Ajker Patrika

জাপানের শিল্প খাতে ‘ফিজিক্যাল এআই’-এর উত্থান

ফিচার ডেস্ক
জাপানের শিল্প খাতে ‘ফিজিক্যাল এআই’-এর উত্থান

একটা সময় ছিল, যখন রোবট ব্যবহার করা হতো শুধু কাজের গতি বাড়ানোর জন্য। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে জাপানের জন্য এটি আর বিলাসিতা নয়, বরং শিল্পের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রধান হাতিয়ার। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো, ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ফিজিক্যাল এআই খাতের ৩০ শতাংশ বাজার দখল করা।

জাপানের এই পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি হলো শ্রমিক সংকট। ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৪ বছর ধরে দেশটির জনসংখ্যা কমছে। বর্তমানে কর্মক্ষম মানুষ মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ, যা আগামী ২০ বছরে আরও ১৫ মিলিয়ন কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে কারখানা, গুদামঘর এবং জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে মানুষের বিকল্প হিসেবে এআই-চালিত রোবট মোতায়েন করা ছাড়া জাপানের কাছে আর কোনো পথ নেই। জাপান ঐতিহাসিকভাবেই রোবোটিকস হার্ডওয়্যারে বিশ্বসেরা। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট বাজারের ৭০ শতাংশ জাপানি নির্মাতাদের দখলে।

জাপানের ঐতিহ্যবাহী কারুশৈলী মনোজুকুরি। এটি এখন এআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। জাপানি স্টার্টআপগুলো এমন সফটওয়্যার তৈরি করছে, যা সাধারণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম করে তোলে। তারা হার্ডওয়্যারের সূক্ষ্মতা এবং সফটওয়্যারের বুদ্ধিমত্তাকে এক সুতায় বাঁধছে। আমেরিকা ও চীন যেখানে মূলত সফটওয়্যার এবং ডেটা-চালিত ‘ফুল-স্ট্যাক’ সিস্টেম তৈরিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। জাপানের শক্তি হলো এর হাই-প্রিসিশন কম্পোনেন্ট বা অতি-সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি। সেন্সর, অ্যাকচুয়েটর এবং কন্ট্রোল সিস্টেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যারে জাপানের দক্ষতা তাদের বিশ্বজুড়ে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থান এনে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অধীনে জাপান সরকার এআই এবং রোবোটিকস খাতে প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এই বিনিয়োগ শুধু গবেষণায় নয়, বরং বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন গুদামগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ফর্কলিফট ও রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। টেরা ড্রোনের মতো কোম্পানিগুলো প্রতিরক্ষা ও পরিকাঠামো পরিদর্শনে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন এবং এআই সিস্টেম ব্যবহার করছে। বয়স্ক মানুষদের চলাচল করার জন্য হুইলের মতো স্বয়ংক্রিয় যান তৈরি হচ্ছে। জাপানে এখন বড় বড় জায়ান্ট কোম্পানি; যেমন টয়োটা, মিতসুবিশি ও হোন্ডার সঙ্গে ছোট ছোট উদ্ভাবনী স্টার্টআপের এক নিবিড় মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। বড় কোম্পানিগুলো দিচ্ছে মূলধন এবং বিশাল পরিকাঠামো, আর স্টার্টআপগুলো দিচ্ছে দ্রুতগতির সফটওয়্যার এবং নতুন নতুন আইডিয়া। জাপানের জন্য ফিজিক্যাল এআই শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, একই সঙ্গে এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। শিল্পের টিকে থাকার এই লড়াইয়ে জাপান যদি সফল হয়, তাহলে সেটি সারা বিশ্বের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার, নেওয়া হয়েছে ডিবি কার্যালয়ে

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পাল্টা ১০ দফা

সরকারের প্রথম একনেক সভায় ৪৮৩.৪৩ কোটি টাকার পাঁচ প্রকল্প অনুমোদন

খাবারের জন্য রক্ত বিক্রি করা এই বিলিয়নিয়ারের জীবনের ৬ শিক্ষা

দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ্যে, তালিকায় আছে যারা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত