Ajker Patrika

হ্যাকারদের দৌরাত্ম্য এখন জনপরিসরে

ফিচার ডেস্ক
হ্যাকারদের দৌরাত্ম্য এখন জনপরিসরে

একসময় যা ছিল কম্পিউটার স্ক্রিনের আড়ালে থাকা যুদ্ধ, তা এখন আক্ষরিক অর্থে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থেকে শুরু করে বাড়ির ঠিকানা—সবই এখন হ্যাকারদের নখদর্পণে। ফলে এখন আপনার মনে হতেই পারে, কেউ সারাক্ষণ আপনাকে চোখে চোখে রাখছে! তবে বিষয়টি এখন শুধু ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই যে আপনাকে চিরকুট বা ফোনকলের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা জানিয়ে দেবে। হ্যাকাররা এখন কলকারখানার যন্ত্রপাতিরও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। কারখানার রোবট বা কনভেয়ার বেল্ট হ্যাকারদের রিমোট কন্ট্রোলে চলে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এত দিন আমরা জানতাম, সাইবার অপরাধীরা শুধু তথ্য চুরি কিংবা সিস্টেম লকের পর টাকা দাবি করে। কিন্তু ২০২৫ সালের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। দেখা গেছে, হ্যাকাররা শুধু ডিজিটাল ডেটা নয়, বরং মানুষের জীবন নিয়েই ছিনিমিনি খেলছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর সাইবার হামলার সংখ্যা যেমন রেকর্ড ছুঁয়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সরাসরি শারীরিক ক্ষতির হুমকি। সেম্পেরিসের এক গবেষণা বলছে, বিশ্বজুড়ে হওয়া র‍্যানসমওয়্যার বা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে হ্যাকাররা কর্মীদের শারীরিক আঘাত করার হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৪৬ শতাংশ।

ভয়ংকর বিষয় হলো, এই সাইবার অপরাধীরা নিজেরা সরাসরি হামলা না চালিয়ে সেসব সংঘটন করার জন্য লোক ভাড়া করছে। একে বলা হচ্ছে ভায়োলেন্স অ্যাজ-আ-সার্ভিস। ইন্টারনেটের অন্ধকার জগতে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে লোক নিয়োগ করা হয়। তারা ভিকটিমের জানালার কাচ ভাঙা, বাড়িতে আগুন লাগানো, এমনকি অপহরণ বা গুলি করার মতো কাজও করতে রাজি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হ্যাকারদের বয়স সাধারণত ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তারা সরাসরি ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে পেশাদার অপরাধীদের সাহায্য নিচ্ছে। ফ্রান্সে এমন এক অপহরণের ঘটনায় এক ক্রিপ্টোকারেন্সি মিলিয়নিয়ারের বাবার আঙুল কেটে ফেলার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রার বিনিয়োগকারীরা হ্যাকারদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠছে। এর বড় কারণ হলো সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রচার। অনেকে নিজেদের অর্থনৈতিক সাফল্য বা ক্রিপ্টো ট্রেডিং নিয়ে অনলাইনে খোলামেলা আলোচনা করেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যাডাম মেয়ার্সের মতে, সোনা বা দামি ধাতু যাদের কাছে থাকে, তারা সাধারণত তা নিয়ে ঢাকঢোল পেটায় না। কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারকারীরা অনেক সময় অনুসারী বাড়াতে গিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে।

হ্যাকাররা জানা আছে, ডেটা হারানোর চেয়ে সন্তান বা পরিবারের নিরাপত্তার গুরুত্ব অনেক বেশি। আর এই দুর্বলতাকে পুঁজি করেই সাইবার অপরাধের জগৎ এখন আরও বেশি সহিংস হয়ে উঠছে।

ডিজিটাল জগতের সুরক্ষা এখন আর শুধু পাসওয়ার্ডে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বর্তমানে সরাসরি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার এক বড় চ্যালেঞ্জ। এখন থেকে অনলাইনে নিজের তথ্য শেয়ার করার সময় এবং হ্যাকারদের সঙ্গে লড়াইয়ে নামার আগে আমাদের আরও একবার ভাবার সময় এসেছে।

সূত্র: বিবিসি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত