Ajker Patrika

নিউ গ্লেন বিস্ফোরণে যে সংকটে ব্লু অরিজিন

ফিচার ডেস্ক
নিউ গ্লেন বিস্ফোরণে যে সংকটে ব্লু অরিজিন

মহাকাশ জয়ের প্রতিযোগিতায় জেফ বেজোসের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ব্লু অরিজিনের জন্য এক মহাসংকট তৈরি করল তাদের নিউ গ্লেন রকেটের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনা। চূড়ান্ত উৎক্ষেপণের আগে একটি ইঞ্জিন পরীক্ষা করার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শুধু যে রকেটটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, তা-ই নয়; বরং এর লঞ্চ প্যাডও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই একটিমাত্র দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে মহাকাশ-বাণিজ্যে বেশ কিছু বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ও সমস্যা তৈরি করতে যাচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা ও পুনর্নির্মাণ চ্যালেঞ্জ

নিউ গ্লেন রকেটের বিস্ফোরণের তীব্রতায় রকেট উৎক্ষেপণের মূলমঞ্চ বা লঞ্চ প্যাডটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুমড়েমুচড়ে যাওয়া এই বিশাল স্থাপনা মেরামত করে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা চটজলদি সম্ভব নয়। প্রকৌশলীরা আরও ধারণা করছেন, এই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে লঞ্চ প্যাড পুনর্নির্মাণ করতে ছয় মাস কিংবা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। ফলে এই দীর্ঘ সময়ে ব্লু অরিজিনের সব ধরনের উৎক্ষেপণ কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে থাকবে।

আমাজনের মেগা স্যাটেলাইট মিশন গভীর ঝুঁকিতে

এই দুর্ঘটনার বড় ধাক্কা লেগেছে আমাজনের লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট প্রকল্পের ওপর। আন্তর্জাতিক নিয়ম ও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে আমাজনকে তাদের গ্লোবাল ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের জন্য নির্ধারিত মোট স্যাটেলাইটের অন্তত অর্ধেক মহাকাশে পাঠাতে হবে। এই বিশাল সংখ্যার স্যাটেলাইট মহাকাশে পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্ব ছিল নিউ গ্লেন রকেটের ওপর। কিন্তু এই বিস্ফোরণের কারণে আমাজন এখন এক চরম সময়সীমার চ্যালেঞ্জে পড়ল, যা তাদের পুরো স্যাটেলাইট মিশনকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

স্পেসএক্সের একচ্ছত্র আধিপত্য ও বিকল্পের সংকট

বাণিজ্যিক মহাকাশ বাজারে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল ব্লু অরিজিন। তবে এই দুর্ঘটনার ফলে বাজারে স্পেসএক্সের একচ্ছত্র আধিপত্য আরও জোরালো হলো। আমাজন চাইলে বিকল্প হিসেবে স্পেসএক্সের ওপর নির্ভর করতে পারে, তবে সেখানেও রয়েছে বড় সমস্যা। স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের ধারণক্ষমতা নিউ গ্লেনের তুলনায় অর্ধেক। অর্থাৎ, নিউ গ্লেন একবারে যত স্যাটেলাইট নিতে পারত, ফ্যালকন-৯ নিতে পারবে তার অর্ধেক। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব স্যাটেলাইট পাঠাতে হলে মিশনের সংখ্যা অনেক বাড়াতে হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠিন।

নাসার চন্দ্রাভিযানে জটিলতা ও ধীরগতি

ব্লু অরিজিনের এই ধাক্কা শুধু তাদের নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান প্রকল্পকেও জটিল করে তুলেছে। কারণ, নাসার এই চন্দ্রাভিযানের নির্দিষ্ট পেলোড বা যন্ত্রপাতিগুলো নিউ গ্লেন রকেটের গঠন এবং নকশা বিবেচনায় রেখেই তৈরি করা হয়েছিল। এখন রকেট উড্ডয়ন বন্ধ থাকায় সেই পেলোডগুলো অন্য কোনো রকেটে সহজে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। ফলে নাসার পুরো চন্দ্রাভিযান প্রক্রিয়াটি ধীরগতির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেফ বেজোসের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দ্রুততম সময়ে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার আশা প্রকাশ করেছেন। বাজার বিশ্লেষকেরাও মনে করছেন, অতীতে স্পেসএক্সও এমন বড় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়ে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, ব্লু অরিজিনও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সব ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আবার মহাকাশে ডানা মেলবে।

সূত্র: রয়টার্স

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত