
ক্রীড়াঙ্গনে নারী অ্যাথলেটদের আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এবং স্টেডিয়ামে দর্শকদের ছবি তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দুটি সাম্প্রতিক ঘটনা এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে নারী অ্যাথলেটদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
চীনে একটি সাঁতার প্রতিযোগিতায় এক নারী সাঁতারুর পোশাক-বিভ্রাটের ছবি অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে প্রচারের ঘটনায় আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জাপানে বিচ ভলিবল টুর্নামেন্টে দর্শকদের ছবি তোলার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ক্রীড়াবিদদের সুরক্ষায় এটি একটি কঠোর কিন্তু বিরল পদক্ষেপ।
চীনে আয়োজিত বার্ষিক ‘শিং-কুয়ান ডিশুই লেক সুইম-ক্রসিং চ্যালেঞ্জ’-এ অংশ নেওয়া এক নারী সাঁতারুর অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া পোশাক-বিভ্রাটের আপত্তিকর ছবি টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হয়। ১০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারীর জন্য ছবিটি প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সেখানে উন্মুক্ত ছিল।
ভুক্তভোগী সাঁতারু চেন জানান, ঘটনাটি ঘটার চার দিন পর আয়োজক সংস্থা সাংহাই ট্রায়াথলন ক্লাব তাঁকে ফোনকল করে দুঃখ প্রকাশ করলেও ইন্টারনেটে এখনো সেই ছবিগুলো রয়ে গেছে।
চেন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি—মানুষ একে অপরের কাছে এই ছবিগুলো চাচ্ছে এবং অনেকে দাবি করছে, তাদের কাছে এটি আছে। আমি এই ছবির প্রচার ও ছড়িয়ে পড়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে চাই।’
আয়োজকদের দাবি, প্রতিযোগীর সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় প্রতিটি ছবি আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা আয়োজকদের এই আত্মপক্ষ সমর্থন নাকচ করে দিয়েছেন।
সাংহাই আই-ল্যান্ড ল অফিসের অংশীদার লি উইজি বলেন, ঘটনাটি স্পষ্টতই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। আপলোড করা ছবিগুলো যাচাই-বাছাই করার আইনি বাধ্যবাধকতা আয়োজকদের ছিল এবং এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক জরিমানা বা শাস্তি হওয়া উচিত।
চীনে যখন এই বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই জাপানের ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নারী অ্যাথলেটদের যৌন উদ্দেশ্যে লক্ষ্য করে ছবি তোলা বা গোপনে ভিডিও করার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
গত সপ্তাহে জাপানের হে কিনানে অনুষ্ঠিত ‘জাপান বিচ ভলিবল ট্যুর ২০২৬’-এর প্রথম দিনে কুরুচিপূর্ণভাবে ছবি তোলার প্রমাণ পাওয়ার পর জাপান ভলিবল অ্যাসোসিয়েশন (জেভিএ) টুর্নামেন্ট প্রাঙ্গণে স্মার্টফোনসহ সব ধরনের রেকর্ডিং ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় মূল পর্বেও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আগামী এশিয়ান গেমসের দল নির্বাচনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেভিএ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে অ্যাথলেটরা কোনো ধরনের মানসিক উদ্বেগ ছাড়া সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে খেলায় মনোনিবেশ করতে পারেন।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাপানের বিচ ভলিবলে নারী অ্যাথলেটদের শরীরকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ছবি তোলার ঘটনা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও সাধারণত এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেখা যায় না। কারণ, টুর্নামেন্ট প্রচারের জন্য আয়োজকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর এবং ফলোয়ারদের পোস্টের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল থাকেন।
জাপান এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি দেখালেও চীনের ক্রীড়াঙ্গনে এখনো ডিজিটাল গোপনীয়তার কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো গড়ে ওঠেনি।
২০১০ সালে অলিম্পিক ডাইভিং চ্যাম্পিয়ন গুও জিংজিংয়ের অনুশীলনের একটি ভিডিও ফাঁসের ঘটনার পরও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কেবল ‘ব্যবস্থাপনা জোরদার’ করার মৌখিক তাগিদ ছাড়া কোনো সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
১৬ বছর পর, এখনো অধিকাংশ প্রতিযোগিতায় কোনো বাধ্যতামূলক প্রোটোকল বা নিয়ম নেই। অথচ ২০২৪ সালে চীন ফটোগ্রাফার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য একটি পেশাদার নৈতিকতার নির্দেশিকা জারি করেছিল, যেখানে অ্যাথলেটদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানানো ও আপত্তিকর ছবি প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
সকালবেলা অ্যালার্মের কর্কশ শব্দে চোখ মেলা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে বিছানায় শুয়ে শেষ স্ক্রল! এ যুগের মানুষের ২৪ ঘণ্টার রুটিন এখন বন্দী হয়ে গেছে পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চির একটি কাচের স্ক্রিনে। ফেসবুকের নোটিফিকেশন, ইনস্টাগ্রামের রিলস আর ইউটিউব শর্টসের অন্তহীন গোলকধাঁধায় প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে
২ দিন আগে
ঈদের সময় বড় শহরগুলো যেন অচেনা রূপ নেয়। চিরচেনা যানজটের শহর হয়ে যায় একেবারে ফাঁকা। তবে এই ফাঁকা শহরে ঈদের রাতে আত্মীয়ের বাসায় যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বের হওয়ার সময় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করেন অনেকে। চালকের সংখ্যা সীমিত থাকায় বাস্তবতা হলো, বাইক বা গাড়ি পেতে বেশ ঝক্কিতে পড়তে হয় এ সময়।
৩ দিন আগে
নব্বই বা শূন্য দশকের শুরুর দিকের সেই কোরবানির ঈদের দিনগুলোর কথা মনে আছে? হাটের গরু নিয়ে তুমুল উত্তেজনা কিংবা ঈদের দিন সকাল থেকে মাংস কাটাছেঁড়ার বিশাল ব্যস্ততা। এর মাঝেও আমাদের শৈশবের একটা বড় অংশজুড়ে থাকত ঈদ কার্ড। ঈদের আগের রাতে ড্রয়িংরুমে বসে একদিকে বড়রা যখন মাংস বিলি-বণ্টনের
৩ দিন আগে
ঈদের নানা কাজের ব্যস্ততা, আড্ডা আর ঘোরাঘুরির চোটে অনেকেই স্মার্টফোনের চার্জের কথা একদম ভুলে যান। এবার জেনে রাখুন, ঈদের এই ব্যস্ততা আর বিদ্যুৎ-সংকটের মধ্যেও কীভাবে স্মার্টফোনের চার্জ দীর্ঘসময় ধরে রাখবেন।
৩ দিন আগে