
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে ব্রাজিলের বিদায় শুধু একটি অঘটন নয়, বরং এটি কৌশলগত ব্যর্থতার এক চরম দৃষ্টান্ত। কার্লো আনচেলত্তির দলের এই হার ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে ফলাফল। টানা ষষ্ঠবারের মতো ইউরোপীয় দলের কাছে নকআউট পর্বে হেরে বিদায় নেওয়ার এই হতাশাজনক ম্যাচটির মূল কারণগুলো পাঁচটি পয়েন্টে বিশ্লেষণ করা হলো—
প্রথমার্ধে আধিপত্য কাজে না লাগানো
ম্যাচের প্রথম ৬৬ মিনিট পর্যন্ত আনচেলত্তির গেমপ্ল্যান বেশ কার্যকর ছিল। নরওয়ের পায়ে বলের দখল বেশি থাকলেও ব্রাজিল ৪-৪-২ ফরমেশনে দারুণ কাউন্টার অ্যাটাক-নির্ভর ফুটবল খেলেছে। রক্ষণভাগে কাসেমিরো ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসরা নরওয়ের মূল অস্ত্র আর্লিং হালান্ডকে পুরোপুরি বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন। প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রায়ান ও মার্তিনেল্লিরা দুর্দান্ত কিছু আক্রমণ শাণান। এমনকি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিক একটি সহজ সুযোগও পেয়েছিলেন। এই সময়ে কৌশলগত দিক থেকে ব্রাজিল স্পষ্টতই নরওয়ের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল এবং ম্যাচটি তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল। আনচেলত্তির আত্মঘাতী পরিবর্তন ম্যাচের চিত্রপট পুরোপুরি বদলে যায় ৬৭ মিনিটে। আনচেলত্তি হঠাৎ রায়ান ও মার্তিনেল্লিকে তুলে নিয়ে নেইমার এবং দানিলো সান্তোসকে মাঠে নামান। হাইড্রেশন ব্রেকের সময় তিনি দলকে সম্পূর্ণ নতুন এবং অপরীক্ষিত ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলার নির্দেশ দেন। নেইমারকে ‘ফলস নাইন’ হিসেবে খেলানো হয়। কিন্তু এই নতুন কাঠামোতে ব্রাজিল তাদের দলের রক্ষণাত্মক জোর হারিয়ে ফেলে। নেইমার নিচে নেমে খেলা তৈরির চেষ্টা করলেও রক্ষণে সহায়তা করছিলেন না, যার ফলে মিডফিল্ডে কাসেমিরো একা হয়ে পড়েন এবং নরওয়ে মাঝমাঠে প্রচুর ফাঁকা জায়গা পেতে শুরু করে।
ডান প্রান্তের দুর্বলতা
নতুন ফরমেশনে এনদ্রিককে রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলানো হয়, যা ব্রাজিলের ডান প্রান্তকে দুর্বল করে দেয়। ক্লাবে এই পজিশনে খেললেও জাতীয় দলে তিনি রায়ানের মতো নিচে নেমে রক্ষণভাগকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হন। ফলে ফুল-ব্যাক দানিলো বারবার নরওয়ের আক্রমণভাগের কাছে একা হয়ে যাচ্ছিলেন। এই সমস্যা সমাধানে ৭৭ মিনিটে এদেরসনকে মাঠে নামানো হলেও তিনি পজিশন নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে ভোগেন। তিনি মাঝমাঠে খেলবেন নাকি ডান প্রান্তে, সেই দ্বিধায় নরওয়ে তাদের আক্রমণ শাণাতে ব্রাজিলের এই অরক্ষিত ডান প্রান্তটিকেই বেছে নেয়।
সুযোগসন্ধানী হালান্ড
ব্রাজিলের কৌশলগতভাবে অগোছালো অবস্থার সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগায় নরওয়ে। ৭৯ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রসে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের তিনটি বড় ভুল চোখে পড়ে—এদেরসন ব্যাকআপ দিতে দেরি করেন, কাসেমিরো জায়গা ছেড়ে দেন এবং ডিফেন্ডার দানিলো ক্রস ব্লক করতে ব্যর্থ হন। ফলে ফাঁকায় থাকা হালান্ড সহজে প্রথম গোলটি করেন। এরপর ৯০ মিনিটে নরওয়ের একটি দ্রুত গোল-কিকে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ পুরোপুরি অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে যায়। আবারও ডিফেন্ডার দানিলোর পজিশনিংয়ের ভুলের সুযোগ নিয়ে হালান্ড নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে নরওয়ের জয় নিশ্চিত করেন।
গভীরতাহীন আক্রমণভাগ
প্রথম গোলটি হজম করার পর ব্রাজিল মরিয়া হয়ে আক্রমণ শুরু করে, কিন্তু তাতে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। শেষ ১০ মিনিটে তারা কেবল এলোপাতাড়ি ক্রস করার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বক্সের ভেতর ন্যাচারাল স্ট্রাইকারের অভাব এবং মিডফিল্ডারদের আক্রমণে যোগ না দেওয়ার কারণে সেই ক্রসগুলো কোনো কাজে আসেনি। ইগর থিয়াগোর মতো স্ট্রাইকার বেঞ্চে থাকলেও তাঁকে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তটি ছিল বিস্ময়কর। এই কৌশলগত ব্যর্থতা শুধু ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেয়নি, বরং ৩৬ বছর পর সবচেয়ে বাজে বিদায়ের পাশাপাশি নেইমারের মতো কিংবদন্তির একটি বিষাদময় বিশ্বকাপ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটিয়েছে।

অনেক দিন ধরেই ছিলেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। অবশেষে হার মানলেন আফগানিস্তানের পেসার শাপুর জাদরান। ৩৯ বছর পূর্ণ হওয়ার এক দিন আগেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
১ ঘণ্টা আগে
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মাইকেল ওলিসেকে দেখানো বিতর্কিত হলুদ কার্ড বাতিলের দাবিতে ফিফার কাছে আপিল করেছে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে ইএসপিএন।
১ ঘণ্টা আগে
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হচ্ছে শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ। সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচ দিয়ে শেষ হচ্ছে শেষ ষোলো পর্ব। একনজরে দেখে নিন টিভিতে কী কী খেলা রয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
মিসরকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না আর্জেন্টিনা। প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি থেকে শুরু করে দলটির খেলোয়াড়দের কথাতেই যেন সেটা স্পষ্ট। শেষ ষোলোর ম্যাচে আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ব্রাজিলের বিদায়ের কথা স্মরণ করিয়ে আরও একবার সতীর্থদের সতর্ক করলেন আলবিসেলেস্তেদের মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস।
২ ঘণ্টা আগে