Ajker Patrika

গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টে বিদায় রাঙালেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক    
গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টে বিদায় রাঙালেন মেসি
বিদায় বেলায় এক গোল ও জোড়া অ্যাসিস্ট করেছেন লিওনেল মেসি। ছবি: এএফএ

কিছু রাত শেষ হয়েও শেষ হয় না। ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর রাতটাও তেমন আর্জেন্টিনার জন্য তেমন। বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে ৮৫ হাজারের বেশি মানুষের সামনে লিওনেল মেসি শেষবারের মতো পরলেন আর্জেন্টিনার জার্সি। ২১ বছর এক মাস ২০ দিনের দীর্ঘ পথচলার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। আর বিদায়ের সেই রাতে মেসি উপহার দিলেন এমন এক সমাপ্তি, যা হয়তো তিনি নিজেও মনে রাখতে চাইবেন। আর্জেন্টিনা জিতেছে ৩–০ গোলে, বেনিনের বিপক্ষে গোলের খাতায় নিজে নাম লেখার পাশাপাশি করেছেন জোড়া অ্যাসিস্টও।

ম্যাচ শুরুর আগেই বোঝা গিয়েছিল, এটি শুধু আরেকটি প্রীতি ম্যাচ নয়। পুরো মনুমেন্তাল যেন পরিণত হয়েছিল মেসিকে ঘিরে এক বিশাল স্মৃতির মাঠে। গ্যালারিতে নীল-সাদা ঢেউ, মেসির ১০ নম্বর জার্সি, গান, করতালি আর চোখের জলে বারবার ফিরে আসছিল তাঁর দুই দশকের গল্প। মাঠে নামার সময় সন্তানদের পাশে নিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি মেসি। বাসে করে স্টেডিয়ামে আসার পথেও তাঁকে চোখ মুছতে দেখা যায়।

প্রথমার্ধটা অবশ্য মেসির মনমতো যায়নি। গোলের জন্য একের পর এক চেষ্টা করেছেন তিনি। দূর থেকে ফ্রি-কিক নিয়েছেন, শট নিয়েছেন, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছেন। কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দানজিনু বারবার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে স্কোরবোর্ডে তাই লেখা ছিল ০–০।

বিরতির পর বদলে গেল ছবিটা। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকেই নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলকে বিদায় বলার রাতেই বিদায়ের গানটা যেন গাইলেন ওতামেন্দিও। এরপর ৬১ মিনিটে মেসির পাস থেকে বাঁকানো শটে নিকো পাসের দৃষ্টিনন্দন গোল।

তারপর অপেক্ষা ছিল শুধু একটি মুহূর্তের। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি। স্টেডিয়ামের সব আলো যেন একসঙ্গে এসে থামল মেসির দিকে। বল রাখলেন তিনি। কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে। জাতীয় দলের হয়ে ১২৬তম গোল। সতীর্থরা ছুটে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন। আর মেসি হাসলেন। সেই হাসিতে ছিল স্বস্তি, আনন্দ, কৃতজ্ঞতা; ছিল হয়তো বিদায়ের ব্যথাটাও।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ফলের চেয়ে বড় হয়ে উঠল দৃশ্যগুলো। সতীর্থদের আলিঙ্গন, গ্যালারির উচ্ছ্বাস, আর মেসির দিকে তাকিয়ে থাকা হাজারো মুখ। ২০০৫ সালে যে ছেলেটি আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রথমবার পা রেখেছিল, ২১ বছর পর সেই মানুষটিই একই জার্সি পরে বিদায় নিলেন জয়ের মধ্য দিয়ে।

মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পরাজয় ছিল, হতাশা ছিল, ছিল এমন এক সময়ও যখন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলাই তাঁর কাছে বোঝা মনে হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কই হয়ে উঠেছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গভীর বন্ধনগুলোর একটি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমাসহ অসংখ্য সাফল্যের পাশে তাই আজ যোগ হলো আরেকটি স্মৃতি।

শেষ ম্যাচেও মেসি মেসিই ছিলেন। হয়তো এভাবেই বিদায় সবচেয়ে সুন্দর হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত