Ajker Patrika

বিশ্বকাপের জমজমাট উদ্বোধন ছাপিয়ে আলোচনায় সংঘর্ষ-বিক্ষোভ

স্পোর্টস ডেস্ক
আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১৮: ৩০
বিশ্বকাপের জমজমাট উদ্বোধন ছাপিয়ে আলোচনায় সংঘর্ষ-বিক্ষোভ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় আজতেকা স্টেডিয়ামের বাইরে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ভক্তরা। ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকো সিটিতে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ। ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে গানের তালে তালে উৎসবে মেতেছিলেন হাজারো দর্শক। তবে স্টেডিয়ামের বাইরে ছিল ভিন্ন চিত্র। সমর্থকদের ভিড়, ফ্যান জোনে প্রবেশ নিয়ে বিশৃঙ্খলা এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বিশ্বকাপের প্রথম দিনটিকে কিছুটা অস্থির করে তুলেছিল।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে তিনি টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল গান ‘দাই দাই’ পরিবেশন করেন। প্রায় ৮০ হাজার দর্শকে পূর্ণ স্টেডিয়ামে তাঁদের পরিবেশনা ব্যাপক উচ্ছ্বাসের জন্ম দেয়। মাঠে বিশ্বকাপ ট্রফির বিশাল প্রতিরূপ ঘিরে নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা এবং আতশবাজির ঝলক উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মাঠের লড়াইয়েও আনন্দের উপলক্ষ পায় স্বাগতিক মেক্সিকো। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তুলে নেয় সহ-আয়োজকেরা। স্টেডিয়ামের ভেতরে উৎসবমুখর পরিবেশের প্রতিফলন দেখা যায় দর্শকদের প্রতিক্রিয়াতেও। সমর্থক ইনগ্রিড ওরোজকো এএফপিকে বলেন, ‘মেক্সিকোতে তো ইতিমধ্যে উৎসব শুরু হয়ে গেছে।’ আরেক সমর্থক গুস্তাভো রামিরেজের মন্তব্য, ‘অসাধারণ।’

তবে স্টেডিয়ামের বাইরে পরিস্থিতি ছিল অনেকটা ভিন্ন। মেক্সিকো সিটির কেন্দ্রস্থলের সোকালো স্কয়ারে স্থাপিত অফিশিয়াল ফ্যান জোনে ম্যাচ দেখার জন্য হাজারো মানুষ জড়ো হলে প্রবেশপথে তীব্র ভিড়ের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে বসানো ধাতব ব্যারিকেডের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে থাকা এক নগর কর্মকর্তা মেগাফোনে ঘোষণা দেন, ‘ধাক্কাধাক্কি বন্ধ করুন, এখানে শিশুরাও আছে। আপনারা পশুর মতো আচরণ করছেন!’ বিশৃঙ্খলার কারণে অনেক সমর্থক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ৪৯ বছর বয়সী ভিক্টর গোমেজ বলেন, ‘ভেতরে ঢুকতে আমাদের এক ঘণ্টা লেগেছে। পুরো পরিস্থিতি ছিল বিশৃঙ্খল, বের হওয়া ছিল আরও কঠিন। ভেতরে হাঁটারও জায়গা নেই, কিছু দেখা যায় না। আমরা কেবল একেবারে শেষ প্রান্তের ছোট্ট একটি পর্দা দেখতে পেরেছিলাম।’

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ফ্যান জোনের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেছে এবং সমর্থকদের অন্য ভেন্যুতে যাওয়ার অনুরোধ জানায়।

এদিকে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজন এবং ছাত্র আন্দোলনকারীরা সকাল থেকেই স্টেডিয়ামের বাইরে অবস্থান নেন। ম্যাচ শুরুর পর কিছু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কয়েকজন যুবক গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অশ্বারোহী বাহিনী মোতায়েন করে। পরে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত