
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি শুধু গোল কিংবা খেলার মানের জন্য নয়, বরং রেফারি উইলতন সাম্পাইওর কার্ডের ছড়াছড়ির জন্য দীর্ঘদিন ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে। মেক্সিকো সিটির আসতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ছিল এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। ফুটবল বিশ্বকাপের ৮৬ বছরের দীর্ঘ পথচলায় এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখার সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের ম্যাচে ২-০ গোলে মেক্সিকোর জয়ের চেয়েও মাঠের শৃঙ্খলা ও কার্ডের বিতর্কই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো যে ফুটবল খেলেছে, তা ছিল আধুনিক কৌশলের দারুণ প্রদর্শনী। শুরুতেই ‘হাই প্রেসিং’ ফুটবলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলেছিল স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৯ মিনিটে প্রোটিয়া রক্ষণের ভুলে গোল করে কিনিয়োনেস যে সুর বেঁধে দিয়েছিলেন, তাতে পুরো ম্যাচে মেক্সিকোর দাপটই বজায় ছিল। তবে আজকের এই জয়ের সবচেয়ে বড় গল্পটি হয়তো রাউল হিমেনেসের। ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে নিজের গোলখরা কাটানোর যে ব্যাকুলতা তাঁর চোখেমুখে ছিল, ৬৭ মিনিটে জালের ঠিকানা পাওয়ার পর তা অশ্রুতে রূপ নেয়। এই গোলটির মাধ্যমেই মেক্সিকোর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ৪৬ গোল নিয়ে জারেদ বোর্গেত্তির সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন তিনি। চিচারিতোর ৫২ গোলের রেকর্ড এখন আর খুব বেশি দূরে নয়, যা হিমেনেসের বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে।
৫০ মিনিটে স্পেপেলো সিথোলের লাল কার্ড যেন প্রোটিয়াদের ম্যাচে ফেরার সব পথ বন্ধ করে দেয়। ৩২ বছর পর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ডের এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ার ক্ষত তখনো শুকোয়নি।
৬৬ মিনিটে রাউল হিমেনেস গোল করে মেক্সিকোর ব্যবধান ২-০ করেন। এই গোলের পর দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের মধ্যে মেজাজ হারানোর প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ৮৩ মিনিটে মেক্সিকোর আলভারাদোর মুখে আঘাত করে থেম্বা জাওয়ামে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে দলটি ৯ জনের দলে পরিণত হয়।
মাত্র ৯ জনের দল নিয়ে লড়াই করে ম্যাচে টিকে থাকা অসম্ভব ছিল, আর মেক্সিকো সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুরো ম্যাচ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।
তবে সেখানেই নাটকীয়তার শেষ ছিল না। অতিরিক্ত সময়ের ৯৩ মিনিটে মেক্সিকোর সিজার মোন্তেসকেও রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ম্যাচটি একটি ভিন্ন মাত্রা পায়। বিশ্বকাপে একই ম্যাচে তিন লাল কার্ডের ঘটনা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এক নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। রেফারি সাম্পাইওর এমন কড়া সিদ্ধান্তে মোন্তেস নিজেও বেশ হতবাক ছিলেন।
২০১০ সালের বিশ্বকাপে জোহানেসবার্গে এই দুই দলের লড়াই ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ। সেই লড়াই ১-১ ড্র হয়েছিল। কিন্তু আসতেকায় ইতিহাস উল্টে গেছে। জয়ের আনন্দ মেক্সিকোর জন্য কিছুটা ম্লান হয়েছে মোন্তেসের লাল কার্ডের কারণে।

সর্বশেষ ১৯৯৪ সালের ১৬ জুন জার্মানির বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বলিভিয়ার মার্কো এচেভেরি। ঠিক ৩২ বছর পর আজ আসতেকায় সেই তিক্ত স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটালেন সিথোলে।
২ ঘণ্টা আগে
বল পেয়ে যান সুযোগ সন্ধানী কিনিয়োনেস। বক্সের ভেতর ঢুকে দারুণ দক্ষতায় ও ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষকের দুই পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসান কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত এই মেক্সিকান উইঙ্গার। সঙ্গে নিজের নামটা গেঁথে নেন ইতিহাসের পাতায়। ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে গ্যালারিতে বিয়ার হাতে ‘সিয়ে
৩ ঘণ্টা আগে
ভিনদেশি খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে নেওয়া নিয়ে একসময় মেক্সিকান ফুটবলে বেশ বিতর্ক ছিল। তবে মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল—যাঁদের মেক্সিকান জাতীয়তা, ফুটবলীয় দক্ষতা ও দেশের হয়ে খেলার সদিচ্ছা আছে, তাঁদের ‘প্রথম’ বা ‘দ্বিতীয়’ শ্রেণির মেক্সিকান হিসেবে ভেদাভেদ করা হবে না।
৩ ঘণ্টা আগে
এন্ট্রে রিওসের কনকর্ডিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং সান লরেঞ্জো থেকে উঠে আসা সেনেসি মূলত বাঁ পায়ের সেন্টার ব্যাক। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ইংলিশ ক্লাব বোর্নমাউথের হয়ে দারুণ সময় পার করেছেন তিনি। তবে এরপরও স্কালোনির ঘোষিত ২৬ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছিলেন এই ফুটবলার। এবার বালের্দির চোট সুযোগ করে
৪ ঘণ্টা আগে