Ajker Patrika

ফাইনালে মেসির সঙ্গে কথাবার্তা নিয়ে মুখ খুললেন সেই রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৪: ১৭
ফাইনালে মেসির সঙ্গে কথাবার্তা নিয়ে মুখ খুললেন সেই রেফারি
ফাইনালে স্লাভকো ভিনচিচের সঙ্গে কথা হয়েছে লিওনেল মেসির। ছবি: সংগৃহীত

৪৮ দলের বিশ্বকাপ, ৩৯ দিনের টুর্নামেন্ট, ১০৪ ম্যাচ—সংখ্যা দেখে যেমন অনুমান করা যাচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের বিশালতা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ এতটাই ঘটনাবহুল ছিল যে আলোচনা সহজে থামার নয়। ঘুরেফিরে আলোচনার বিষয়বস্তু আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে কথা হচ্ছে বারবার।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে রেফারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন স্লাভকো ভিনচিচ। গতকাল স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তে তাঁর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি যে ব্যাপারে আলোচনা হয়, সেটা হলো মেসির সঙ্গে তাঁর (ভিনচিচ) কথোপকথন। স্লোভেনিয়ান রেফারি বলেন, ‘মেসির সঙ্গে আমার কী কথা হয়েছে? সেটা মাঠেই থাকুক। তবে আমি বলতে পারি, সে দারুণ ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে এবং পুরো ম্যাচজুড়ে তার আচরণ ছিল সম্পূর্ণ সঠিক।’

শুধু স্পেনের ১-০ গোলের জয়ই নয়, নিউজার্সির ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল খেলোয়াড়দের আচরণের কারণে বেশি আলোচিত হয়েছে। জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনসো ফের্নান্দেস। যেখানে ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩ মিনিটে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে ফাউল করায় ফের্নান্দেস পান দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। এ ছাড়া লেয়ান্দ্রো পারেদেস ম্যাচেই একটা হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। শেষ মুহূর্তে স্পেনের দুই ফুটবলার এরিক গার্সিয়া ও গাভির গলা চেপে ধরার ঘটনায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছিলেন পারেদেস। যা পরিণত হয় লাল কার্ড। যদিও পরে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

ভিনচিচের মতে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া একটু ভিন্ন রকম থাকেই। স্লোভেনিয়ান রেফারি বলেন, ‘এটা বিশ্বকাপের ফাইনাল। এমন ম্যাচে খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন হয়। ম্যাচটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অনেক কিছুই বুঝে নিতে হয়। ম্যাচ শেষে আমাদের রেফারিং নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তাতেই প্রমাণ হয় যে নিজেদের দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করেছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের রেফারিং কৌশল সঠিক ছিল।’

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচের ফল বের করা সম্ভব হয়নি। ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেস যে দুর্দান্ত গোল করেছেন, সেটা ঠেকানোর সাধ্য ছিল না এমিলিয়ানো মার্তিনেসের। যদিও এর আগে মার্তিনেস স্পেনের অনেক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তোরেসের গোলেই নির্ধারিত হয় স্পেনের শিরোপা। ফাইনাল ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ভিনচিচ বলেন, ‘যখন আপনার পুরো রেফারিং ক্যারিয়ারের মূল্যায়ন একটি মাত্র ম্যাচের ওপর নির্ভর করে, তখন দায়িত্বটা অনেক বেড়ে যায়। আমি জানতাম যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ম্যাচটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা। কখন খেলা থামাতে হবে এবং কখন খেলা চলতে দিতে হবে, সেটিই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।’

রেফারির সঙ্গে মেসির তর্কের এক ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় বিশ্বকাপের সময়ই। কানসাসে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথমার্ধে রেফারি জোয়াও পেদ্রো সিলভা পিনেইরোর সঙ্গে আর্জেন্টাইন তারকার অনেকবার কথা কাটাকাটি হয়েছে। রেফারির দিকে আঙুল উঁচিয়ে মেসি বলেন, ‘আমাকে সম্মান দেখিয়ে কথা বলুন।’ আর ফাইনালে মেসির সঙ্গে কথোপকথন নিয়ে ভিনচিচ কিছু না বললেও বুঝিয়ে দিয়েছেন, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের আচরণে তিনি অসন্তুষ্ট নন। মেসি তো নয়ই, এমনকি আর্জেন্টিনার কোনো ফুটবলার ফাইনালের রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেননি।

সদ্য সমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। সব মিলিয়ে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার করেছেন ১২ অ্যাসিস্ট। দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপে ছিল ৮ অ্যাসিস্ট। সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে ২১ গোল করে দুইয়ে মেসি। এই তালিকায় সবার ওপরে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল ২২।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের বাধাগুলো মেসির বীরত্বেই পার করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ফাইনালে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে একরকম নিষ্প্রভ দেখা গেছে। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধার করে স্পেন। হারের পর নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আবেগঘন এক বার্তাও দিয়েছিলেন। এবার গোল্ডেন বলের পুরস্কার না জিতলেও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকসের (আইএফএফএইচএস) চোখে সেরা খেলোয়াড় মেসি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত