
জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশ আড়াই দিনে ইনিংস ব্যবধানে হারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে দ্যুতি ছড়িয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ক্যারিয়ারের ১৯তম ফাইফারের পথে নিয়েছেন ৭ উইকেট। এই বাঁহাতি স্পিনারের নজর এখন অস্ট্রেলিয়া সফরে। আসন্ন সফরে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, ওয়ানডে দলে ফেরার ইচ্ছাসহ আরও কিছু বিষয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন তাইজুল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কারিমুল ইসলাম।
প্রশ্ন: জিম্বাবুয়েতে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশ বাজেভাবে হারলেও আপনি ৭ উইকেট নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে এমন পারফরম্যান্স কতটা আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে?
তাইজুল ইসলাম: এমন পারফরম্যান্স সব সময়ই বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগায়। একই সঙ্গে দল ভালো করলে ভালো লাগাটা আরও বেড়ে যায়। যখন দেখি আমার পারফরম্যান্সে দল জিতেছে, সে সময় বেশি ভালো লাগে। বাইরের কন্ডিশনে এমন পারফরম্যান্স করলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তখন বোঝা যায় যে আপনার যোগ্যতা কতটুকু। তবে আমরা যেহেতু একটা দল হিসেবে খেলি, তাই শুধু নিজের চিন্তা করলেও আবার হয় না।
প্রশ্ন: জিম্বাবুয়েতে টেস্টে ব্যাটাররা চূড়ান্ত ব্যর্থ ছিল…
তাইজুল: দল খারাপ করলে অবশ্যই খারাপ লাগে। সবারই খারাপ লাগে। ব্যাট নিয়ে নামলে আমিও তখন ব্যাটার। যখন রান করতে পারি না, আমারও খারাপ লাগে। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটা টেস্ট দেখে সবকিছু বলে দেওয়া যাবে না। আমরা একটা ভিন্ন কন্ডিশনে খেলেছি। তার আগের দুই ম্যাচ যদি দেখেন, ব্যাটাররা ভালোই করেছে।
প্রশ্ন: ১৯ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন। এবার তো সাকিবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষা...
তাইজুল: তাঁরা (সাকিব) তো আমাদের পথ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। এটা একটা আশীর্বাদ। বিগত দিনে যাঁরা অনেক রান করছেন বা উইকেট পেয়েছেন, আপনি যখন তাঁদের পাশে থাকবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেক ভালো লাগা কাজ করবে। আমরা তাঁদের অনুসরণ করে বাংলাদেশকে ভালো জায়গাতে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তাঁদের মতো বড় মাপের ক্রিকেটারদের ভালোভাবেই অনুসরণ করি।
প্রশ্ন: এতগুলো পাঁচ উইকেটের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে স্মরণীয় কোনটি এবং কেন?
তাইজুল: কখনো এভাবে চিন্তা করিনি। সব পাঁচ উইকেটই আমার জন্য বড় কিছু। তবে কিছু সময় আছে যখন আমি পাঁচ উইকেট নেওয়ায় দল জিতেছে, তখন বেশি ভালো লাগে। শুধু পাঁচ উইকেটই না, আমার দুই উইকেটের জন্যও যদি দল জেতে তখনো ভালো লাগে। আমার কাছে দলের ফলটাই আসল।
প্রশ্ন: টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭০ উইকেটের মালিক আপনি। এই পর্যায়ে এসে নিজের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে কতটা সন্তুষ্ট?
তাইজুল: এটা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। এখন যে জায়গাতে আছি, এখান থেকে আরও উন্নতি করার চেষ্টা করি সব সময়। লম্বা সময় ধরে টেস্ট দলের সঙ্গে আছি, নিজের অর্জনটা একটু একটু করে বাড়ছে। সামনের দিনগুলোতে ভালো লক্ষ্য আছে। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে এটা ভাবতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে যে, দেশের জন্য কিছু করতে পারছি।
প্রশ্ন: একজন স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক পারফর্ম করার রহস্য কী?
