
টেলিকম খাতের খসড়া গাইডলাইনে যেসব ফি ও চার্জ আরোপ করা হয়েছে, সেগুলোর কারণে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবার খরচ অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। আজ সোমবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল হাকিম এ কথা জানান।
আইএসপিএবি মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে নতুন ও পুরোনো নীতিমালার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে ইন্টারনেটের দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন আমিনুল হাকিম।
তিনি বলেন, ‘নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী ফিক্সড ইন্টারনেটের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নতুন নিয়ম অনুযায়ী ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ওপর নতুন করে রেভিনিউ শেয়ারিং, উচ্চ লাইসেন্স ফি আরোপ সরাসরি ব্রডব্যান্ড প্যাকেজের দাম বাড়াবে। এটি শুধু সাধারণ মানুষের পক্ষেই ক্ষতিকর নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল লাইফস্টাইল এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করবে।’
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অর্থাৎ এফটিএসপি (ফিক্সড টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার) অপারেটরদের ক্রয়মূল্য ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বর্তমানে গ্রাহক ২০ এমবিপিএসের যেই প্যাকেজ ৭০০ টাকায় ব্যবহার করছেন, সেটার মূল্য সাড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হয়ে যাবে।
গাইডলাইন সংস্কার করে এই খরচগুলো কমানোর ব্যবস্থা নিতে দাবি জানান আইএসপিএবির সভাপতি।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আমিনুল হাকিম বলেন, ‘আমি দেশের প্রত্যেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা আমাদের পাশে থাকুন। আমাদের দোষারোপ করবেন না। আমরা আপনাদেরই সেবা দিচ্ছি। এই দাবি বা প্রতিবাদ আপনাদের জন্য, আপনাদের ভবিষ্যতের জন্য।’
সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবির পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলা হয়।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালার আড়ালে মোবাইল কোম্পানিগুলোকে ফিক্সড ওয়্যারলেস একসেস (এফডব্লিউএ) এবং লাস্ট মাইল ফাইবার সংযোগের মাধ্যমে ফিক্সড কানেক্টিভিটি দেওয়ার স্পষ্ট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি দেশীয় এবং নিজস্ব বিনিয়োগে গড়ে ওঠা আইএসপিগুলোর জন্য চরম অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে।
আইএসপিএবি মনে করে, অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধি এবং মোবাইল কোম্পানিগুলোকে ফিক্সড কানেক্টিভিটির সুযোগ দেওয়া দেশীয় বিনিয়োগকে চরম অনিশ্চয়তারমুখে ফেলবে। নতুন খসড়া গাইডলাইনটির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে সাধারণ গ্রাহকের ওপর।
আইএসপিএবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিভিন্ন ফি ও চার্জ আরোপের কারণে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবার খরচ অতিরিক্ত প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে এবং এফটিএসপি অপারেটরদের ক্রয়মূল্য ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
সরকারের নীতিমালার কারণে গ্রামের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদানকারীরা ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে বলে জানান আমিনুল হাকিম।
তিনি বলেন, ‘তিন মাস পরে যে সরকার নির্বাচিত হয়ে আসবে তাদের পক্ষে এই অস্থিরতা সামাল দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। এর ফলে সারাদেশে ডিজিটাল শাটডাউনের শঙ্কা রয়েছে।’
এ অবস্থায় ইন্টারনেট খাতে এখনই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দাবি করেন আইএসপিএবি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব তাদের হাতে ছেড়ে দিন। আমি দেশের সব রাজনৈতিক দলকেও আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি, দয়া করে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুন। জনগণের পাশে দাঁড়ান, এই সেবাখাতকে এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের বাঁচিয়ে রাখুন। তাই, ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণে আমরা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মনে রাখবেন, এই প্রজন্ম চুপ করে থাকবে না। তারা সচেতনভাবে, যথাযথ পথে নিজেদের দাবির পক্ষে এগিয়ে আসবে।’
মোবাইল অপারেটরদের প্রচুর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে দাবি করে আইএসপিএবি মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘বৈষম্য দূর করার স্লোগান দিয়ে এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল। অথচ তাদের কার্যক্রমে আমরা এর প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি না। মোবাইল অপারেটরদের প্রচুর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দেশের স্বার্থের চেয়ে মোবাইল অপারেটরদের স্বার্থ বেশি দেখা হচ্ছে। একইভাবে স্টারলিংককে অন্যায্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দেশীয় ব্রডব্যান্ড সার্ভিস প্রোভাইডারদের লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে ২৫ লাখ টাকা একুইজিশন ফি দিতে হয় ৷ সেখানে স্টারলিংককে একুইজিশন ফি দিতে হয় মাত্র ১২ লাখ টাকা।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টেলিকম খাতের খসড়া গাইডলাইনে লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে আড়াই গুণ এবং বার্ষিক ফি সাড়ে তিন গুণ বাড়বে। এর ফলে গ্রাহক পর্যায়ে ফিক্সড ইন্টারনেটের মূল্য মেট্রোপলিটন শহরে অন্তত ১১ শতাংশ এবং বাইরে ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ বাড়বে। টেলিকম খাতের মতো এই খাতেও ৫ শতাংশ রেভিনিউ শেয়ার এবং ১ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে জমা এবং টেলিকম কোম্পানিকে এফডব্লিউ ও হটস্পট সুবিধা দেওয়ায় এইখাতের ২৭০০ দেশীয় উদ্যোক্তা ঝুঁকিতে পড়বে।
সরকার ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মনে করেন আইএসপিএবির নেতারা। তাঁরা অভিযোগ করেন, ‘গাইডলাইনে জনআকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন আইএসপিএবির সহসভাপতি নেয়ামুল হক খান, যুগ্ম মহাসচিব–১ মাহবুব আলম, যুগ্ম মহাসচিব–২ ফুয়াদ মুহাম্মদ শরফুদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ মঈন উদ্দিন আহমেদ।
আরও খবর পড়ুন:

ক্রীড়াঙ্গনে নারী অ্যাথলেটদের আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এবং স্টেডিয়ামে দর্শকদের ছবি তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দুটি সাম্প্রতিক ঘটনা এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে নারী অ্যাথলেটদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
৩ দিন আগেসকালবেলা অ্যালার্মের কর্কশ শব্দে চোখ মেলা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে বিছানায় শুয়ে শেষ স্ক্রল! এ যুগের মানুষের ২৪ ঘণ্টার রুটিন এখন বন্দী হয়ে গেছে পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চির একটি কাচের স্ক্রিনে। ফেসবুকের নোটিফিকেশন, ইনস্টাগ্রামের রিলস আর ইউটিউব শর্টসের অন্তহীন গোলকধাঁধায় প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে
৬ দিন আগে
ঈদের সময় বড় শহরগুলো যেন অচেনা রূপ নেয়। চিরচেনা যানজটের শহর হয়ে যায় একেবারে ফাঁকা। তবে এই ফাঁকা শহরে ঈদের রাতে আত্মীয়ের বাসায় যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বের হওয়ার সময় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করেন অনেকে। চালকের সংখ্যা সীমিত থাকায় বাস্তবতা হলো, বাইক বা গাড়ি পেতে বেশ ঝক্কিতে পড়তে হয় এ সময়।
৬ দিন আগে
নব্বই বা শূন্য দশকের শুরুর দিকের সেই কোরবানির ঈদের দিনগুলোর কথা মনে আছে? হাটের গরু নিয়ে তুমুল উত্তেজনা কিংবা ঈদের দিন সকাল থেকে মাংস কাটাছেঁড়ার বিশাল ব্যস্ততা। এর মাঝেও আমাদের শৈশবের একটা বড় অংশজুড়ে থাকত ঈদ কার্ড। ঈদের আগের রাতে ড্রয়িংরুমে বসে একদিকে বড়রা যখন মাংস বিলি-বণ্টনের
৬ দিন আগে