Ajker Patrika

বদলে যাওয়া জাপানই এখন ব্রাজিলের মাথাব্যথার কারণ

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ১৪: ০২
বদলে যাওয়া জাপানই এখন ব্রাজিলের মাথাব্যথার কারণ
পরিসংখ্যানে জাপানের চেয়ে বেশ এগিয়ে ব্রাজিল। এরপরও সেলেসাওদের সামনে বেশ কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে। জাপানকে হারাতে নিজেদের সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে আনচেলত্তির শিষ্যদের। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ জাপান। ইতিহাস বলছে, এই লড়াইয়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তবে অতীতের পরিসংখ্যান এবার খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না তাদের। গত আট বছরে ধারাবাহিক উন্নতির পথে হাঁটা জাপান এখন বেশ পরিণত, সংগঠিত এবং আত্মবিশ্বাসী একটি দল। তাই নকআউটে কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে ব্রাজিলের সামনে।

আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে জাপানের বিপক্ষে খেলতে নামবে ব্রাজিল। গ্রুপ ‘ই’-তে সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে সেরা ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে জাপান। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে উঠেছে ব্রাজিল। দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যান কথা বলছে ব্রাজিলের পক্ষেই। ১৪ দেখায় সেলেসাওদের জয় ১১টি, ড্র দুটি। জাপানের একমাত্র জয়টি এসেছে সবশেষ সাক্ষাতে, গত বছরের অক্টোবরে টোকিওতে হওয়া প্রীতি ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দলটিকে হারিয়েছে তারা।

সেই ম্যাচে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে খেলতে নেমে প্রথমার্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। পাওলো হেনরিকে ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে এগিয়ে থাকার পরও দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় জাপান। ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের ভুল ও ছন্দপতনের সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছিল এশিয়ার দলটি। সেই হার ব্রাজিলকে যেমন সতর্ক করেছে, তেমনি জাপানের সামর্থ্যও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

২০১৮ সাল থেকে হাজিমে মোরিয়াসুর অধীনে খেলছে জাপান। এই সময়ে দলটি গড়ে উঠেছে উচ্চগতির, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আক্রমণাত্মক একটি ইউনিট হিসেবে। প্রতিপক্ষের ওপর শুরু থেকেই তীব্র চাপ সৃষ্টি করা এবং দ্রুতগতির আক্রমণ গড়ে তোলাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ব্রাজিলের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা, কারণ সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচে এমন চাপ সামলাতে সমস্যায় পড়েছে তারা।

রক্ষণেও বেশ গোছানো জাপান। তিন সেন্টার-ব্যাক ও দুই উইং ব্যাকের সমন্বয়ে গড়া তাদের ডিফেন্সিভ কাঠামো প্রতিপক্ষের জন্য জায়গা তৈরি করা কঠিন করে তোলে। যদিও আকাশপথের বল সামলানো এখনো দলটির অন্যতম দুর্বলতা।

চোটের কারণে কাওরু মিতোমা, তাকুমি মিনামিনো ও অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ছাড়াই বিশ্বকাপে খেলছে জাপান। তবে দলগত শক্তির জোরে সেই শূন্যতা ভালোভাবেই সামাল দিয়েছে। বিশেষ করে স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদা দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন তিনি।

টানা ১০ ম্যাচ ধরে অপরাজিত জাপান। সর্বশেষ তারা হেরেছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। এরপর সাতটি জয় ও তিনটি ড্র করেছে দলটি। এই সময়ে ব্রাজিলকে হারানোর পাশাপাশি ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও জয় তুলে নিয়েছিল জাপান। এবারের বিশ্বকাপেও কঠিন একটি গ্রুপ থেকে সফলভাবেই নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে তারা।

মজার বিষয় হলো, গত দুটি বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল জাপানের সামনে। ২০১৮ সালে শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে হারে তারা, পরে সেই বেলজিয়ামই কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় করে ব্রাজিলকে। আবার ২০২২ সালে স্পেন ও জার্মানিকে হারিয়ে গ্রুপসেরা হলেও শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে যায় জাপান। এরপর টাইব্রেকারে ব্রাজিলকে বিদায় করেছিল একই দল।

এবার আর কোনো সমীকরণ নয়। বিশ্বকাপের মঞ্চেই সরাসরি মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও জাপান। অতীতের পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষে থাকলেও বর্তমানের জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত