
ফুটবল বিধাতা বোধহয় সুইডেনের জন্য একদম আলাদা কোনো চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিল। না হলে যে দল বাছাইপর্বের ছয় ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি, কসোভো ও স্লোভেনিয়ার মতো দলের পেছনে থেকে গ্রুপের তলানিতে পড়ে থাকার লজ্জা পেয়েছে, তাদের বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে থাকার কথা ছিল না। কিন্তু নেশনস লিগের গাণিতিক মারপ্যাঁচে পাওয়া এক ‘লাইফলাইন’ আর গ্রাহাম পটারের মগজাস্ত্র—এই দুইয়ের মিলনে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে ব্লগুল্টরা। যা ‘মিরাকল’ বললেও কম বলা হবে।
সুইডেনকে দিয়ে এই রূপকথা লিখিয়েছেন কোচ গ্রাহাম পটার, সেই গল্পের পার্শ্বনায়ক নিশ্চিতভাবেই উয়েফা নেশনস লিগের সেই জটিল সমীকরণ। লিগ ‘বি’ থেকে অবনমিত হওয়ার গ্লানিই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য শাপেবর হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৪-২৫ মৌসুমে লিগ ‘সি’তে আজারবাইজান ও এস্তোনিয়ার মতো দলগুলোর বিপক্ষে সহজ জয় তাদের জন্য প্লে-অফের দরজা খুলে দেয়। কিন্তু সেই ভাঙাচোরা দলকে নিয়ে ইউক্রেন আর পোল্যান্ডের মতো শক্তিশালী বাধা টপকানো ছিল পাহাড় ডিঙানোর সমান। ঠিক তখনই পটার যেন হ্যারি পটারের মতো তাঁর পুরনো জাদুর কাঠি খুঁজে পেলেন। চেলসি,ওয়েস্ট হামে ব্রাত্য হয়ে পড়া এই ইংলিশ কোচ স্টকহোমে ফিরতেই বদলে গেল বাতাবরণ। পটার প্রমাণ করলেন, যে মাটিতে কোচ হিসেবে তাঁর উত্থান, সেই মাটির ফুটবল পালস তিনি অন্যদের চেয়ে ভালো বোঝেন।
মাঠের লড়াইয়ে বদলে যাওয়ার কারিগর ভিক্টর গিয়োকেরেস। আলোচিত এই স্ট্রাইকার ইউরোপিয়ান প্লে-অফে দেখিয়েছেন কেন তাঁকে নিয়ে বড় দলগুলো কাড়াকাড়ির খেলায় মেতেছিল। ইউক্রেনের জালে হ্যাটট্রিক কিংবা পোল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের সেই বুক চেরা গোল—গিয়োকেরেস এখন সুইডেনের নতুন জেনারেশনের আইকন। তাঁর সঙ্গে আলেক্সান্দার ইসাকের ক্ষিপ্রতা আর লুকাস বার্গভালের মতো প্রতিভানদের মিশেলে সুইডেন এমন এক দল, যারা যেকোনো বড় প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিতে পারে। বাছাইপর্বের সেই নড়বড়ে রক্ষণ আর দিশাহীন মাঝমাঠ এখন পটারের অধীনে অনেক বেশি সুসংহত এবং আত্মবিশ্বাসী।
বিশ্বকাপের মূল লড়াই হবে আরও কঠিন। ‘এফ’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া, জাপানের মতো দলগুলোর বিপক্ষে কেবল ভাগ্য আর নিয়মের জোরে পার পাওয়া যাবে না। সেখানে প্রয়োজন হবে সেই নিখুঁত ফুটবল, যা তারা প্লে-অফের দুই ম্যাচে দেখিয়েছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আমেরিকান মাটিতে সুইডেনের অভাবনীয় তৃতীয় হওয়ার স্মৃতি এখনো দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের মনে অমলিন। ৩২ বছর পর আবার সেই একই দেশে ফিরছে তারা, তবে এবার তকমাটা ‘আন্ডারডগ’ হলেও তাদের শক্তিমত্তা কোনো অংশেই কম নয়। বাছাইপর্বের কলঙ্ক মুছে ফেলার যে জেদ এই দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে, সেটিই হতে পারে বিশ্বকাপে তাদের প্রধান অস্ত্র।
পটার আর সুইডেন—উভয়েই যখন নিজেদের হারানোর কিছু নেই বলে ধরে নিয়েছিলেন, ঠিক তখনই তারা একে অপরের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে ফিরলেন। এখন দেখার বিষয়, এই রূপকথা গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে আরও বড় কোনো চমক উপহার দেয় কি না।

২০২৫ সালের অক্টোবরে সুইডেনের কোচের দায়িত্ব নেওয়া গ্রাহাম পটারের জন্য একপ্রকার ‘ঘরে ফেরা’। এর আগে তিনি চতুর্থ স্তরের ক্লাব অস্টারসুন্ডকে সুইডিশ কাপ জেতানোসহ ইউরোপা লিগে তুলে বেশ নাম কুড়িয়েছিলেন। এরপর ইংল্যান্ডে ব্রাইটন ও চেলসির মতো ক্লাবেরও দায়িত্ব নেন। সুইডিশ ভাষায় দক্ষ পটার শুরুতে অস্থায়ী কোচ থাকলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপের প্লে-অফের আগে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হন। তাঁর অধীনেই ইউক্রেন ও পোল্যান্ডকে হারিয়ে নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় সুইডেন।

বাছাইপর্বের ভরাডুবিতে ক্ষুব্ধ ছিলেন ভিক্টর গিয়োকেরেস। চার মাস পরেই তিনি হয়ে ওঠেন সুইডেনকে বিশ্বকাপে পাঠানোর নায়ক। পোল্যান্ডের বিপক্ষে প্লে-অফ ফাইনালের ৮৮ মিনিটে করা তাঁর অবিশ্বাস্য গোলটিই সুইডেনকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেয়। আর্সেনালের এই স্ট্রাইকার পুরো ম্যাচে অনেকটা সময় নিষ্প্রভ থাকলেও চাপের মুহূর্তে নিজের জাত চেনান। বুক দিয়ে বল নামিয়ে সরাসরি পোলিশ জালে জড়ানো সেই গোলের পর তিনি উল্লাসে ফেটে পড়েন। ইউক্রেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ দুই ম্যাচে তাঁর চার গোল সুইডেনকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেয়।
| ম্যাচ | জয় | ড্র | হার |
|---|---|---|---|
| ৫১ | ১৯ | ১৩ | ১৯ |
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | শুরুর সময় (বাংলাদেশ সময়) |
|---|---|---|---|
| ১৫ জুন | তিউনিসিয়া | মন্তেরে | সকাল ৮টা |
| ২০ জুন | নেদারল্যান্ডস | হিউস্টন | রাত ৮টা |
| ২৬ জুন | জাপান | ডালাস | ভোর ৫টা |

বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপে ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়েছে ঘানা। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ক্যালেব ইরেনকির করা একমাত্র গোলে পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকার দলটি।
১৪ মিনিট আগে
টুখেলের সেই চালেরই চূড়ান্ত ফসল আসে ৮৫ মিনিটে। ডান প্রান্ত দিয়ে বুকায়ো সাকার নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ডিফেন্ডারকে বোকা বানান মার্কাস রাশফোর্ড। এরপর লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে তার নেওয়া নিখুঁত বাঁকানো শটটি যখন জাল ছুঁল, ক্রোয়েশিয়ার ফেরার সব পথও তখন বন্ধ হয়ে যায়। এই ৪-২ গোলের জয় প্রথম ম্যাচে টুখেলকে য
৪ ঘণ্টা আগে
ম্যাচ শুরুর খানিক আগে দৃশ্যটা দেখা গেল। বন্ধু সার্জিও আগুয়েরো ডাগআউটের কাছে ব্যস্ত ছিলেন টিভি শো নিয়ে। গা গরম শেষে মেসি এগিয়ে এলেন, বন্ধুকে ভালোবাসা জানালেন। এ দৃশ্যে করতালির শব্দ ভেসে এল কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের পরিপূর্ণ গ্যালারি থেকে।
৫ ঘণ্টা আগে
এক পাশে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আরেকটি বিশ্বকাপ রাঙানোর মিশন, আরেক পাশে ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ডিআর কঙ্গোর অস্তিত্বের লড়াই। ডালাসের মাঠে শক্তির বিচারে পর্তুগাল যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও মাঠের ফুটবলে তার ন্যূনতম প্রতিফলন মিলল না। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট বোতলবন্দী করে রাখার
৭ ঘণ্টা আগে