স্লোভাকিয়ার ফুটবল ক্লাব টিজে তাতরান চিয়েরনি বালোগ তাদের স্টেডিয়ামটিকে নিয়ে গর্ব করতেই পারে। কারণ এর ভেতর দিয়ে চলে গেছে একটি রেলওয়ে ট্র্যাক। এখানেই শেষ নয়, ওই রেললাইনে রেলগাড়িও চলে।
স্লোভাকিয়ার ছোট্ট এক শহর চিয়েরনি বালোগ। জনসংখ্যা ৫ হাজারের একটু বেশি। এমনিতে এর প্রতি খুব একটা আগ্রহ ছিল না বাইরের মানুষের। মোটামুটি বছর আটেক আগে হঠাৎ করেই পর্যটক টানতে শুরু করে শহরটি। এর গোটা কৃতিত্বই ওই ফুটবল স্টেডিয়াম এবং এর ভেতর দিয়ে যাওয়া রেল ট্র্যাকের।
২০১৫ সালে স্টেডিয়ামের ভেতর দিয়ে একটি স্টিম বা বাষ্পীয় ইঞ্জিন চলে যাওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর মাঠের মাঝখান দিয়ে রেললাইন ধরে চলে যাচ্ছে একটি ট্রেন। এ সময় ট্রেনের কারণে খেলা দেখায় বাধা পড়ায় দর্শকদের অনেককে মাথা উঁচু করে ফেলতে দেখা যায়। বলা যায়, এরপরই প্রথম ইউরোপসহ বিশ্ববাসীর নজর কেড়ে নেয় স্টেডিয়ামটি।
এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই ঘটনা কি কালেভদ্রে ঘটে, নাকি নিয়ম করেই একটি ট্রেন স্টেডিয়ামের ভেতর দিয়ে চলে যায়। অদ্ভুত শোনালেও দ্বিতীয়টি সত্যি। চিয়েরনোহরনস্কা রেলওয়ের রেলট্র্যাক কেটে গেছে স্টেডিয়ামটিকে, আর গোটা গ্রীষ্মজুড়ে নিয়ম করে প্রতিদিন একটি বাষ্পীয় ইঞ্জিনের রেলগাড়ি ভেতর দিয়ে যায়।
এবার চিয়েরনোহরনস্কা রেলওয়ের বিষয়ে টুকটাক কিছু তথ্য জেনে নিই। ১৯০৯ সালে চিয়েরনি বালোগ ও হরোনেকের মাধ্যমে কাঠবোঝাই মালগাড়ি চলাচল শুরু হয়। বিশ শতকের মাঝামাঝিতে রেলট্র্যাক সম্প্রসারিত করা হয়, জঙ্গল থেকে কাঠ বয়ে নিয়ে আসার জন্য। ১৯২৭ সালে চিয়েরনি বালোগ ও হরোনেকের মধ্যে যাত্রী পরিবহন শুরু করে ট্রেনটি। ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকে। ১৯৮২ সালে রেলওয়েটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে তখন জাতীয় হেরিটেজ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয় একে।
চিয়েরনি বালোগ স্টেডিয়ামটি তৈরি হয় ১৯৮০-এর দশকের কোনো এক সময়। যখন পুরোনো রেলওয়েটি চালু ছিল না। তবে এ জায়গাটিই কেন পৌর কর্তৃপক্ষ স্টেডিয়াম তৈরির জন্য বেছে নিল তা পরিষ্কার নয়। তবে গোটা একটি দশকজুড়ে স্টেডিয়ামের ভেতর দিয়ে চলা রেললাইনটি কেবল সৌন্দর্যবর্ধনকারী হিসেবেই ছিল। অবস্থার পরিবর্তন ঘটে ১৯৯০-এর দশকে, যখন স্লোভাকিয়ার কিছু উৎসাহী ব্যক্তি রেলট্র্যাকের সংস্কার শুরু করেন। ১৯৯২ সালে পর্যটকদের জন্য হেরিটেজ রেলওয়ে হিসেবে পুনরায় চালু হয় রেলওয়েটি। রেললাইনটির ১৭ কিলোমিটার এখন চালু আছে। শাতিমেশ থেকে চলে ভিতরোভো পর্যন্ত। মাঝখানে পড়ে চিয়েরনি বালোগ, হরোনেক আর স্টেডিয়ামটি।
গ্রীষ্মে পর্যটকেরা লোয়ার তাতরাস পর্বতমালার অসাধারণ দৃশ্য দেখতে পারেন ট্রেনটিতে চেপে। সেই সঙ্গে এ যুগেও বাষ্পীয় ইঞ্জিনচালিত ট্রেনে চড়া আর স্টেডিয়াম কেটে চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তো আছেই।
ধারণা করা হয়, দুনিয়ায় এটি একমাত্র রেললাইন, যেটি একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে। ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের ওয়াল্ডেনবার্গ রেলওয়ে থেকে কিছু বগি ও ইঞ্জিন সংগ্রহ করা হয় এই রেলওয়ের জন্য।
একটি ফুটবল খেলা চলাকালীন বাষ্পীয় ইঞ্জিনচালিত ট্রেন স্টেডিয়ামের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখাটা আসলেই আশ্চর্য এক অভিজ্ঞতা। খেলোয়াড়রা ট্রেন এবং এর শক্তিশালী বাঁশির শব্দকে থোরাই কেয়ার করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এদিকে গ্যালারিতে বসা দর্শকদের কেউ কেউ ট্রেনের যাত্রীদের দিকে হাত নাড়েন, কেউবা খেলায় মনোযোগ দিতে মাথা উঁচু করেন কিংবা উঠে দাঁড়ান। কাজেই পাঠক, আগামী ইউরোপ সফরে স্লোভাকিয়ার এই আশ্চর্য স্টেডিয়াম, যার ভেতর দিয়ে ট্রেন চলে আপনার ‘অবশ্যই দেখা’র তালিকা থেকে বাদ পড়বে না আশা করি।
সূত্র: অডিটি সেন্ট্রাল, উইকিপিডিয়া

ইউরোপে অদ্ভুত এই চুরির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গয়না বা টাকা নয়, এবার চুরি হয়েছে বিপুল পরিমাণ চকলেট। গত সপ্তাহে ইতালির একটি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে পোল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি ট্রাক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। ট্রাকটিতে ছিল প্রায় ১২ টন ওজনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি কিটক্যাট বার।
৫ দিন আগে
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে এই আসরের। এরপর ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে।
৬ দিন আগে
ইতালিতে এক ভিন্নধর্মী ‘স্পাইডার-ম্যান’ এখন মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি কোনো সিনেমার চরিত্র নন, বরং বাস্তব জীবনের এক মানবিক নায়ক। ৩২ বছর বয়সী ম্যাটিয়া ভিলারদিতা পেশায় একজন ডক শ্রমিক। তবে অবসর সময়ে তিনি স্পাইডার-ম্যানের পোশাক পরে অসুস্থ শিশুদের মুখে হাসি ফোটান।
৬ দিন আগে
শিশুদের খেলনার মধ্যে গাড়ি থাকবেই। বাইক, জিপ, প্রাইভেট কার, রেসিং কার, ট্রাক—একেক শিশুর পছন্দের তালিকায় থাকে একেক গাড়ি। তবে এসবের সবগুলোই কিন্তু খেলনা। তবে চীনের এক শিশু এই খেলনা গাড়ির গণ্ডি পেরিয়ে আসল গাড়িতে মজেছে এক বছর বয়সেই। আর সাত বছর বয়সের মধ্যেই হয়ে গেছে পেশাদার কার রেসার।
৭ দিন আগে