Ajker Patrika

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দলে সুলিভান ভাইদের সতীর্থ

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ১৪: ৩৭
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দলে সুলিভান ভাইদের সতীর্থ
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দলে নতুন মুখ তিনি। ফাইল ছবি

২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে দল ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কোচ হুগো ব্রুস তাঁর ২৬ সদস্যের দলে বড় কোনো ওলটপালট না করলেও রক্ষণভাগ শক্তিশালী করতে ডেকেছেন দুই নতুন মুখ ডিফেন্ডারকে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফুটবলের মহোৎসবে সরাসরি টিকিট পাওয়া ‘বাফানা বাফানা’ শিবিরে অভিজ্ঞতার মিশেল দিতে রাখা হয়েছে ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ প্লেমেকার থেম্বা জোয়ানকে।

বুধবার ঘোষিত এই স্কোয়াডে প্রথমবার ডাক পেয়ে চমক দেখিয়েছেন ২২ বছর বয়সী সেন্টারব্যাক ওলওয়েথু মাখানিয়া এবং ২৫ বছর বয়সী লেফট-ব্যাক ব্র্যাডলি ক্রস। মাখানিয়া যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নে খেলছেন। একই ক্লাবে খেলছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ভাই কুইন ও কাভান সুলিভান। তাছাড়া রোনান ও ডেকলান সুলিভানও ক্লাবটির একাডেমি পর্যায়ে খেলেছেন।

একসময় ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের একাডেমিতে কাটানো ক্রস বর্তমানে খেলছেন স্থানীয় ক্লাব কাইজার চিফসে। বিশ্বকাপের টিকিট কাটার লড়াইয়ে এই দুজনকে দলে দেখা না গেলেও, মূল মঞ্চে রক্ষণভাগ নিশ্ছিদ্র করতেই বেলজিয়ান মাস্টারমাইন্ড ব্রুস তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছেন। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে কাফ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে মামেলোডি সানডাউনসের হয়ে মিস করলেও নিয়মিত লেফট ব্যাক অব্রে মোদিবাকেও বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আক্রমণভাগে দক্ষিণ আফ্রিকার মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন ইংলিশ ক্লাব বার্নলির স্ট্রাইকার লাইল ফস্টার। তবে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের যোগসূত্র তৈরিতে ৩৬ বছর বয়সী থেম্বা জোয়ানের স্কিল, অভিজ্ঞতা ও বল নিয়ন্ত্রণের চতুরতাকে দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কোচ ব্রুস। এবারের বাফানা বাফানা দলে ঘরোয়া লিগের আধিপত্য স্পষ্ট। ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের ১৯ জনই খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় লিগে, যার বড় অংশই এসেছে ঘরোয়া ফুটবলের দুই জায়ান্ট মামেলোডি সানডাউনস এবং অরল্যান্ডো পাইরেটস থেকে।

৭৪ বছর বয়সী কোচ হুগো ব্রুসের জন্য এই বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। তিনি আগেই নিশ্চিত করেছেন, এই বৈশ্বিক আসরের পরই ডাগআউটকে বিদায় জানাবেন। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের হয়ে খেলেছিলেন এই সাবেক ডিফেন্ডার, যেখানে তাঁর দল চতুর্থ হয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে, কোচ হিসেবেও তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ হচ্ছে সেই মেক্সিকোর মাটিতেই।

দল নির্বাচন নিয়ে ব্রুস বলেন, ‘যাদের বাদ দিতে হয়েছে, তাদের জন্য খারাপ লাগবে জানি। কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন ছিল। তবে আশা করি আমি সঠিক খেলোয়াড়দেরই বেছে নিতে পেরেছি।’

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’তে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা আগামী ১১ জুন সহ-স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে মাঠের লড়াই শুরু করবে। এরপর ১৮ জুন আটলান্টায় চেক প্রজাতন্ত্র এবং ২৪ জুন মনটেরিতে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। এর আগে ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০১০ সালে আয়োজক হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নিলেও প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এবার ব্রুসের বিদায়ী মঞ্চে সেই ইতিহাস বদলাতে মরিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: রনওয়েন উইলিয়ামস, রিকার্ডো গস ও সিফো চেইন।

ডিফেন্ডার: খুলিসো মুদাউ, অব্রে মোদিবা, খুলুমানি এনদামানায়, ওলওয়েথু মাখানিয়া, ব্র্যাডলি ক্রস, থাবাং মাতুলুদি, এনকোসিনাথি সিবিসি, কামোগেলো সেবেলেবেলে, ইমে ওকন, সামুকেলে কাবিনি এবং এমবেকেজেলি এমবোকাজি।

মিডফিল্ডার: তেবোহো মোকোয়েনা, জাইডেন অ্যাডামস, থালেন্তে এমবাথা ও স্পেফেলো সিথোল।

ফরোয়ার্ড: অসভিন আপোলিস, সেপাং মোরেমি, এভিডেন্স মাকগোপা, রেলেবোহিলে মোফোকেনগ, লাইল ফস্টার, ইকরাম রেইনার্স, থেম্বা জোয়ান এবং থাপেলো মাসেকো।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত