১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ । যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলছে ৪৮ দল । ‘বিশ্বকাপের দল’ শীর্ষক এই ধারাবাহিকে কোন দল কেমন , সেটি তুলে ধরার প্রয়াস । আজকের পর্বে নেদারল্যান্ডস

ইয়োহান ক্রুইফ, মার্কো ফন বাস্তেন, রুড গুলিত, ডেনিস বার্গক্যাম্প, আরিয়ান রোবেন—চাইলে ডাচ কিংবদন্তি ফুটবলারদের এই তালিকাটাকে অনেক লম্বা করা যায়। বিশ্ব ফুটবলে ছাপ রাখা অনেক ফুটবলারই জন্ম নিয়েছে দেশটিতে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, কখনোই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি নেদারল্যান্ডস।
অথচ বিশ্বকাপে বরাবরই শক্তিধর দল হিসেবে বিবেচিত হয় ডাচরা। নিজেদের সামর্থের প্রমাণ দিয়ে ১৯৭৪, ১৯৭৮ এবং ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালও খেলেছে। কিন্তু একবারও দলটির ভাগ্যে শিকা ছিড়েনি! গতকার কাতার বিশ্বকাপেও সম্ভাবনাময় দল ছিল ডাচরা। উঠেও গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। এই রাউন্ডে টাইব্রেকারে মেসিদের কাছে হেরে হৃদয় ভাঙার হতাশা নিয়ে আরও একবার বাড়ি ফেরেন ডাচরা।
এবার কি বিশ্বকাপে ডানা মেলে ‘কমলা’র সৌরভ ছড়াতে পারবেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং-ভার্জিল ফন ডাইকরা? উত্তরটা সময়ের হাতেই। তবে ‘আমরা পারব’—এমন একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বাদশবারের মতো বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবেন ডাচরা।
ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইয়ে অপরাজিত থেকেই চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে রোনাল্ড কোম্যানের দল। ‘জি’ গ্রুপের ৮ ম্যাচের ৬টিতে জয় এবং বাকি দুটোয় ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে তারা। ৮ ম্যাচে ২৫ গোল করে তারা। হজম করে মাত্র ২টি। এই ফর্মটাকে বিশ্বকাপে ধরে রাখতে চায় ডাচরা। অভিযান শুরুর আগে কোচ রোনাল্ড কোম্যান অবশ্য স্বীকার করে নিচ্ছেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা স্পেনের মতো ফেবারিট নয় নেদারল্যান্ডস। তবে সেটা ভালো না করার কোনো কারণ হতে পারে না বলেই মনে করেন তিনি, ‘মানুষ হয়তো আমাদের বিশ্বকাপের জেতার মতো ফেভারিট হিসেবে দেখছে না। তবে নেদারল্যান্ডসের আসল শক্তি হলো, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি, কারণ সেই সামর্থ্য আমাদের আছে।’
এবার ডাচ দলের শক্তির জায়গা তাদের ডিফেন্স; অধিনায়ক ফন ডাইক ছাড়াও দলটির রক্ষণে আছেন নাথান আকে, মিকি ফন ডে ফেন, জুরিয়েন টিম্বার। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং, রায়ান গ্রাভেনবার্খ, তিজাননি রেইন্ডার্সদের নিয়ে গড়া দলটির মধ্যমাঠও বেশ শক্তিশালী। তবে চোটের কারণে দলটি মিস করবে সম্ভবনাময় ম্যাথিয়াস ডি লিটকে।
বল দখলে রাখা, দ্রুত পাসিং ও আক্রমণাত্মক ট্রানজিশনে ফুটবল সুন্দর হয়ে উঠে ডাচদের পায়ে। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে ইয়োহান ক্রুইফের ‘ক্রুইফ টার্ন’, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডেনিস বার্গক্যাম্পের চোখে মায়াঞ্জণ বুলিয়ে দেওয়া ফিনিশিং কিংবা ২০১৪ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ফন পার্সির ‘ফ্লাইং ডাচম্যান’ হয়ে ওঠা দল ছাপিয়ে বিশ্বকাপেরই এক একটি সুন্দরতম মুহূর্ত। এবারও কি এমন কিছু দেখা যাবে ডাচদের খেলায়?

লুইস ফন গালের অবসরের পর ২০২৩ সালে দ্বিতীয় দফায় ডাচ দলের ডাগআউটে আসেন রোনাল্ড কোম্যান। দীর্ঘ ২৫ বছরের কোচিং ক্যারিয়ার তাঁর। বার্সেলোনা, পিএসভি আইন্দোফেন, আয়াক্স, বেনফিকা, এভারটনের মতো ক্লাবের হয়ে কাজ করেছেন কোম্যান। বল দখলে রেখে ডিফেন্স থেকেই আক্রমণে ওঠার দর্শন তার। বল হারানোর পর দ্রুত প্রেসিং এবং বল পেলেই দ্রুত কাউন্টার—দুই দিকেই গতি ধরে রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা সেন্টার ব্যাক ভার্জিল ফন ডাইক। এবারের বিশ্বকাপে ডাচ দলের রক্ষণকে যে বেশ শক্তিশালী বলা হচ্ছে, সেটি ফন ডাইকের উপস্থিতির কারণে। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি শারীরিক সামর্থ্য, দুর্দান্ত পজিশনিং এবং বল পায়ে আত্মবিশ্বাস। আকাশে বলের লড়াই, ট্যাকটিক্যাল সচেতনতা ও পেছন থেকে আক্রমণ গড়ার দক্ষতায় তিনি অনন্য। মাঠে শান্ত স্বভাব, নেতৃত্বগুণ ও ডিফেন্স সংগঠিত করার ক্ষমতা ফন ডাইককে দলের মানসিক ভরসায় পরিণত করেছে।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহন: ১২ বার
সেরা সাফল্য: রানার্সআপ (১৯৭৪,১৯৭৮ ও ২০১০)
| ম্যাচ | জয় | ড্র | হার |
|---|---|---|---|
| ৫৫ | ৩০ | ১৪ | ১১ |
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | শুরুর সময় (বাংলাদেশ সময়) |
|---|---|---|---|
| ১৪ জুন | জাপান | ডালাস | রাত ২টা |
| ২০ জুন | সুইডেন | হিউস্টন | রাত ১১টা |
| ২৬ জুন | তিউনিসিয়া | কানসাস সিটি | ভোর ৫টা |

২০২৫-২৬ মৌসুম রিয়াল মাদ্রিদের ভক্ত-সমর্থকদের জন্য ছিল ভীষণ হতাশার। লস ব্লাঙ্কোসরা এই মৌসুমে জিততে পারেনি কোনো মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা। তবু সদ্য সমাপ্ত মৌসুম থেকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ উপার্জন করল ‘রয়্যাল মাদ্রিদ’ নামে পরিচিত এই ক্লাবটি।
৫ ঘণ্টা আগে
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আলোচনা যেন শেষ হওয়ার নয়। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ফিফার কাছ থেকে সুবিধা পাওয়া। রেফারির সিদ্ধান্তগুলো বারবার তাদের পক্ষে যাওয়ায় সমালোচনা করেছিলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান, ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোসহ আরও অনেকেই। এবার জানা গেল সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড বিল এমবল
৬ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দল ঘোষণার আগেই নাহিদ রানার ছিটকে যাওয়ার দুঃসংবাদ পায় বাংলাদেশ। গতির ঝড়ে হই চই ফেলে দেওয়া রানাকে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দেখার যে আগ্রহ ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের, তা শুরুতেই শেষ হয়ে যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মিনহাজুল আবেদীন নান
৬ ঘণ্টা আগে
এসইসি হল ৫-এ অনুষ্ঠিত বাউট নম্বর ১০০-এর এই লড়াইয়ে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করেন অস্ট্রেলিয়ান বক্সার ডিকসন। প্রথম রাউন্ডে বিচারকদের সবাই (১০-৯ পয়েন্টে) ডিকসনকেই এগিয়ে রাখেন। দ্বিতীয় রাউন্ডেও একই ধারায় আক্রমণ বজায় রাখেন তিনি। ডিকসনের একের পর এক শক্ত পাঞ্চের মুখে ব্যাকফুটে চলে যান ব্লু কর্নারে থাকা
৭ ঘণ্টা আগে