তাইজুল: বড় কোনো রহস্য নেই। নিজেকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখার চেষ্টা করি। টেস্ট ক্রিকেট খেলতে গেলে এটা করতেই হবে। একটা প্রক্রিয়ায় থাকতে হয়। এই ধরুন, অনেকক্ষণ ধরে একই জায়গায় বল করার ক্ষমতা থাকতে হবে। অনুশীলনে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করি। টানা এক বা দুই ঘণ্টা বল করি। এসব নিজের শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থাকে। এ ছাড়া বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করি। ধারবাহিকতা ধরে রাখার বিষয় তো আছেই। একজন বোলারের ভেতর এসব থাকা জরুরি।

প্রশ্ন: টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্তকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন...
তাইজুল: শান্ত এখন অনেক পরিণত। সে অনেক দিন ধরে খেলছে। ওর অধীনে দল ম্যাচ জিতছে। খুব ভালোভাবে সব সামলাচ্ছে। দলের যখন যা দরকার বা খেলোয়াড়দের সঙ্গে বোঝাপড়া থেকে শুরু করে অধিনায়ক হতে যা যা লাগে, সব শান্তর মাঝে আছে। ও যেভাবে এগোচ্ছে, ইনশা আল্লাহ সামনেও ভালো কিছু হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সতীর্থদের সঙ্গে ওর যোগাযোগ দারুণ। আশা করি, শান্ত ভালো কিছু করবে।
প্রশ্ন: সামনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই টেস্ট। সেখানকার উইকেট সাধারণত পেসবান্ধব হয়ে থাকে। সেখানে ভালো করার ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
তাইজুল: অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনটা ভিন্ন। সেখানে আপনি সফল হতেও পারেন, আবার নাও পারেন। যেকোনো কিছুই হতে পারে। লক্ষ্য থাকবে নিজের সেরাটা দেওয়ার। সাফল্য তো পরের বিষয়। আগে নিজের কাজটা করে যেতে হবে। চেষ্টা ভালো কিছু করার। অস্ট্রেলিয়ায়ও ভালো করা সম্ভব। তবে এটা সবাই জানে যে অস্ট্রেলিয়ায় পেসারদের জন্য সুবিধা থাকে। উইকেটে ঘাস বা বাউন্স থাকে। এসব বিষয় তো মাথায় আছেই।
প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়া সফরে ভালো করার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
তাইজুল: প্রস্তুতি তো অবশ্যই নিচ্ছি। সিরিজের আগে আরও নিতে হবে। নিজেদের মাঠে সিরিজের আগে এক রকম, বাইরে যাওয়ার আগে আরেক রকম প্রস্তুতি নিতে হয়। সেভাবে এগোচ্ছি। দেখা যাক কী হয়।
প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়া সফরে ব্যক্তিগতভাবে কোনো লক্ষ্য...
তাইজুল: অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে খেলতে গেলে অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করবে। কারণ আমরা সেখানে খুবই কম খেলতে যাই। অস্ট্রেলিয়ার মতো জায়গায় খেলতে গিয়ে দলের জন্য যদি ভালো কিছু করতে পারি, সেটার অনুভূতি আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। দলের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা থাকবে। দলকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি, সে মানসিকতা নিয়েই খেলতে যাব।
প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা কতটা দেখছেন?
তাইজুল: পাকিস্তানের মাটিতে (২০২৪ সালে) আমরা দুটি টেস্ট জিতেছিলাম। দুটি ম্যাচই জিতব, যাওয়ার আগে সেটা ভাবিনি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল ভালো ক্রিকেট খেলব। আপনি তখনই সফল হবেন, যখন ভালো ক্রিকেট খেলবেন। সেটা যে কন্ডিশনেই হোক। জেতার আশা তো করতেই পারেন। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। অস্ট্রেলিয়ায় আমরা জিততে পারব না, তেমন তো কিছু না। সবার আগে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। ভালো ক্রিকেট খেললে ভালো ফলাফল আসবে।

প্রশ্ন: ২০১৭ সালে টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পথে আপনি শেষ উইকেটটা নিয়েছিলেন। আরও একটা অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সামনে রেখে ৯ বছর আগের সেই স্মৃতি কতটা প্রেরণা জোগাচ্ছে?
তাইজুল: দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের সাক্ষী ছিলাম। এটা অন্য রকম একটা মুহূর্ত ছিল আমার জন্য। একটু আগেই যে বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম, অনেক সময় এক উইকেট বা দুই উইকেটও দলের অনেক কাজে লাগে। সে ম্যাচটিতেও সেটাই হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার শেষ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেছি। এটা বড় পাওয়া আমার জন্য। এখন ওদের মাটিতে খেলতে যাব। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়ের ওই উইকেটটা স্বাভাবিকভাবেই আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। সেটা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে কাজে লাগাতে চেষ্টা করব।
প্রশ্ন: ২০ ওয়ানডেতে ৪.৬০ ইকোনমিতে ৩১ উইকেট নিয়েছেন। এরপরও এই সংস্করণে নিয়মিত হতে পারেননি...
তাইজুল: এটা আমার ব্যর্থতা। দল হয়তো আমার কাছে যেটা প্রত্যাশা করে, সেটা দিতে পারিনি। একটা ক্রিকেটারকে যখন নেওয়া হয়, তখন তার কাছে অবশ্যই চাওয়া-পাওয়া থাকে। আপনি যখন চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে পারবেন না, তখন স্বাভাবিকভাবে টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করবে আপনাকে আর দরকার নেই। আমার হয়তো আরও ভালো কিছু করা উচিত ছিল। তাহলে হয়তো ওয়ানডে দলে নিয়মিত হতে পারতাম। অবশ্যই কোথাও ঘাটতি ছিল।
প্রশ্ন: এখনো কি ওয়ানডে দলে নিয়মিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেন?
তাইজুল: অবশ্যই চাই, কেন নিয়মিত হতে চাইব না। এখনো তো সাদা বল থেকে অবসর নিইনি। ভেতরে অবশ্যই কাজ করে যে ওয়ানডেতে আবারও দেশের প্রতিনিধিত্ব করব। ওই দিক থেকে আশাবাদী, যখনই সুযোগ আসবে, ভালো করার চেষ্টা করব। এখনো ওয়ানডে খেলতে চাই। যত দিন ক্যারিয়ার টিকে আছে, এই সংস্করণে ফেরার চেষ্টা করব। হবে কি হবে না, সেটা পরের বিষয়। কিন্তু আমার চেষ্টা থাকবে।
প্রশ্ন: ওয়ানডে দলে জায়গা না পাওয়ার জন্য কি টেস্ট বিশেষজ্ঞ তকমাটাকে দায়ী করতে চান?
তাইজুল: কেউ টেস্ট খেলে বলেই ওয়ানডে খেলতে পারবে না বিষয়টা এমন না। আমরা তো বিপিএল খেলি, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও খেলি। তা ছাড়া আমাকে এমন কিছু বলা হয়নি যে, ওয়ানডে খেলতে পারব না, শুধু টেস্টই খেলতে হবে। ক্রিকেটাররা এমন কোনো লক্ষ্য নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে না। তাদের ভাবনা এমন থাকে না যে, শুধু টেস্টই খেলবে বা শুধু ওয়ানডে খেলবে। আমি বলব আমাদের সংস্কৃতিতে যেকোনো তকমা লাগাটা খারাপ। মানুষ নিজেদের মতো করে ভেবে নেয়।

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছিল ফাইনালের পরের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও স্পেনের ফুটবলারদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। এবার সেই ঘটনার কড়া সমালোচনা করলেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর মতে, ফুটবলে এম
৩১ মিনিট আগে
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছে স্পেন। লা রোজাদের শিরোপা জয়ের রেশ এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে বাজি কাণ্ডে নতুন করে আলোচনায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
১ ঘণ্টা আগে
১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন আর্জেন্টিনার সেন্টারব্যাক নিকোলাস ওতামেন্দি। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় বিদায়ের ঘোষণা দেন তিনি। ৩৮ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফুটবলারের বিদায়ী বার্তায় ছিল তৃপ্তির ছাপ।
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপ ব্যর্থতা কাটিয়ে নতুন করে শুরুর পরিকল্পনায় এগোচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি জার্মানি ও ফ্রান্স। সেই নতুন পথের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন আধুনিক ফুটবলের দুই কিংবদন্তি কোচ—ইয়ুর্গেন ক্লপ ও জিনেদিন জিদান...
১৭ ঘণ্টা আগে