবং তা ক্রমবর্ধমান। এই যেমন নাটোরে যা হলো। এমন যদি দেশের নানা আনাচে-কানাচে ঘটতে শুরু করে, তাহলে কী হবে, সেটি কিন্তু ভেবে দেখার সময় এসেছে।
নাটোরে কী হয়েছে, তার নাতিদীর্ঘ বর্ণনা দেওয়া যাক। বেশি দীর্ঘ হবে না বিবরণ, সর্বোচ্চ সাগর কলার মতো হতে পারে।
সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ডামাডোলে গত বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর বাজারে নাটকীয় এক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ওই দিন সকালে জামনগর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুসের নির্বাচনী প্রচারে বাগাতিপাড়ায় যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেনসহ কয়েকজন। এ সময় জামনগর বাজারে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলমের প্রচার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁর দুই কর্মী মাহাবুর রহমান ও আহম্মদ আলী। তখন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেনের উপস্থিতিতে কয়েকজন মাহাবুর রহমানকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে চড়-থাপ্পড় দিয়ে ধরে আনেন। এর পর সভাপতি তাঁকে থাপ্পড় মেরে হাতে থাকা কলা জোর করে মাহাবুবের মুখে গুঁজে দেন। সেই সঙ্গে নৌকা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করতেও বাধ্য করা হয় তাঁকে।
বুঝুন অবস্থা। মারও খেতে হবে, আবার কলাও গিলতে হবে। তেলের সঙ্গে কোলেস্টরল ফ্রিয়ের মতো আবার নিজের মার্কা বাদ দিয়ে অন্যের মার্কার লিফলেট বিলি করতে হবে। বেশ নাটকীয় ব্যাপার-স্যাপার। এর সঙ্গে ওই ‘দানবীর’ ও ‘দয়াশীল’ ব্যক্তি যদি হালি কয়েক কলা দিয়েও দিতেন, তবে মন্দ হতো না। ষোলোকলা পূর্ণ হতো একেবারে।
কলা বেশ উপকারী খাদ্য। তা নিয়ে সংশয় নেই। পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, কলায় আছে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ম্যাংগানিজ, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, প্রোটিন ও ফ্যাট। আবার কলা নাকি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টেরও আধার। অর্থাৎ, কলা খাইয়ে ওই ‘ভদ্রলোক’ শারীরিক ক্ষতি করেননি। যদিও ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে পারেন এই বলে যে, কলার আগে তো থাপ্পড় ছিল। আর মাথার পেছনে হাত দিয়ে জোর করে কলা মুখে গুঁজে দিলে সেই স্বাদ ও গন্ধ পাওয়া যায় না। হতে পারে। তবে এভাবে হাত চালিয়ে কজনই-বা কলা খাওয়ায়!
এখন কেউ যদি কলা খেতে চান, তবে নাটোর চলে যেতেই পারেন। কারণ, এমন ফ্রিতে কলা কি আর যেখানে-সেখানে মেলে? সমস্যা হলো, প্রথমে ওই সুনির্দিষ্ট মার্কার আপাতবিরোধী আচরণ করতে হবে। তখনই মুখের ভেতরে জোর করে গুঁজে দেওয়া হবে কলা। এর আগের একটু ‘আদর’ (মতান্তরে মারধর) একটু নাহয় সহ্য করলেনই। ফ্রি কলা খাবেন, অথচ কলার খোসা ছাড়াবেন না—তা কি হয়? সুতরাং সুবিধা পেতে চাইলে, অসুবিধা একটু মাথা পেতে নিতেই হবে।
সুখের কথা হলো, দেশে এখন বাড়ছে সাগর কলার আবাদ। পঞ্চগড় থেকে এমন খবর মাস কয়েক আগেই পাওয়া গেছে। সেই কলা রংপুর বিভাগ পেরিয়ে নাটোর আসতেই আর কয় দিন! হয়তো সেই অধ্যাপকের কলার বাগান আছে। নইলে কি আর কেউ এভাবে কলা বিলিয়ে দেয়!
সে যাকগে। আসল কথা হলো, ওভাবে জোর করে কলা আমাদের অনেকেই খাওয়ায়। কিন্তু তার বাহ্যিক রূপ সব সময় কলার মতো অবিকল হয় না। নানা রূপে অমন কলা ফিরে ফিরে আসে মোদের জীবনে। আমরা কলা দেখে যাই, খেয়ে যাই। কিন্তু কর্তৃপক্ষকে আর কাঁচকলা দেখাতে পারি না।
তাই কলা খেয়েও আমাদের পেট-মন কিছুই ভরে না। আমরা বারবার বুদ্ধু বনে যাই। আর দিন শেষে রাগ ওঠে এই ভেবে যে, ‘সে আমাকে জোর করে কলা খাওয়াল কেন?’ যদিও কলা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের হম্বিতম্বি দেখে ফের চুপসে যাই।
তখন ভাবি, কলাই তো খাইয়েছে, অন্য কিছু তো নয়। কলা থেকে যদি মন্দ কিছু না হয়, তবে কলাই ভালো!

কখনো কখনো জীবনের কিছু গল্প শুনলে মনে হয়ে যেন সিনেমার কাহিনী। অবশ্য সিনেমাগুলো বাস্তবের ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় বেশির ভাগ সময়ই। কিন্তু বাস্তবতা কখনো কল্পনাকেও হার মানিয়ে দেয়। আর এমনই এক সিনেমাটিক জীবন মিনা ও মিনাল নামে দুই বান্ধবীর কিংবা বলা হয় দুই বোনের।
৫ ঘণ্টা আগে
নোবেল পুরস্কারের কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন। মানবজাতির জন্য অসাধারণ কাজ করা বিজ্ঞানীদের দেওয়া হয় এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। তবে এর কিছুটা অদ্ভুত স্বভাবের এক ‘ভাই’ আছে, যার নাম ‘ইগ নোবেল’ পুরস্কার। এই পুরস্কার দেওয়া হয় এমন গবেষণাকে, যা ‘প্রথমে মানুষকে হাসায়, তারপর ভাবতে বাধ্য করে।’
৪ দিন আগেগোসলের সময় প্রস্রাব করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর কারণ শুধু এই নয় যে, এতে এক ধরনের মুক্তি বা বিদ্রোহী রোমাঞ্চ অনুভূত হতে পারে। বরং গোসলের সময় প্রস্রাব করলে সামান্য হলেও পৃথিবীর পানিসম্পদ রক্ষা করা সম্ভব। বিষয়টি একটু হিসাব করে দেখা যাক।
৪ দিন আগে
মাটির স্বাস্থ্য কতটা ভালো, তা বোঝার জন্য অদ্ভুত এক পদ্ধতি বেছে নিয়েছিলেন সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা। দেশটির বিভিন্ন বাগান, তৃণভূমি, কৃষিজমি ও লনে দুই হাজারের বেশি জোড়া তুলার অন্তর্বাস পুঁতে রাখা হয়েছিল। দুই মাস পর সেগুলো তুলে পরীক্ষা করে মাটির জীববৈচিত্র্য ও জৈবিক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।
১২ দিন আগে