Ajker Patrika

কারখানার শ্রমিক থেকে বিশ্বকাপে জার্মানির জয়ের নায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ১৮: ৪৩
কারখানার শ্রমিক থেকে বিশ্বকাপে জার্মানির জয়ের নায়ক
দুর্দান্ত ফর্মে আছেন উন্দাভ। সবশেষ ম্যাচে আইভোরি কোস্টের বিপক্ষে জার্মানির হয়ে দুটি গোলই করেছেন তিনি। ছবি: এএফপি

এক সময় জার্মানির কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের প্রকাশ্য সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ডেনিজ উন্দাভ। কয়েক মাসের ব্যবধানে এই ফরোয়ার্ড এখন উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপে জার্মানির অন্যতম বড় ভরসার নাম। অথচ একটা সময় জীবিকার তাগিদে কারখানায় কাজ করতে হয়েছে তাঁকে।

আইভোরি কোস্টের বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে জার্মানি। সেই জয়ের নায়ক উন্দাভ। বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করে দলকে নকআউট পর্বে তুলেছেন ২৯ বছর বয়সী ফুটবলার। ২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠতে পারল জার্মানরা।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে তিন গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করেছেন উন্দাভ। অর্থাৎ পাঁচটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে এটি যৌথ সর্বোচ্চ গোল-অবদানের রেকর্ড। ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলাও একই কীর্তি গড়েছিলেন।

অথচ বিশ্বকাপের কয়েক মাস আগেও জার্মানির দলে জায়গা নিশ্চিত ছিল না উন্দাভের। মার্চে ঘানার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করার পর শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। সেই মন্তব্যের জবাবে নাগেলসমান বলেছিলেন, উন্দাভ নিজের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করছেন।

এমনকি জার্মান কোচ মন্তব্য করেছিলেন, শুরু থেকে খেললে হয়তো গোলই করতে পারতেন না উন্দাভ। পরে অবশ্য এ মন্তব্যের জন্য এই ফরোয়ার্ডের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন নাসেলসমান। উন্দাভ অবশ্য সমালোচনার জবাব দিয়েছেন মাঠের পারফরম্যান্সেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাত্র ১১ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৯। বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে তাঁর জায়গা পাওয়ার দাবিটাও জোরালো হয়ে উঠেছে।

উন্দাভের বর্তমান অবস্থান বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে তাঁর সংগ্রামের দিনগুলোয়। ১৪ বছর বয়সে ভের্ডার ব্রেমেন জানিয়ে দিয়েছিল, তাঁকে ভবিষ্যৎ নেই ক্লাবটিতে। বেলজিয়ান গণমাধ্যম সেভেনসুরসেভেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা স্মরণ করে উনদাভ বলেন, ‘১৪ বছর বয়সে যখন ভের্ডার আমাকে বলেছিল যে আমি খুব খাটো। তাদের পরিকল্পনায় আমার কোনো ভবিষ্যৎ নেই—তখন আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল।’

তবে স্বপ্ন ছাড়েননি উন্দাভ। ১৭ বছর বয়সে জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হাভেলসেতে যোগ দেন। ফুটবলের পাশাপাশি একটি কারখানায় লেজার মেশিন পরিচালনার কাজও করতেন। উনদাভ বলেন, ‘ভোর চারটার দিকে ঘুম থেকে উঠতাম, কারখানায় যেতাম। তারপর অনুশীলনে অংশ নিতাম। রাত আটটার দিকে বাসায় ফিরতাম। পরদিন আবার একই রুটিন। বেঁচে থাকার জন্যই সেই চাকরি করতে হতো। কারণ শুধু ফুটবল থেকে পাওয়া অর্থে জীবন চালানো সম্ভব ছিল না।’

সেই সংগ্রাম থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসেন উন্দাভ। ২০২০ সালে বেলজিয়ামের ইউনিয়ন সাঁ-জিলোয়াজে যোগ দিয়ে দলকে শীর্ষ লিগে তুলতে ভূমিকা রাখেন। পরে প্রথম বিভাগে ২৫ গোল করে সুযোগ পান ব্রাইটনে। যদিও প্রিমিয়ার লিগে প্রথম মৌসুমটা খুব একটা ভালো যায়নি। এরপর স্টুটগার্টে যোগ দিয়ে আবার নিজেকে ফিরে পান উন্দাভ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১৯ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় হ্যারি কেইনের পরেই ছিলেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সই তাঁকে বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে দেয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত