Ajker Patrika

১৬ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধার করল মোহামেডান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১৯: ২৪
১৬ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধার করল মোহামেডান
বৃষ্টি আইনে আবাহনীকে হারিয়েছে মতিঝিল পাড়ার ক্লাবট। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) শিরোপা জিততে যেন ভুলেই গেছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার পর দেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলল মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি।

লম্বা সময় ধরে ডিপিএলকে যেন নিজেদের অলিখিত সম্পত্তি বানিয়ে নিয়েছিল আবাহনী লিমিটেড। মোহামেডানের ব্যর্থতায় টুর্নামেন্ট হয়ে উঠছিল অনেকটা একপেশে। অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবাহনীর দেয়াল ভাঙল দলটি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ডিএলএস মেথডে ৬৩ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতল মোহামেডান। এর আগে সবশেষ ২০০৯-১০ মৌসুমে ডিপিএলের শিরোপা জিতেছিল দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। অলিখিত ফাইনালে আবাহনীকে হারিয়ে ডিপিএল শিরোপা জেতায় উচ্ছ্বাসটা একটু বেশিই কাজ করছে মোহামেডান শিবিরে।

দশম রাউন্ডে ঢাকা লেপার্ডসের কাছে মোহামেডান হারায় ডিপিএলের শিরোপার লড়াই জমে উঠেছিল। মোহামেডান ছাড়াও শেষ রাউন্ডে শিরোপা জেতার সুযোগ ছিল আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংকের সামনে। ১০ ম্যাচ শেষে তিন দলের সংগ্রহ ছিল সমান ১৬ পয়েন্ট। শিরোপার লড়াইয়ে শেষ রাউন্ড এই তিন দলের জন্য অলিখিত ফাইনালে রূপ নিয়েছিল। যেখানে শেষ হাসি হাসল মোহামেডান। শিরোপার দৌঁড়ে থাকা প্রাইম ব্যাংক বৃষ্টি আইনে লেপার্ডসের কাচে ৯ রানে হেরেছে।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে নিজেদের ইনিংস শেষেই জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে মোহামেডান। পারভেজ হোসেন ইমন ও এনামুল হক বিজয়ের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪০৬ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় মুশফিকুর রহিমের দল। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটা বাংলাদেশি দলগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। সবার ওপরে আছে প্রাইম ব্যাংক। আগের মৌসুমে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৪২২ রান করেছিল তারা।

দলীয় ৩৬ রানে নাঈম শেখের (১১) বিদায়ের পর দ্বিতীয় উইকেট ২৪৮ রানের জুটি গড়ে মোহামেডান। ইমন ১৫০ রান করে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। ১০ চার এবং ১২ ছক্কায় সাজানো তিনে নামা এই ব্যাটারের ১১৬ বলের ইনিংস। তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ফেরার আগে ১১৫ বলে ১১ চার, ৯ ছক্কায় ১৪১ রান এনে দেন বিজয়। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে এটা তাঁর ২৫তম সেঞ্চুরি। তামিম ইকবালকে পেছনে ফেলে লিস্ট ‘এ’-তে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন তিনি।

ইমন-বিজয়ের রান উৎসবের দিনে ৩৩ বলে ৬১ রান করেন আফিফ হোসেন। আনিসুল ইসলামের অবদান ১৬ বলে ৩০ রান। মোহামেডান রান পাহাড় গড়ার দিনে সবচেয়ে বড় ঝড়টা বইয়ে গেছে মেহেরব হোসেনের ওপর। ১ উইকেট পেলেও ১০ ওভার তাঁর খরচ ৮৮ রান। ৯ ওভারে ৭১ রান দেন রাকিবুল হাসান।

বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় রান রেটের সঙ্গে পাল্লা দিলেও বেশ চাপেই পড়ে আবাহনী। ১০ ওভার শেষে ৭৯ রানে ৩ উইকেট হারায় মাহিদুল ইসলামের দল। মেহেরব ফিরলে ১৩৪ রানে ৪ উইকেটের দলে পরিণত হয় আবাহনী। তবে সাব্বির রহমান ও অনিক সরকারের ব্যাটে আশা টিকেছিল। সাব্বির কিছুটা দেখেশুনে ব্যাট করলেও একের পর এক চার-ছক্কায় মোহামেডানের বোলারদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছিলেন অনিক। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বৃষ্টির কারণে ২৪.৪ ওভারে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৭৮ রান করে আবাহনী। ৬৪ বলে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন অনিক। তাঁর সঙ্গী সাব্বির করেন ২৪ রান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত