Ajker Patrika

‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে বড় কিছু নেই’

ক্রীড়া ডেস্ক    
‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে বড় কিছু নেই’
ফ্রান্সের হয়ে শেষবারের মতো বিশ্বকাপের ডাগআউটে দেখা যাবে দেশমকে। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী হলেও সতর্ক অবস্থানেই আছেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম। বিশ্বকাপের আগে ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতির সঙ্গে অন্য কোনো অর্জনের তুলনা চলে না। অতীতের সাফল্য ভুলে দেশমের পুরো মনোযোগ এখন সামনের দিকে।

দেশমের কোচিংয়ে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ফ্রান্স। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল ফরাসিরা। ফিফাকে এই কোচ বলেন, ‘আমি শুধু আজ আর আগামীকাল নিয়েই ভাবি, আমি এমনই। সত্যি বলতে, এর বাইরে আর কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার পুরো মনোযোগ সামনে কী আছে, সেদিকে।’

১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে এবং ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতির প্রসঙ্গ টেনে দেশম বলেন, ‘১৯৯৮ আর ২০১৮ সালের স্মৃতিগুলো সব সময় আমার সঙ্গে থাকবে, কিন্তু অতীত বদলানো যায় না। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো সামনে আমরা কী করি। ১৯৯৮ আর ২০১৮ সালে আমার ভূমিকা আলাদা ছিল, কিন্তু আমি দুই সময়ই সেখানে ছিলাম। দুটি অভিজ্ঞতাই ছিল অবিশ্বাস্য রকমের জাদুকরী।’

ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্য পাওয়া দেশমের কাছে বিশ্বকাপের মর্যাদা অন্য সব কিছুর ঊর্ধ্বে। তিনি বলেন, ‘ক্লাব ফুটবলে আমি অনেক ট্রফি জিতেছি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগও জিতেছি। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে বড় কিছু নেই। আপনার নাম একই থাকে, তবে তার সঙ্গে চিরদিনের জন্য দুটি শব্দ যুক্ত হয়ে যায়—‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’।’

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে শেষবারের মতো বিশ্বকাপে যাচ্ছেন দেশম। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই টুর্নামেন্টে যাচ্ছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। তবে প্রত্যাশার চাপ যে রয়েছে, তা স্বীকার করেছেন দেশম, ‘আমাদের ফলাফলই প্রত্যাশার মাত্রা বাড়িয়েছে। ২০১৮ সালে আমরা ট্রফি জিতেছি, ২০২২ সালে ফাইনালে উঠেছি। তাই সমর্থকেরা স্বাভাবিকভাবেই আশা করেন জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়েও ফ্রান্স লড়াইয়ে থাকবে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা আছে—এমন ১০ থেকে ১২টি দেশের মধ্যে আমরা একটি। কিন্তু জানেন শেষ পর্যন্ত কয়টি দল চ্যাম্পিয়ন হবে? মাত্র একটি। অর্থাৎ অন্তত ১১টি দেশ হতাশ হবে।’

গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচ সেনেগালের বিপক্ষে। ম্যাচটি ফিরিয়ে আনছে ২০০২ বিশ্বকাপের স্মৃতি, যখন শিরোপাধারী ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল সেনেগাল। তবে দেশম অতীতের সেই হারকে বর্তমানের সঙ্গে মেলাতে নারাজ, ‘তখন আমার বর্তমান খেলোয়াড়দের বেশিরভাগই জন্মায়নি, কিংবা এত ছোট ছিল যে কিছুই বোঝার মতো বয়স হয়নি। খেলাধুলায় প্রতিশোধ বলে কিছু নেই। ওটা এখন ইতিহাস। এটি নতুন একটি অধ্যায়। সেনেগাল আফ্রিকার অন্যতম সেরা ফুটবল জাতি।’

সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচে আক্রমণভাগ নিয়ে আশাবাদী দেশম। উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিজে ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকারা রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। তবে দলে প্রতিভার আধিক্য থাকলেও সঠিক সমন্বয়ের গুরুত্বই বেশি দেখছেন ফরাসি কোচ, ‘তাদের সবাইকে তো একসঙ্গে খেলানো সম্ভব নয়। সম্ভাবনা অনেক, কিন্তু আমাদের সঠিক সমন্বয় খুঁজে বের করতে হবে। ব্যক্তিগত অহম যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। আমাদের দরকার ভারসাম্য, আর সবচেয়ে বেশি দরকার একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়া ও কার্যকর জুটি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত