Ajker Patrika

পুরুষকণ্ঠ শুনতে পাচ্ছেন না এক তরুণী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ১৫: ২১
পুরুষকণ্ঠ শুনতে পাচ্ছেন না এক তরুণী
পুরুষের কথা শুনতে পাচ্ছিলেন না এক তরুণী। ছবি: এআই দিয়ে বানানো।

সকালে ঘুম থেকে উঠলেন। প্রতিদিনকার মতো একের পর এক কাজ গুছিয়ে নিচ্ছেন। এমন সময় আপনার প্রিয়জন বারবার ডাকছেন কিন্তু আপনি তাঁর কোনো শব্দই শুনতে পাচ্ছেন না। পরে কাছে এসে আপনার সামনে এসে দাঁড়িয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। জানতে চাইলেন, হঠাৎ কি হলো যে কোনো উত্তর দিচ্ছেন না। কোনো কারণে রাগ বা অভিমান হলো কি না। কিন্তু আপনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও শুনতে পাচ্ছেন না তাঁর কথা। আকার-ইঙ্গিত দেখছেন, তাঁর ঠোঁট নড়ছে কিন্তু কোনো কথাই শুনতে পাচ্ছেন না। এমন সময়, আপনার হেল্পিং হ্যান্ড নারীটি এসে ডাক দিল, তখন আপনি তাঁর কথা ঠিকই শুনতে পেলেন। ভাবুন তো কি ভীতিকর অবস্থা!

এমনই এক অবস্থায় পড়েন চীনের শিয়ামেন শহরের এক তরুণী। একদিন সকালে উঠে তিনি এই অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। ধাতস্থ হয়ে খেয়াল করে দেখলেন, শুধু তাঁর প্রিয়জন নয়, তিনি কোনো পুরুষকণ্ঠই শুনতে পাচ্ছেন না। ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, হঠাৎ এই শ্রবণ সমস্যার পেছনের কারণ হলো ‘রিভার্স স্লোপ হিয়ারিং লস’ নামক এক বিরল রোগ।

সাধারণত শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার অর্থ হলো আমরা হাই-ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ শুনতে পাই না। কিন্তু এই তরুণীর ক্ষেত্রে ঘটেছিল ঠিক উল্টোটা। তিনি কেবল নিম্ন-কম্পাঙ্কের বা লো-ফ্রিকোয়েন্সির শব্দগুলো শোনার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন।

আর পুরুষদের কণ্ঠস্বর সাধারণত গম্ভীর বা লো-ফ্রিকোয়েন্সির হয়ে থাকে, তাই তিনি তাঁর প্রিয়জনের কণ্ঠ একদমই শুনতে পাচ্ছিলেন না। মজার ব্যাপার হলো, উচ্চ-কম্পাঙ্কের বা হাই-ফ্রিকোয়েন্সির শব্দগুলো তিনি ঠিকই শুনতে পাচ্ছিলেন। অর্থাৎ, কোনো নারী বা শিশুর চিকন কণ্ঠস্বর ঠিকই শুনতে পাচ্ছিলেন।

চিকিৎসকরা যখন শ্রবণশক্তি পরিমাপের জন্য অডিওগ্রাম তৈরি করেন, তখন সাধারণ রোগীদের ক্ষেত্রে গ্রাফের রেখাটি নিচের দিকে নেমে যায়। কিন্তু এই বিশেষ রোগে গ্রাফের নকশাটি উল্টো দিকে বা উপরের দিকে ঢালু হয়ে থাকে। এই অদ্ভুত জ্যামিতিক নকশার কারণেই একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘রিভার্স স্লোপ হিয়ারিং লস’ বলা হয়।

তবে এই সমস্যাটি যে কেবল পুরুষদের কণ্ঠস্বরের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, তা নয়। যেসব তরুণীর কণ্ঠস্বর অপেক্ষাকৃত গম্ভীর বা ভারী, তাঁদের কথাও ওই তরুণী শুনতে পাচ্ছিলেন না। অন্যদিকে উচ্চ-কম্পাঙ্কের স্বরে কথা বলেন এমন পুরুষদের কথা তিনি ঠিকই শুনতে পাচ্ছিলেন।

এই রোগের সবচেয়ে জটিল দিক হলো এটি খুব সহজে ধরা পড়ে না। মানুষ সাধারণত তীব্র বা তীক্ষ্ণ শব্দ শোনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললে দ্রুত বুঝতে পারে। কিন্তু গম্ভীর বা ভারী শব্দগুলো যখন ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হতে থাকে, তখন তা শনাক্ত করা কঠিন হয়। ফলে অনেক রোগী বছরের পর বছর রোগ নির্ণয় ছাড়াই কাটিয়ে দেন।

চিকিৎসকদের মতে, মিনিয়ার্স ডিজিজ (Meniere’s disease), ভাইরাল সংক্রমণ, কিডনি অকেজো হওয়া কিংবা মস্তিষ্কের চারপাশে চাপের পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন কারণে এই রোগ হতে পারে। যদি শ্রবণশক্তির এই ক্ষতি স্থায়ী হয়, তবে হিয়ারিং এইড ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।

এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা ওই তরুণীর প্রিয়জনকে পরামর্শ দিয়েছেন, তাঁর কণ্ঠ না শোনা বা তাঁর কথায় উত্তর না দেওয়া কোনো অভিমানের কারণে নয়, বরং এই বিরল সমস্যার কারণে। তিনি যেন মন খারাপ না করেন, বিষয়টি যেন ব্যক্তিগতভাবে না নেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত