২০২৬ বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হচ্ছে যেসব ড্রোন ও ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চলতি ফিফা বিশ্বকাপ। এই আসরে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখবে ৫০ লাখের বেশি দর্শক। সংখ্যার হিসাবে এটি রেকর্ড। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার মাঠের বাইরের নিরাপত্তা এবং নজরদারির ব্যবস্থাও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত ফেস রিকগনিশন—সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের ওপর এক বিশাল এবং নিশ্ছিদ্র নজরদারি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা কাজে লাগিয়ে এই ধরনের আগ্রাসী এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনকারী প্রযুক্তি মোতায়েনের পথ বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থাকে নিয়ে। আইসিইর অস্ত্রাগারে ফেস রিকগনিশন থেকে শুরু করে স্পাইওয়্যারের মতো উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি রয়েছে, যা তারা টুর্নামেন্ট চলাকালীন অভিবাসীদের ওপর ব্যবহার করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এরই মধ্যে ফিফাকে অনুরোধ করেছে, আইসিই কর্মকর্তারা যেন বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়াম, ফ্যান জোন এবং ম্যাচের ভেন্যুগুলোতে ধরপাকড় ও অভিবাসন অভিযান স্থগিত রাখে। ফিফাও টুর্নামেন্ট চলাকালীন অভিযান স্থগিত রাখতে আইসিইর কাছে অনুরোধ করেছে।
এদিকে, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ ১২০টির বেশি সংগঠনের একটি জোট ইতিমধ্যে বিদেশি নাগরিকদের জন্য একটি ‘ভ্রমণ সতর্কতা’ জারি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অতিরিক্ত নজরদারি’ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন এবং ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে। ফোর্টেম টেকনোলজিস যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে ‘মাল্টি-মিলিয়ন ডলার’ চুক্তি করেছে ভেন্যুগুলোতে তাদের কাইনেটিক কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য।
এই কাইনেটিক কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এটি আকাশে অননুমোদিত বা ক্ষতিকর ড্রোনকে সরাসরি আঘাত করে, অকার্যকর করে অথবা মাটিতে নামিয়ে আনতে পারে। মূলত সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা জনবহুল এলাকায় ড্রোনের হুমকি রুখতে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান সেন্ট্রিক্স এবং অ্যাক্সন আকাশপথে ড্রোন শনাক্ত এবং তা নিষ্ক্রিয় করার জন্য ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর কাছ থেকে একাধিক চুক্তি পেয়েছে।
এ ছাড়া মার্কিন ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (এফইএমএ) ম্যাচ আয়োজনকারী ১১টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াকে ড্রোনবিরোধী গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম হিসেবে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ড্রোন প্রযুক্তির জন্য আরও ১১৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তির অনেকগুলো মূলত সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনের রেডিও সিগন্যালকে বাধাগ্রস্ত কিংবা ইন্টারসেপ্ট করে কাজ করে। ফলে এর মাধ্যমে সাধারণ দর্শকদের ফোনের ডেটা চুরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
টুর্নামেন্টে এআই-চালিত নজরদারি ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। বোস্টন স্টেডিয়াম এরই মধ্যে এআই-চালিত ফেস রিকগনিশন চালু করেছে, যার মাধ্যমে নিবন্ধিত দর্শকেরা শুধু মুখের অবয়ব দেখিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ এবং কেনাকাটা করতে পারবেন। মায়ামি ও আটলান্টা স্টেডিয়ামে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কানসাস সিটিও তাদের স্থানীয় বাসে এই প্রযুক্তির ট্রায়াল শুরু করেছে।
ডালাসের আন্তর্জাতিক ব্রডকাস্ট সেন্টারে দুটি এবং নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামে দুটি এআই ক্যামেরা-সংবলিত রোবট কুকুর টহল ও নজরদারির কাজে মোতায়েন করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও দাতব্য সংস্থা প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ক্যাম্পেইন অফিসার ক্লারা লিলি বলেন, বড় বড় ক্রীড়া ইভেন্টে নজরদারির বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বায়োমেট্রিক নজরদারিকে স্বাভাবিক করার একটি মাধ্যম। যেমনটি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও দেখা গিয়েছিল। সেখানে ১৫ হাজারের বেশি ক্যামেরা দিয়ে দর্শকদের ওপর নজর রাখা হয়েছিল।
ফিফার অফিশিয়াল টেকনোলজি পার্টনার লেনোভো প্রতিটি ভেন্যুর একটি ভার্চুয়াল মডেল বা ডিজিটাল টুইন তৈরি করে একটি ইন্টেলিজেন্ট কমান্ড সেন্টার পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রযুক্তি ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান বুজ অ্যালেন হ্যামিল্টন তাদের সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ড্রোন থেকে পাওয়া ডেটা এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তা এবং যানবাহনের লাইভ ট্র্যাকিং একসঙ্গে সমন্বয় করছে।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, অন্য দুই আয়োজক দেশ মেক্সিকো এবং কানাডাও নজরদারির মাত্রা ব্যাপক বাড়িয়েছে।
কানাডার টরন্টো ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নতুন পুলিশ কমান্ড সেন্টার তৈরি করেছে এবং সাবওয়ে কর্মীদের জন্য বডি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করেছে। ভ্যাঙ্কুভার শহরজুড়ে ২০০টি নতুন নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
মেক্সিকোর নুয়েভো লিওন রাজ্যের মন্তেরেই স্টেডিয়ামের চারপাশে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও টহলের জন্য ইতিমধ্যে রোবোটিক সিকিউরিটি কুকুর মোতায়েন করা হয়েছে।
ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের মতো নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষাকারী অলাভজনক সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হলো, সাময়িকভাবে বিশ্বকাপের নিরাপত্তার কথা বলে এই বিশাল নজরদারি অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরও এসব শহরগুলো থেকে সরানো হবে না। যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এসব সামরিক প্রযুক্তি স্টেডিয়ামগুলোকে এক একটি গবেষণাগারে পরিণত করছে, যা পরে সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন চলাফেরা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: উইয়ার্ড

ইন্টারনেটে নিজের নাম লিখে সার্চ করা অনেকের অভ্যাস। একে বলে ভ্যানিটি সার্চ। তবে চেনা অভ্যাসটি এখন আর আগের মতো খাটে না। মানুষ এখন সার্চ ইঞ্জিনের চেয়ে চ্যাটবটের কাছেই কারও পরিচয় জানতে বেশি পছন্দ করছে।
২ ঘণ্টা আগে
সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আপনি কেন ব্যবহার করেন? উত্তরটি খুঁজতে আপনাকে সাহায্য করছি। একদম শুরুর দিকে আপনি চলে যান, সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু হওয়ার মূল উদ্দ্যেশ্য ছিল বন্ধু তৈরি করা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা।
৩ ঘণ্টা আগে
দুর্ভেদ্য ভাবলেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে আইফোনের বেশ কয়েকটি মডেলে—বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গবেষকেরা। অ্যাপলের এ১২ ও এ১৩ বায়োনিক প্রসেসরে চলা মোট ৭টি মডেলে গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতার সন্ধান পেয়েছেন তাঁরা।
৪ ঘণ্টা আগে
বৈদ্যুতিক গাড়ি ও জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বহুল ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির বিকল্প হিসেবে চীনের একটি সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় সফল হয়েছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে কম খরচে এবং সহজলভ্য কাঁচামাল ব্যবহার করে ব্যাটারি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
১৮ ঘণ্টা আগে