প্রশ্ন: আমি এই রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতে আগ্রহী। ইতিকাফ কীভাবে করতে হয়? এ সময় কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না? ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে উপকৃত করবেন।
মুসলেহ উদ্দিন, জয়পুরহাট
উত্তর: রমজান মাসের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইতিকাফ। দুনিয়াবি ব্যস্ততা ত্যাগ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের এটি বিশেষ সুযোগ। রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কিফায়া। অর্থাৎ, মহল্লার অন্তত একজন এটি আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হবে, অন্যথায় সবাই গুনাহগার হবে।
ইতিকাফের জন্য ২০ রমজান সূর্যাস্তের আগে মসজিদে প্রবেশ করতে হবে। যদি কেউ মাগরিবের পর প্রবেশ করে, তবে তার সুন্নত ইতিকাফ হবে না, তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। ইতিকাফ শেষ হবে ঈদের চাঁদ দেখার দিন সূর্যাস্তের পর।
ইতিকাফ মূলত তিন প্রকার: ১. সুন্নত ইতিকাফ: রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফ। ২. ওয়াজিব ইতিকাফ: কোনো মানত পূরণের উদ্দেশ্যে করা ইতিকাফ। ৩. নফল ইতিকাফ: যেকোনো সময় যেকোনো মেয়াদে করা যায়।
ক. নিয়ত করা: ইতিকাফের জন্য মনে মনে নিয়ত করা আবশ্যক। খ. মসজিদে অবস্থান: পুরুষদের জন্য জামাত হয় এমন মসজিদে ইতিকাফ করতে হবে। গ. পবিত্রতা: গোসল ফরজ হলে শরীর পবিত্র করে নেওয়া। ঘ. রোজা রাখা: সুন্নত ও ওয়াজিব ইতিকাফের জন্য রোজা থাকা শর্ত।
ইতিকাফকারী বিশেষ কিছু প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হতে পারবেন: ১. প্রাকৃতিক প্রয়োজন: প্রস্রাব-পায়খানা ও ফরজ গোসলের জন্য বের হওয়া যাবে। ২. শরয়ি প্রয়োজন: ইতিকাফরত মসজিদে জুমার ব্যবস্থা না থাকলে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য অন্য মসজিদে যাওয়া যাবে। ৩. আজান দেওয়া: আজান দেওয়ার জন্য মসজিদের বাইরে যাওয়া যাবে। ৪. খাবার: যদি খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, তবে খাবার নিয়ে আসার জন্য বের হওয়া যাবে।
নিম্নোক্ত কাজগুলো করলে ইতিকাফ ভেঙে যায় বা ত্রুটিযুক্ত হয়: ১. অপ্রয়োজনীয় প্রস্থান: কোনো কারণ ছাড়া বা প্রয়োজনে বের হয়ে দেরি করলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। ২. নফল গোসল: গরম বা শরীর ঠান্ডা করার জন্য সাধারণ গোসলে বের হওয়া যাবে না (তবে ভেজা গামছা দিয়ে শরীর মোছা যাবে)। ৩. রোগী দেখা বা জানাজা: সুন্নত ইতিকাফে শুধু এ উদ্দেশ্যে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না। ৪. ব্যবসায়িক কাজ: দুনিয়াবি লেনদেন বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মসজিদ ত্যাগ করা যাবে না। ৫. স্ত্রী-সহবাস: রমজানে দিনের বেলা রোজা অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস নিষিদ্ধ হলেও রাতে সহবাসের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ইতেকাফ অবস্থায় রাতেও সহবাস নিষিদ্ধ। ৬. ভাড়ায় ইতিকাফ: টাকার বিনিময়ে কাউকে ইতিকাফে বসানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ।
নারীদের জন্য নিজ ঘরের নির্দিষ্ট কোনো কক্ষে ইতিকাফ করা উত্তম। তবে মসজিদে আলাদা পর্দা, অজু ও বাথরুমের সুব্যবস্থা থাকলে সেখানেও ইতিকাফ করা বৈধ। নারীদের ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং ঋতুস্রাব (মাসিক) শুরু হলে ইতিকাফ ছেড়ে দিতে হবে।
ইতিকাফে যাওয়ার আগে নিচের আসবাবগুলো গুছিয়ে নিন: ক. বিছানাপত্র ও পরিধেয় কাপড়। খ. ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী (সাবান, শ্যাম্পু, ব্রাশ, টিস্যু)। গ. ধর্মীয় বই, কোরআন শরিফ ও তাসবিহ। ঘ. পানির পাত্র ও খাবারের প্লেট-বাটি।
ইতিকাফ হলো আল্লাহর প্রেমে নিজেকে সঁপে দেওয়ার এক মাধ্যম। অপ্রয়োজনীয় কথা ও মোবাইল ব্যবহার না করে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও নফল ইবাদতে সময় কাটানোই ইতিকাফের মূল লক্ষ্য।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সেই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কারা? কেন তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বলা হয়েছে? চলুন কোরআনের আয়াত থেকে জেনে নেওয়া যাক—
১ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৭ ঘণ্টা আগে
মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু পরকালের জীবন অনন্ত। সেই পরকালীন জীবনের একমাত্র সম্বল হলো দুনিয়ার সৎকর্ম বা আমল। পরকালে মুক্তি এবং জান্নাত লাভের যত সহজ ও বরকতময় মাধ্যম রয়েছে, তার মধ্যে দান-সদকা অন্যতম। কোরআন ও হাদিসে গোপন ও প্রকাশ্যে দান-সদকা করার জন্য বারবার উৎসাহিত করা হয়েছে।
১ দিন আগে
বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, ইরান ও ইরাকের মতো কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশের একাংশে প্রতিবছর সফর মাসের শেষ বুধবার ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ পালিত হতে দেখা যায়। ফারসি এই বাক্যটির আক্ষরিক অর্থ হলো—‘সফর মাসের শেষ বুধবার’ (ফারসি ‘আখেরি’ অর্থ শেষ, ‘চাহর’ অর্থ সফর মাস এবং ‘সোম্বা’ অর্থ বুধবার)।
১ দিন আগে