
ছেলের বয়স ছয় বছর। একটি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর চক্ষু বিশেষজ্ঞর কাছে নিয়ে গেলেন মা। সেখান থেকে এসে জানালেন ছেলের চোখের ক্যানসার হয়েছে। এই খবর সবাইকে যেন একটা ধাক্কা দিয়ে নাড়িয়ে গেল। প্রতিবেশী-বন্ধুবান্ধব সবাই যার যার সামর্থ্যানুযায়ী এগিয়ে এলেন সাহায্য করতে। একটা সময় পর দেখা গেল, ছেলের এই ক্যানসারের কথা মিথ্যে এবং সেই অর্থ দিয়ে মা বিলাসিতাপূর্ণ জীবনযাপন করছেন! এমন ঘটনা ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ায়।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ৪৫ বছর বয়সী ওই নারীকে আদালত চার বছরেরও বেশি মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আইনগত কারণে ওই নারীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সন্তানের ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন কাজ করা এবং প্রতারণার ১০টি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন তিনি।
গত বুধবার মামলার রায় ঘোষণার সময় ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ওই নারীর কর্মকাণ্ডকে ‘নিষ্ঠুর’, ‘পরিকল্পিত’ এবং ‘প্রতারণামূলক’ হিসেবে অভিহিত করেন।
আদালতে জানানো হয়, একটি দুর্ঘটনার পর দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা ওই নারী তাঁর ছেলেকে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। মূলত সেখান থেকেই তাঁর এই প্রতারণার পরিকল্পনা। চিকিৎসকের কাছ থেকে ফিরে তিনি তাঁর স্বামী, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেন, তাঁর ছেলের চোখের ক্যানসার হয়েছে।
ছেলের রেডিয়েশন থেরাপি চলছে, এমন কথা বিশ্বাস করাতে তিনি শিশুটিকে হুইলচেয়ার ব্যবহারে বাধ্য করতেন। ক্যানসারের রোগী সাজাতে মাথা ও ভ্রু কামিয়ে ফেলতেন। এরপর মাথায় ও হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে রাখতেন। তার বাইরে চলাফেরাও সীমিত করে দিয়েছিলেন। এমন কি সম্পূর্ণ সুস্থ ছেলেটিকে ওষুধও সেবন করাতেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ছেলেকে ব্যথানাশক ওষুধ ও নানা হেলথ সাপ্লিমেন্টও খাওয়াতেন।
আদালতে প্রসিকিউটর বলেন, ওই মা ‘স্বার্থপরের মতো নিজের ছেলেকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে’ প্রিয়জন ও সমাজকে ঠকিয়েছেন। অনুদানের টাকা দিয়ে ‘ধনকুবেরদের মতো’ আয়েশি জীবন কাটিয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির পর ওই নারী জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং ছেলের দুর্ঘটনাকে ‘পুঁজি’ করেছিলেন। তবে তাঁর উদ্দেশ্য পরিবার বা ছেলের ক্ষতি করা ছিল না।
আইনজীবী আরও দাবি করেন, দুই সন্তানের জননী ওই নারী মূলত আর্থিক সংকট কাটাতে গিয়ে চরম ‘বিবেকহীনতার পরিচয় দিয়েছেন এবং ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন’। তিনি বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে (বিপিডি) আক্রান্ত এবং দোষ স্বীকার করে নিজের ভুল মেনে নিয়েছেন।
আদালতে ওই নারীর আইনজীবী আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত তিনি আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করছিলেন এবং সাধ্যের বাইরে গিয়ে জীবনযাপন করছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, পরিবারের জন্য সবসময় দামি ব্র্যান্ডের পণ্য প্রয়োজন, যা ছিল নেহাতই বোকামি ও ভুল পথ।’
শুরুতে ওই নারীর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও পরে পুলিশ তা প্রত্যাহার করে নেয়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাঁর স্বামী বলেন, ‘স্ত্রীর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ছিল এবং আমি কখনোই তাঁকে সন্দেহ করিনি। আমি আমাদের পরিবারের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আমি দাবার গুটি ছিলাম মাত্র।’
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এবিসি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের বাইরে ভুক্তভোগী স্বামী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার সন্তানের সঙ্গে যা করা হয়েছে, কোনো সাজাই তার জন্য যথেষ্ট নয়।’
আদালত ওই নারীকে চার বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে আগামী বছরের এপ্রিল মাসে তিনি প্যারোলে (শর্তসাপেক্ষ মুক্তি) মুক্তি পেতে পারেন।

ওডিশার কেওনঝর জেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। গতকাল সোমবার, এক আদিবাসী ব্যক্তি তাঁর মৃত বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির হন। উদ্দেশ্য, বোনের নামে ব্যাংকে জমা থাকা টাকা উত্তোলন। কারণ, ব্যাংক বারবার হিসাবধারীর বা অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের মৃত্যুর দালিলিক বা শারীরিক প্রমাণ দাবি করছিল।
১ দিন আগে
বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আদালতে গেলে সাধারণত অভিযোগের কেন্দ্র থাকে পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুকের চাপ বা দাম্পত্য কলহ। কিন্তু ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা ধরাবাঁধা কোনো ছকে ফেলে তুলনা করা যাবে না। এক নারী এমন কৌশল নিয়েছেন, যা কল্পনাকেও হার মানায়।
২ দিন আগে
চীনে ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে এমন এক সত্যের মুখোমুখি হলেন, যা শুনলে যে কারওরই ভরসা থাকবে না নিজের শরীরের ওপর। ২০ বছর আগে তিনি একটি পারদভর্তি থার্মোমিটার গিলে ফেলেছিলেন। অবশেষে পেট ব্যথার কারণে সেই উদ্ধার করা হলো দুই দশক পর।
৩ দিন আগে
আর কিছুদিন পরই মাঠে গড়াচ্ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে উন্মাদনায় মাতছেন ফুটবলভক্তরা। ফাইনাল খেলা মাঠে বসে দেখতে চাইলে এক লোভনীয় প্রস্তাব লুফে নিতে পারেন আপনিও। চাইলে চার বন্ধু মিলেও একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালের ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের...
৪ দিন আগে