
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল দিয়ে তৈরি লেখায় অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি খাতের অন্যতম শীর্ষ স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিক
অ্যানথ্রপিক। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাঁদের এআই মডেল ক্লদ ব্যবহার করেত তৈরি সব লেখার মধ্যে একটি গোপন সংকেত থাকবে, যা লেখাটি অন্য কোথাও কপি ও পেস্ট করলেও থেকে যাবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘এআই অ্যাক্ট আর্টিকেল ৫০ (২) কোড অব প্র্যাকটিস অন ট্রান্সপারেন্সি অব এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট’-এ স্বাক্ষর করার পর অ্যানথ্রপিকের এই নতুন পদক্ষেপ সামনে এলো।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২ আগস্ট থেকে চালু করা ক্লদ মডেলগুলোতে প্রথম দিন থেকেই এই ওয়াটারমার্ক ব্যবস্থা চালু থাকবে। বিশ্বজুড়ে ফিচারটি পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে।
ইইউ এআই অ্যাক্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী নিজেদের নেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির তালিকা প্রকাশ করতে অ্যানথ্রপিক তাদের সাপোর্ট পেজটি হালনাগাদ করেছে। জেনারেটিভ এআই মডেল ও সিস্টেমের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা এই নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করেছে।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, ক্লদের মডেলগুলোর বানানো লেখায় ওয়াটারমার্কটি গেঁথে দেওয়া হবে। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে টেক্সট ‘কপি’ করে অন্য কোথাও ‘পেস্ট’ করলেও সংকেতটি থেকেই যাবে। এমনকি কিছুটা সম্পাদনা করার পরও এটি টিকে থাকতে পারে। সংকেতটি শনাক্ত করার ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে তা এখনো চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তবে অ্যানথ্রপিকের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারী ও তৃতীয় পক্ষকে এই ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করার উপযোগী টুলস বা সরঞ্জাম সরবরাহ করা।
তবে অ্যানথ্রপিক জোর দিয়ে বলছে, ওয়াটারমার্কটি ব্যবহারকারীর কাছে দৃশ্যমান হবে না। একই সঙ্গে ওয়াটারমার্ক যুক্ত করার কারণে উত্তরের অর্থ, মান বা পাঠযোগ্যতায় কোনো প্রভাব পড়বে না। এ প্রক্রিয়া মডেল পর্যায়েই সম্পন্ন হবে এবং নির্দিষ্ট কোনো ক্লদ পণ্য বা ইন্টারফেসের সঙ্গে এটি যুক্ত থাকবে না।
কোম্পানিটি আরও দাবি করেছে, এই ওয়াটারমার্কটি চূড়ান্ত এআই ডিটেক্টর বা শনাক্তকারী হিসেবে কাজ করবে না এবং সেভাবে ভাবাও উচিত নয়। অ্যানথ্রপিকের সাপোর্ট পেজে বলা হয়েছে, ক্লদের কোনো মার্ক শনাক্ত হলে বোঝা যায়, কনটেন্টটি হয়তো ক্লদের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়েছে। তবে শুধু এর ভিত্তিতে কনটেন্টটির সম্পূর্ণ উৎস নিশ্চিত করা যায় না।
উদাহরণ হিসেবে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, কোনো ব্যবহারকারী নিজেই একটি নিবন্ধ লিখে সেটি প্রুফরিড, অনুবাদ, সংক্ষিপ্ত বা ফরম্যাট পরিবর্তনের জন্য ক্লদ ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রেও ফলাফলে ক্লদের ওয়াটারমার্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও লেখাটির মূল ধারণা ও লেখা ব্যবহারকারীর নিজের।
একইভাবে এর বিপরীত ঘটনাও ঘটতে পারে; ওয়াটারমার্ক না থাকার অর্থ এই নয় যে কনটেন্টটি এআই দিয়ে তৈরি বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়নি। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, প্রচুর সম্পাদনা, প্যারাফ্রেজিং, অনুবাদ, ক্লদের তৈরি লেখা অন্য লেখার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া অথবা খুব ছোট কোনো অংশ ব্যবহার করলে ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে।
নতুন এই ওয়াটারমার্কিং ব্যবস্থা ক্লদ, ক্লদ প্ল্যাটফর্ম (এপিআই), ক্লদ কোড, ক্লদ কাউ এবং ক্লদ ট্যাগ—এসব প্ল্যাটফর্মে সমর্থিত ক্লদ মডেলগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে। সমর্থিত ক্ষেত্রে এডব্লিউএস, গুগল ক্লাউড ও মাইক্রোসফট ফাউন্ড্রির মতো ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমর্থিত মডেল ব্যবহার করলেও এসব ওয়াটারমার্ক যুক্ত হবে।
এসভিজি, পিএনজি ও জেপিজির মতো সমর্থিত ফাইলের ক্ষেত্রে অ্যানথ্রপিক ‘কনটেন্ট প্রোভেন্যান্স অ্যান্ড অথেনটিসিটি’ (সিটুপিএ) জোটের মানদণ্ড অনুসরণ করে ডিজিটালি স্বাক্ষরিত প্রোভেন্যান্স মেটাডেটা ব্যবহার করবে। এই মেটাডেটার মাধ্যমে কোনো ফাইল ক্লদের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়েছে কি না এবং ফাইলটির উৎসসংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন বা বিকৃত করা হয়েছে কি না, তা জানা যাবে।
সমর্থিত ক্লদ মডেল যেসব বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, সেসব বাজারেই নতুন ওয়াটারমার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

নতুন এআই মডেল ‘মিউজ গ্লিমার’ উন্মোচন করেছে মেটা। ৩০ বিলিয়ন প্যারামিটার বিশিষ্ট মডেলটি সার্বক্ষণিক লোকাল এজেন্ট ওয়ার্কফ্লো পরিচালনার জন্য বা ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এআই এজেন্ট চালানোর জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
দেশের বাজারে রিয়েলমি এনেছে সি১০০এক্স স্মার্টফোন। ডিভাইসটিতে সুবিশাল ৮ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি, ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং ও রিভার্স চার্জিং ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্মার্টফোনটিতে ৭ বছরের ব্যাটারি হেলথ নিশ্চিত করা হয়েছে।
১ দিন আগে
‘সিনামন বান’ কোড নামে পরিচিত অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে গত ১৬ জুন। প্রথমে গুগলের নিজস্ব পিক্সেল ডিভাইসে এটি পাওয়া গেলেও পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনেও আপডেটটি আসবে।
১ দিন আগে
নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যাস, ধূলিকণাসহ আমরা যেসব বস্তু দেখতে পাই, তা পুরো মহাজগতের মোট ভর ও শক্তির মাত্র ৫ শতাংশ। এর বাকি অংশজুড়ে রয়েছে রহস্যময় ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি। এর প্রকৃতি এখনো অনেকটাই অজানা। এই অজানাকে ভেদ করতে, সেখানে কী আছে...
১ দিন আগে