Ajker Patrika

অ্যাপলের ১০ বছরের চেষ্টার ফসল এল বাজারে, কী আছে এই ফোল্ডেবল আইফোনে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৩০
অ্যাপলের ১০ বছরের চেষ্টার ফসল এল বাজারে, কী আছে এই ফোল্ডেবল আইফোনে
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক দশকের অপেক্ষা। অবশেষে আজ বুধবার বাজারে আসতে যাচ্ছে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭. ৮ ইঞ্চি অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে, ৫. ৫ ইঞ্চি বাইরের স্ক্রিন এবং উন্নত হিঞ্জসহ ডিভাইসটির সম্ভাব্য দাম ২ হাজার ১৯৯ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

২০২০ সালের দিকে এশিয়া সফরে যান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক। সেখান থেকে ফিরে ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। চীন ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে সফরের সময় তিনি স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফোল্ডেবল ফোনের ব্যবহারকারী বাড়তে দেখেন। সফর শেষে টিম কুক সিদ্ধান্ত নেন, অ্যাপলের নিজস্ব ফোল্ডেবল ফোন থাকা প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এ বাজারে প্রবেশের কাজ দ্রুত করতে তিনি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেন।

ঘটনাচক্রে অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গোপন প্রযুক্তি উন্নয়ন দলগুলো এরই মধ্যে কয়েক বছর ধরে ফোল্ডেবল ফোন, ডিসপ্লে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করছিল। ২০১৯ সালে স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোল্ড বাজারে আনারও আগে এ উদ্যোগ শুরু হয়।

আজ বুধবার এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসতে যাচ্ছে। অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন উন্মোচন করতে যাচ্ছে। প্রায় ২০ বছরের আইফোন ইতিহাসে এটি হবে এককভাবে সবচেয়ে বড় নকশাগত পরিবর্তন। অ্যাপলের মোট বিক্রির প্রায় অর্ধেকই আসে আইফোন থেকে।

এই উন্মোচনের মধ্য দিয়ে সিইও হিসেবে গত ১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়া জন টার্নাসেরও একধরনের অভিষেক হতে যাচ্ছে। নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে অ্যাপলের নতুন পণ্যযুগের সূচনা এবং ফোল্ডেবল ফোনটি টার্নাসের হাত দিয়ে উন্মোচনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা কুক দর্শকসারিতে থাকবেন।

এই পর্যায়ে আসতে অ্যাপলকে বছরের পর বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নয়নকাজ চালাতে হয়েছে। কুক প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আগে প্রকৌশলী, নকশাবিদ ও নির্বাহীরা অ্যাপলের ফোল্ডেবল ডিভাইস আসলে কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা করেছেন। প্রথম দিকের একটি ধারণা ছিল মূলত এমন একটি আইপ্যাড মিনি, যা খুললে বড় আকারের ট্যাবলেটে পরিণত হবে।

অ্যাপলের ভেতরে ফোল্ডেবল ফোনটির কোডনাম ভি৬৮। উন্নয়নকাজের সময় কেউ কেউ এটিকে ‘আইফোন আল্ট্রা’ নামেও ডাকতেন, কারণ এটি আইফোনের বর্তমান মডেলগুলোর ওপরে অবস্থান করবে। শুরু থেকেই ফোনটির দাম অ্যাপলের ভেতরে আলোচনার বড় বিষয় ছিল। এটিকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রিমিয়াম পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

শুরুর দিকে অ্যাপল ফোনটির দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য বিতর্কিত ২ হাজার ডলারের সীমার ঠিক নিচে থাকা। ২০১৭ সালে আইফোন এক্সের ক্ষেত্রেও অ্যাপল একই কৌশল নিয়েছিল। তখন সবচেয়ে প্রিমিয়াম মডেলটির দাম রাখা হয়েছিল ৯৯৯ ডলার থেকে ১ হাজার ডলারের ঠিক নিচে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপল ফোল্ডেবল ফোনটির দাম ২ হাজার ১৯৯ ডলার পর্যন্ত রাখার বিষয়েও আলোচনা করেছে বলে প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন মূল্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মেমোরির সংকটের কারণে অ্যাপলকে তাদের নির্ধারিত খরচের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় করতে হয়েছে।

ফোনটির কিছু বেশি স্টোরেজের সংস্করণের দাম প্রায় ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তুলনা হিসেবে, বর্তমানে সাধারণ আইফোনের দাম শুরু হচ্ছে ৭৯৯ ডলার থেকে। আর আইফোন ১৭ প্রোর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯ ডলার থেকে।

উচ্চমূল্য ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের দামের ধাক্কা তৈরি করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক আইফোন প্রো মডেলের সর্বোচ্চ স্টোরেজ সংস্করণের দাম ২ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানো এবং সেগুলোর বাণিজ্যিক সাফল্য অ্যাপলকে প্রিমিয়াম ফোল্ডেবল ডিভাইস বাজারে আনতে উৎসাহিত করেছে।

সম্প্রতি চালু হওয়া ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ সাবস্ক্রিপশন কর্মসূচি, টেলিকম অপারেটরদের বিনিময় সুবিধা এবং কিস্তি ব্যবস্থা উচ্চমূল্যের প্রভাব কমাতে পারে। স্যামসাং ও অ্যালফাবেট ইনকরপোরেটেডের গুগলের সর্বশেষ ফোল্ডেবল ফোনের প্রারম্ভিক দামও প্রায় ১ হাজার ৮৯৯ ডলার।

নতুন ফোনটিতে প্রায় ৭.৮ ইঞ্চির ভেতরের ডিসপ্লে থাকবে, যা অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোল্ডেবল ফোনের তুলনায় চওড়া। গুগল ২০২৩ সালে পিক্সেল ফোল্ডে অনুরূপ নকশা ব্যবহার করলেও পরে তা থেকে সরে আসে।

চওড়া ফোল্ডিং ডিসপ্লেটি ভিডিও দেখা ও একসঙ্গে একাধিক কাজের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ডিভাইসটির বাইরের দিকে থাকবে তুলনামূলক ছোট ৫.৫ ইঞ্চির স্ক্রিন, যা হাতে ধরা ও পকেটে রাখার সুবিধা দেবে।

নকশার সময় অ্যাপলের ডিজাইনাররা ভাঁজ করা ডিভাইসটিকে পাসপোর্টের সঙ্গে এবং খোলা অবস্থার আকৃতিকে অ্যাপলের ওয়্যারলেস ম্যাক টাচপ্যাড ‘ম্যাজিক ট্র্যাকপ্যাড’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

ফোনটি পুরো সুবিধায় ব্যবহার করতে খুলতে হবে এবং এটি সাধারণ আইফোনের তুলনায় কিছুটা কম টেকসই হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। ডিভাইসটিতে ক্যামেরা ব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল এবং ব্যাটারির স্থায়িত্ব কম হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অ্যাপল কর্মীদের বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠানটি যতগুলো ফোল্ডেবল ফোন তৈরি করতে পারবে, সবই বিক্রি হবে। ওয়াল স্ট্রিটের হিসাবে, চলতি বছর প্রায় ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ইউনিট ফোল্ডেবল ফোন বিক্রি হতে পারে।

ফোল্ডেবল আইফোনের পর টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক, টেবিলটপ রোবট, স্মার্ট গ্লাস, ক্যামেরাসংবলিত এয়ারপডস এবং ভিডিও রেকর্ডিং ছাড়া পরিচালিত হোম সিকিউরিটি সিস্টেম আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইফোন ১৮ প্রো লাইন বা সাম্প্রতিক মডেলগুলোর তুলনায় ডিভাইসটি কিছুটা কম টেকসই হলেও ফোল্ডেবল বাজারে এর নির্মাণমান শিল্পের সেরা হবে বলে অ্যাপলের বিশ্বাস।

ফোল্ডেবল ফোন এখনো মোট স্মার্টফোন বাজারের খুবই ছোট একটি অংশ। তবে এ খাতটি পুরো শিল্পের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ফোল্ডেবল ফোনের বাজার ১৩ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ২৯ লাখ ইউনিটে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সব ধরনের স্মার্টফোনের সরবরাহ হবে ১০০ কোটিরও বেশি ইউনিট।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত