Ajker Patrika

মেটার নতুন এআই মডেল ‘মিউজ গ্লিমার’, যা আছে এতে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৫৯
মেটার নতুন এআই মডেল ‘মিউজ গ্লিমার’, যা আছে এতে
মিউজ গ্লিমার চালাতে ৫৫ গিগাবাইটের বেশি মেমোরি প্রয়োজন হবে। ছবি: সংগৃহীত

নতুন এআই মডেল ‘মিউজ গ্লিমার’ উন্মোচন করেছে মেটা। ৩০ বিলিয়ন প্যারামিটার বিশিষ্ট মডেলটি সার্বক্ষণিক লোকাল এজেন্ট ওয়ার্কফ্লো পরিচালনার জন্য বা ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এআই এজেন্ট চালানোর জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

মেটা জানিয়েছে, এই মডেলটি একটি কনজ্যুমার জিপিইউযুক্ত ম্যাক বা পিসিতেও চালানো যাবে। ফুল প্রিসিশন মোডে (পূর্ণ নির্ভুলতায়) মিউজ গ্লিমার চালাতে ৫৫ গিগাবাইটের বেশি মেমোরি প্রয়োজন হবে।

মিউজ গ্লিমার মডেলটি স্বয়ংক্রিয় বা এজেন্টিক কাজ সম্পন্ন করা, বহু-ধাপযুক্ত যুক্তিনির্ভর কাজ (মাল্টি-স্টেপ রিজনিং) এবং বহু-মাধ্যম বা মাল্টি-মডেল ইনপুট ও বিশ্লেষণের মতো কাজগুলো সফলভাবে পরিচালনার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

সোমবার নিউজরুমে প্রকাশিত এক পোস্টে মেটা মিউজ গ্লিমার উন্মোচনের ঘোষণা দেয়। মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস-এর তৈরি এই সর্বাধুনিক এআই মডেলটির ওয়েট উন্মুক্ত করা হয়েছে ‘অ্যাপাচি ২.০’ (Apache 2.0) লাইসেন্সের অধীনে।

ব্যবহারকারীরা হাগিং ফেস (Hugging Face) থেকে মডেলটির ওয়েট ডাউনলোড করতে পারবেন। মেটা জানিয়েছে, আগামী দিনে অলামা (Ollama), এলএম স্টুডিও (LM Studio) এবং আনস্লথ (Unsloth)-এর মতো অ্যাপগুলোতেও মিউজ গ্লিমার পাওয়া যাবে।

মেটা আরও জানিয়েছে, মিউজ গ্লিমার স্থানীয় এজেন্ট ও ফাংশন কলিং, স্থানীয়ভাবে কোডিং এবং ‘এলএলএম-অ্যাজ-এ-জাজ’ মূল্যায়নের মতো কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে। একই আকারের শ্রেণির শীর্ষস্থানীয় মডেলগুলোর তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ এজেন্টিক ব্যবহার ও বেঞ্চমার্কে মিউজ গ্লিমার ভালো ফল দেখায় বলে দাবি তাদের।

কোম্পানিটি বলছে, অনেক এআই অ্যাপ্লিকেশন এখনো ক্লাউড অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। এই সীমাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যেই মিউজ গ্লিমার তৈরি করা হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের সুবিধার্থে এটিকে অপ্টিমাইজ করা হয়েছে। এটি ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই বা সংযোগসহ স্থানীয় ডিভাইসেই মডেল চালনার সুবিধা দেবে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই মডেলটি ফুল প্রিসিশনে চালানোর জন্য ৫৫ জিবিরও বেশি মেমোরির প্রয়োজন হবে। তবে মেটা ৪-বিট কোয়ান্টাইজেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মডেলটির আকার ২০ গিগাবাইটের নিচে নামিয়ে এনেছে, যার ফলে এটি ২৪ বা ৩২ গিগাবাইট মেমোরির সেটআপেও এটি চালানো সম্ভব হবে।

গুগলের জেমা৪-৩১বি (Gemma4-31 b) এবং আলিবাবার কিউওয়েন ৩.৬-২৭বি (Qwen 3.6-27 B) মডেলের সঙ্গে মিউজ গ্লিমারের সরাসরি তুলনাও প্রকাশ করেছে মেটা। ফলাফলে দেখা গেছে, ১২টি পরীক্ষাতেই মিউজ গ্লিমার দুটি মডেলকে ছাড়িয়ে গেছে।

মেটার তথ্য অনুযায়ী, মিউজ গ্লিমার তৈরি করা হয়েছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এজেন্টিক কাজ সম্পন্ন করা, নির্ভরযোগ্যভাবে বিভিন্ন টুল ব্যবহার, মাল্টিমোডাল যুক্তি প্রয়োগ, ত্রুটি শনাক্তকরণ ও টুল পুনরায় চালানো এবং বহু ধাপে যুক্তি প্রয়োগসহ বিভিন্ন কাজের জন্য। মডেলটিকে ১০০টির বেশি ভাষার তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

টেক জায়ান্টটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, তারা বিভিন্ন ডিভাইসে মিউজ গ্লিমারের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এএমডি, আর্ম, ডেল, ইন্টেল এবং এনভিডিয়ার সঙ্গে কাজ করছে। মেটা নিশ্চিত করেছে, llama. cpp, MLX এবং ExecuTorch-এর জন্য অপটিমাইজড ইন্টিগ্রেশনগুলো আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত