
গত মাসে চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে রোবটদের লাফাতে, বক্সিং করতে এবং নাচতে দেখা গেছে। এমনকি কিছু দ্রুতগতির রোবট ১০০ মিটার দৌড়ে উসাইন বোল্টের চেয়েও দ্রুত ছুটেছে। রোবটগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা এবং তাদের মজার ও মিম টেমপ্লেট হওয়ার মতো হোঁচট খাওয়ার দৃশ্য দেখে দর্শকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
গেমস শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিন পর এই প্রদর্শনী থেকে নিজেদের মতো করে শিক্ষা নিয়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। চীনের সামরিক বাহিনীর সরকারি সংবাদপত্র পিএলএ ডেইলি গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, গবেষণাগারে তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত সামরিক প্রশিক্ষণক্ষেত্রে নিয়ে যেতে হবে, যাতে রোবটকে ‘যোদ্ধা’ হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
চীনের প্রতিরক্ষা খাত হিউম্যানয়েড রোবটের সামরিক ব্যবহার নিয়ে গবেষণা দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে এসব রোবট মোতায়েনের পরিকল্পনাও করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ১০০ টিরও বেশি চীনা সামরিক ক্রয়সংক্রান্ত নোটিশ, একাডেমিক গবেষণা, পেটেন্ট, সরকারি প্রকাশনা, সরকারি নথি এবং প্রতিরক্ষা কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য পেয়েছে।
আগে প্রকাশ্যে না আসা এসব নথি থেকে দেখা গেছে, চীনের সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন চাহিদার বিপরীতে হিউম্যানয়েড রোবট পরীক্ষা করছে। একই সঙ্গে রোবট ও তাদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং সেনাদের সঙ্গে এসব রোবট কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়েও গবেষণা করা হচ্ছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এই গবেষণা আরও গতি পেয়েছে। গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে রোবটের চারপাশের পরিবেশ বোঝার ক্ষমতা, বিভিন্ন বস্তু ধরতে ও নাড়াচাড়া করার সক্ষমতা এবং রোবট প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য বা ডেটা তৈরি।
বিওএফএ গ্লোবাল রিসার্চের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী হিউম্যানয়েড রোবটের মোট সরবরাহের প্রায় ৯৫ শতাংশই ছিল চীনা নির্মাতাদের। বাণিজ্যিক বাজারে এই আধিপত্য পিএলএকে দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া একটি শিল্পখাতের সুবিধা দিচ্ছে। একই সঙ্গে চীন নিজের সামরিক প্রয়োজন অনুযায়ী এই প্রযুক্তির ব্যবহারও তৈরি করছে।
চীনের রোবটভিত্তিক প্রতিরক্ষা গবেষণা দেখিয়ে দিচ্ছে, বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তি কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নেভিগেশন ও লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে এমন আধা-স্বয়ংক্রিয় ড্রোন গোয়েন্দা নজরদারি ও হামলার ধরন বদলে দিয়েছে। একই যুদ্ধে রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে সরবরাহ পৌঁছে দিতে এবং আহতদের উদ্ধার করতেও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে বিবেচিত এই যুদ্ধ থেকে চীনের সামরিক বাহিনী কীভাবে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছে, তা নিয়ে এর আগে রয়টার্স প্রতিবেদন করেছে।
এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস–ইউসিএলএর মেকানিক্যাল অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ডেনিস হং বলেন, ‘মানুষকে যেখানে পাঠাতে চাই না, সেখানে যাওয়াই প্রথমে রোবট তৈরি করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি। একটি রোবট হারানোর অর্থ যদি একটি মানুষের জীবন বাঁচানো হয়, তাহলে রোবটকে ব্যবহারযোগ্য বা ত্যাগযোগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।’
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পিএলএর প্রধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি (এনইউডিটি) হিউম্যানয়েড রোবটের সামরিক ব্যবহার নিয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। আর রয়টার্স এমন কোনো প্রমাণও পায়নি যে চীন ইতিমধ্যে অস্ত্রসজ্জিত কোনো হিউম্যানয়েড রোবটকে পিএলএর কোনো কার্যকরী বা সক্রিয় ইউনিটে মোতায়েন করেছে।
বর্তমানে এসব রোবট প্রচুর শক্তি ব্যয় করে এবং নিয়ন্ত্রিত প্রদর্শনীর বাইরে এখনো নির্ভরযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অ্যারন জনসন বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে অনেক ধরনের অনিশ্চয়তা থাকে, যা রোবটের সক্ষমতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
ইতিমধ্যেই আরবান ওয়ারফেয়ার বা নগর যুদ্ধে হিউম্যানয়েড রোবট কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, সে সম্পর্কে চীনের একটি পরিকল্পনা বা ধারণা তৈরি হয়েছে। এই পরিকল্পনায় ছয়টি ‘কমব্যাট রোবট’ থাকবে। এগুলোর মধ্যে থাকবে হিউম্যানয়েড রোবট, রোবট কুকুর অথবা চালকবিহীন যান। এগুলোকে দুটি আক্রমণকারী দলে ভাগ করা হবে। স্থলবাহিনীর সেনাদের সঙ্গে সমন্বয় করে রোবটগুলো শত্রুর দখলে থাকা একটি ভবন তল্লাশি করবে। তারা তলা ধরে, এরপর কক্ষ ধরে ভবনটি পরিষ্কার করবে।
২০২৫ সালের আগস্টে এনইউডিটির শিয়ানভিত্তিক একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের গবেষকেরা প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এই পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। গবেষণায় এমন একটি আরবান অ্যাটাকার বা নগর আক্রমণকারী বাহিনীর মডেল তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে লেখকদের ধারণা অনুযায়ী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে যেসব সরঞ্জাম পাওয়া যেতে পারে, সেগুলো ব্যবহারের কথা ধরা হয়েছিল। তবে গবেষণাপত্রে রোবটগুলোর কখন গুলি চালানোর অনুমতি থাকবে, কী ধরনের অস্ত্র তারা বহন করবে, কিংবা বেসামরিক মানুষের মুখোমুখি হলে তারা কী করবে—সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
তাইওয়ানের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চের গবেষক জুও-মিন চৌ বলেন, ভারসাম্য, পরিবেশ বোঝার ক্ষমতা এবং দীর্ঘ সময় কাজ করার সক্ষমতা উন্নত হলে ভবন, সুড়ঙ্গ ও জাহাজের ভেতরের মতো জায়গায় হিউম্যানয়েড রোবট কার্যকর হতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘তাদের দুই হাত ও দুই পা তাত্ত্বিকভাবে চলাচল, আরোহণ এবং বিভিন্ন বস্তু ধরার সক্ষমতাকে একত্র করতে পারে।’ তবে চৌ বলেন, সহজ ধরনের গোয়েন্দা নজরদারি বা রসদ পরিবহনের কাজে চার পা-ওয়ালা, ট্র্যাকযুক্ত বা চাকার রোবট সাধারণত সস্তা এবং বড় পরিসরে মোতায়েন করাও সহজ হবে।
চীনা সামরিক মহলে হিউম্যানয়েড রোবটের সম্ভাব্য ভূমিকা আরও বিস্তৃত করার কথা বলা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পিএলএ ডেইলিতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়, ভবিষ্যতে হিউম্যানয়েড রোবটের ভূমিকা ‘যুদ্ধে সহায়তা করা থেকে সরাসরি যুদ্ধের প্রধান ভূমিকার দিকে’ এগিয়ে যেতে পারে। নিবন্ধটিতে এমন সম্ভাবনাও আলোচনা করা হয় যে কোনো জীবিত লক্ষ্যকে মানুষ যাচাই করে শনাক্ত করার পর রোবটকে সেই লক্ষ্যবস্তুর ওপর গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
ডিসেম্বরে চীনের পিএলএ ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও মন্তাজ প্রকাশ করে। সেখানে হিউম্যানয়েড ও চার পা-ওয়ালা রোবটসহ বিভিন্ন সামরিক রোবটকে ভবিষ্যতের একটি কাল্পনিক সংঘাতে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরাস্ত করতে দেখা যায়।
তবে যুদ্ধক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের চেষ্টা শুধু চীনই করছে না। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ‘সামরিকীকৃত হিউম্যানয়েড সক্ষমতা’ তৈরির জন্য একটি প্রতিযোগিতা শুরু করে। ভবিষ্যতে এসব রোবট সৈন্যদের সঙ্গে কাজ করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন সেনাবাহিনী সম্ভাব্য কাজ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারি, নিরাপত্তা, বাধা অপসারণ, বিপজ্জনক পদার্থ নিয়ে কাজ এবং নগর এলাকায় আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ করেছে। এ বছর সর্বোচ্চ ১০টি চূড়ান্ত প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তাদের প্রযুক্তি পরীক্ষা করার কথা ছিল। পরবর্তী পর্যায়ের চুক্তির জন্য সর্বোচ্চ ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
তবে দুই পায়ে ও চার পায়ে চলা রোবট তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের রোবট শিল্প চীনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। রয়টার্স গত মাসে জানায়, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ হিউম্যানয়েড ও চার পা-ওয়ালা রোবট নির্মাতা চীনের ইউনিট্রি তাদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া রোবট কুকুরের নকশায় এমন কিছু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ব্যবহার করেছে, যেগুলোর অর্থায়ন করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এই প্রতিবেদনের বিষয়ে পেন্টাগন ও মার্কিন সেনাবাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি।
হিউম্যানয়েড রোবটের সামরিক ব্যবহারে চীনের আগ্রহ ২০২৪ সাল থেকে বাড়তে শুরু করে। সে বছর এনইউডিটি এবং চীনের অ্যাকাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্সেস একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ফোরামের আয়োজন করে। এনইউডিটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ওই ফোরামে হিউম্যানয়েড ব্যবস্থার সামরিক ব্যবহার নিয়ে একটি অধিবেশন ছিল।
এই দুই প্রতিষ্ঠানই রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। এর এক বছর পর এনইউডিটি স্পষ্টভাবে হিউম্যানয়েড রোবটকে যুদ্ধক্ষেত্রের সরঞ্জাম হিসেবে তুলে ধরে। ২০২৫ সালের জুনে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় এমন একটি ইভেন্ট রাখা হয়, যেখানে ‘শত্রুর প্রতিরক্ষা রেখার পেছনে অনুপ্রবেশ’ পরিস্থিতির অনুকরণ করা হয়। এনইউডিটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই পরীক্ষায় রোবটকে একটি এলাকায় প্রবেশ করে সেটির মানচিত্র তৈরি করতে এবং লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করতে হতো।
আরেক পরীক্ষায় রোবটের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই, শৃঙ্খলা পরিদর্শন এবং সামরিক ঘাঁটিতে নিরাপত্তা টহলের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। সামরিক গবেষণাভিত্তিক এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতাটিকে আংশিকভাবে এমন একটি পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করেছিল, যার মাধ্যমে হিউম্যানয়েড রোবটকে শেষ পর্যন্ত ‘যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে নেওয়া’ সম্ভব হবে।
সে সময়ের সামরিক ক্রয়সংক্রান্ত নথিতেও এই চূড়ান্ত লক্ষ্যটির প্রতিফলন দেখা যায়। ২০২৫ সালের মে মাসে পিএলএ একটি হিউম্যানয়েড রোবট কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে রোবট স্থাপন এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর চার মাস পর এমন একটি ক্রয়সংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়, যেখানে যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে এনইউডিটির একটি ই-মেইল দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ‘এম্বডিড হিউম্যানয়েড রোবট ইন্টেলিজেন্ট পারসেপশন অ্যান্ড ডেক্সটেরাস অপারেশন সিস্টেম’ চাওয়া হয়।
তবে এসব নথিতে খুব বেশি বিস্তারিত তথ্য ছিল না। রয়টার্স জানতে পারেনি, এসব দরপত্র শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছিল কি না। পূরণ হয়ে থাকলে কোন কোম্পানি চুক্তি পেয়েছে বা কোন মডেলের রোবট সরবরাহ করা হয়েছে, তাও জানা যায়নি।
চলতি বছরের জুনে পিএলএ হিউম্যানয়েড রোবটের জন্য ক্যামেরা, রাডার ও গতিবিধি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলো শ্রেণিবদ্ধ করার একটি ব্যবস্থার জন্য প্রায় ৩ লাখ ডলার বাজেট নির্ধারণ করে। এই তথ্যের মধ্যে এমন ভূখণ্ডের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেসব জায়গায় রোবট চলাচল করতে পারবে।
এই সামরিক ক্রয়সংক্রান্ত নথির শর্তগুলো দেখায়, চীনের সামরিক আগ্রহ এখন শুধু রোবটের দেহ বা কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং রোবট কীভাবে পরিবেশ বুঝবে, কীভাবে বিভিন্ন বস্তু ধরবে ও পরিচালনা করবে এবং কীভাবে প্রশিক্ষণ নেবে, সেই ব্যবস্থাগুলোর দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা গবেষকেরা মনে করেন, নিয়ন্ত্রিত প্রদর্শনীর বাইরে হিউম্যানয়েড রোবটকে কার্যকর করতে এসব প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের মধ্যে হিউম্যানয়েড রোবটের উন্নয়ন সামরিক একাডেমি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছাড়িয়ে চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর একটি উদাহরণ হলো ফুসি রোবট। এটি তৈরি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নরিনকো। আগস্টে প্রকাশিত কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ আকারের এই হিউম্যানয়েড রোবট পাহারার দায়িত্ব, সব আবহাওয়ায় গোয়েন্দা নজরদারি, বুদ্ধিমান টহল এবং বিপজ্জনক কাজ করার সক্ষমতা রাখে। নরিনকোর টেলিঅপারেশন ব্যবস্থার সঙ্গে ফুসিকে যুক্ত করা যায়। এই ব্যবস্থা ব্যবহার করে একজন মানুষ দূর থেকে হিউম্যানয়েড রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
এর ফলে রোবটকে সব সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। রোবটের ক্ষেত্রে এটিই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে অনেক রোবট বিশেষজ্ঞ মনে করেন।
নরিনকো এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যালকম ডেভিস বলেন, বর্তমানে তিনি হিউম্যানয়েড রোবটকে যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন না। তবে তাঁর মতে, ‘পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তারা অবশ্যই এমন হতে পারে।’
বর্তমানে দূর থেকে পরিচালিত হলেও, ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েনের জন্য তৈরি করা হিউম্যানয়েড ব্যবস্থাগুলোকে একসময় নৈতিক নানা জটিল সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে। যুদ্ধের আইন অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীকে যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। আহত বা আত্মসমর্পণকারী যোদ্ধাদের ওপর হামলা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস সতর্ক করেছে, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের পক্ষে আত্মসমর্পণের সংকেত নির্ভরযোগ্যভাবে বোঝা কঠিন হতে পারে। কারণ আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত অনেক সময় পরিস্থিতি, আচরণ এবং উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের আগে আইনি পর্যালোচনা এবং বাস্তবসম্মত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কমান্ডার ও অপারেটরদের উপযুক্ত বিচার-বিবেচনা করারও প্রয়োজন রয়েছে।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও মার্চ মাসে বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত অস্ত্র অবশ্যই মানুষের নিয়ন্ত্রণের অধীনে থাকতে হবে। তবে এসব উদ্বেগ চীনকে হিউম্যানয়েড রোবটের সামরিক ব্যবহার নিয়ে গবেষণা থেকে বিরত করেনি। চীনের অ্যাকাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্সেসের গবেষক ওয়াং ইয়ংহুয়া নভেম্বরের এক মন্তব্যধর্মী লেখায় বলেন, হিউম্যানয়েড রোবটের চলাফেরা, পরিবেশ বোঝা এবং বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে। তাঁর মতে, হিউম্যানয়েড রোবটকে ব্যাপকভাবে সামরিক ব্যবস্থায় পরিণত করতে হলে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি, উৎপাদন খরচ কমানো এবং শিল্প পর্যায়ে ব্যাপক উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
ওয়াং লিখেছেন, এই শর্তগুলো পূরণ করা গেলে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবটের ঢল নামবে।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন টেক জায়ান্ট গুগলের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পলিসিপ্রধান কাইল গার্ডনার। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়...
১৭ ঘণ্টা আগে
আবারও বড় রকমের ছাটাইয়ের ঘোষণা দিল রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে নিজেদের কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাই করতে যাচ্ছে তারা। এতে চাকরি হারাতে পারেন তিন হাজারের বেশি কর্মী। গতকাল বুধবার কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান উবারের
৪ দিন আগে
২০২৭ সাল নাগাদ রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন কেব্লগুলোর মোট ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা ৪১ হাজার জিবিপিএস হবে বলে জানিয়েছে বিএসসিপিএলসি। কোম্পানিটির দাবি, দেশে এখন আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথের কোনো ঘাটতি নেই। তবে বেসরকারি উদ্যোক্তারা নতুন কেব্ল না এলে সংকটের আশঙ্কা করেছেন...
৫ দিন আগে
৯ সেপ্টেম্বর নতুন প্রজন্মের আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ উন্মোচন করতে পারে অ্যাপল। একই সঙ্গে এবার প্রি-অর্ডারের সূচিতে প্রচলিত রীতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি...
৬ দিন আগে