
এস্তাদিও দেফেন্সোরেস দেল চাকো স্টেডিয়াম যেন এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। যে দুর্গের প্রতিটি ইট থেকে শুরু করে ঘাসে লেখা আছে লড়াইয়ের গল্প, আর সেই গল্পের মহানায়ক কোচ গুস্তাভো আলফারো। এক বছর আগেও লাতিন আমেরিকার ফুটবল মানচিত্রে যে দেশটি ধুঁকছিল, সেই প্যারাগুয়ে এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের রঙিন স্বপ্ন বুনছে। তাদের এই ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠার গল্পটা কেবল মাঠের কৌশলের নয়, বরং হার না মানা মানসিকতার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন।
২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় যখন লা আলবিরোহা গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিল, তখন দেশটির ফুটবলে নেমে এসেছিল বিষাদের ছায়া। কিন্তু আগস্টে গুস্তাভো আলফারোর আগমন সব হিসাব পাল্টে দেয়। কোচ নয় যেন এক দার্শনিকের আগমন ঘটল। খেলোয়াড়দের কানে মন্ত্র দিলেন—এমন এক দল হও, যাদের মুখোমুখি হতে বিশ্বসেরারাও ভয় পাবে। তাঁর সেই মন্ত্রের প্রতিফলন দেখা গেল মাঠের লড়াইয়ে। বাছাইয়ে ঘরের মাঠে ব্রাজিল, উরুগুয়ে আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে প্যারাগুয়ে প্রমাণ করল, ফুটবল কেবল প্রতিভার লড়াই নয়, এটি অসম্ভব ত্যাগেরও লড়াই।
আলফারোর অধীনে প্যারাগুয়ের সাফল্যের মূল ভিত্তি তাদের জমাট রক্ষণভাগ। পালমেইরাসের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার গুস্তাভো গোমেস এবং সান্ডারল্যান্ডের ওমর আলডেরেটের নেতৃত্বে রক্ষণভাগ যেন চীনের মহাপ্রাচীর। যদিও তা কখনো কখনো একঘেয়ে। গত জুনে ব্রাজিলের কাছে একটি হার ছাড়া বাকি সময়টা তারা ছিল অপ্রতিরোধ্য। বিশেষ করে বাছাইয়ে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডই বলে দেয় আলফারো কতটা গভীরে রোপিত করেছেন তাঁর ফুটবলীয় দর্শন। যদিও আক্রমণভাগে বড় কোনো মহাতারকা নেই, কিন্তু দিয়েগো গোমেস বা হুলিও এনসিসোর মতো তরুণ তুর্কিরা যেকোনো মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সানাব্রিয়ার সেই অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিক এখনো ভক্তদের চোখে লেগে আছে।
প্যারাগুয়ের সাধারণ মানুষের কাছে ফুটবল মানে কেবল একটি খেলা নয়, এটি দৈনন্দিন কষ্টের মাঝে এক চিলতে স্বস্তি। আসুনসিওনের সুপারমার্কেট কর্মীদের চোখের জল আর কোচের সঙ্গে সেই আবেগঘন আলিঙ্গনই বলে দেয়, বিশ্বকাপে ফেরাটা এই জাতির জন্য কতটা জরুরি ছিল। ২০১০ সালের সেই সোনালি স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে মরিয়া লা আলবিরোহা এবার আর কেবল সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিশ্বকাপে যাচ্ছে না; তারা যাচ্ছে নিজেদের ইতিহাসের এক নতুন এবং গৌরবময় অধ্যায় লিখতে। রক্ষণাত্মক ফুটবলের সেই পুরোনো ঐতিহ্য আর আলফারোর মস্তিষ্ক মিলে প্যারাগুয়ে এখন অপ্রতিরোধ্য এক শক্তি।
বাছাইপর্বের পরীক্ষা পেরিয়ে প্যারাগুয়ে এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’-তে। সেখানে তাদের সঙ্গী যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক আর অস্ট্রেলিয়া। সাম্প্রতিক ফর্ম অনুযায়ী, এই গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে যাওয়ার পথে প্যারাগুয়েই থাকবে ফেবারিট। লাতিন আমেরিকার এই লড়াকু যোদ্ধাদের হাত ধরে ফুটবল বিশ্ব হয়তো ২০২৬ সালে নতুন কোনো রূপকথা দেখতে চলেছে। ২০১০ সালে স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের যে ক্ষত ছিল, উত্তর আমেরিকার মাটিতে হয়তো এবার তার উপশম খুঁজবে প্যারাগুয়ে।

গুস্তাভো আলফারো প্যারাগুয়ে ফুটবলের এক জাদুকর। ২০২৪ সালের আগস্টে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, দলটি তখন বিধ্বস্ত। এক বছরের কম সময়ে তিনি লা আলবিরোহাদের লড়াকু এক শক্তিতে পরিণত করেছেন। ইকুয়েডর ও কোস্টারিকার সাবেক এই কোচ দলকে উপহার দিয়েছেন হার না মানা মানসিকতা। তাঁর অধীনে ১২ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে দলটি। ফুটবলীয় কৌশলের পাশাপাশি কনফুসিয়াসের দর্শন আওড়ানো এই কোচ এখন দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক।

প্যারাগুয়ের ফুটবলের নতুন পোস্টার বয় ২২ বছর বয়সী জুলিও এনসিসো। বর্তমানে ফরাসি ক্লাব স্ট্রাসবুর্গের এই উইঙ্গার ব্রাইটনের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে আলো ছড়িয়ে নজর কাড়েন। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে করা তাঁর গোলটি লিগের মৌসুম সেরা নির্বাচিত হয়েছিল। ড্রিবলিং ও দূরপাল্লার শটে দক্ষ এনসিসো বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা সৃজনশীল তরুণ প্রতিভা। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিতে এই তরুণ তুর্কির ওপরই ভরসা রাখছেন ভক্তরা।
| ম্যাচ | জয় | ড্র | হার |
|---|---|---|---|
| ২৭ | ৭ | ১০ | ১০ |
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | শুরুর সময় (বাংলাদেশ সময়) |
|---|---|---|---|
| ১৩ জুন | যুক্তরাষ্ট্র | লস অ্যাঞ্জেলেস | সকাল ৭টা |
| ২০ জুন | তুরস্ক | সান ফ্রান্সিসকো | সকাল ১০টা |
| ২৬ জুন | অস্ট্রেলিয়া | সান ফ্রান্সিসকো | সকাল ৮টা |

ডালাসের এই দুপুরে লিওনেল মেসি তাঁর পায়ের জাদুতে এত সব দৃশ্যকাব্য রচনা করেছেন, কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি। তবে ওই দৃশ্যটা, ওই যে ম্যাচ শেষের দৃশ্যটা—যখন গ্যালারির কাছে লিওনেল মেসি দর্শকদের অভিবাদন আর শুভেচ্ছার উত্তর দিতে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁকে দেখে পরম স্নেহে বুকে জড়িয়ে ধরলেন হোসে পেকারম্যান।
১ ঘণ্টা আগে
হাইড্রেশন ব্রেক, মুখ ঢেকে কথা বললে লাল কার্ড, ভিএআরের কার্যপরিধির বিস্তারসহ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে কত নিয়মই তো নিয়ে এসেছে ফিফা। এরই মধ্যে ফুটবল বিশ্বকাপের ৪৮ ম্যাচ হয়ে গেছে। ৪৮ দলের প্রত্যেকেই দুটি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। এমন অবস্থায় টুর্নামেন্টের নিয়ম পরিবর্তনের চিন্তা করছে ফিফা।
২ ঘণ্টা আগে
ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাজে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ হয়েছে ধবলধোলাই। সিরিজ শেষে আইসিসির র্যাঙ্কিংয়ে তাওহীদ হৃদয়-নাসুম আহমেদরা যেমন সুখবর পেয়েছেন, আবার অবনতি হয়েছে তানজিদ হাসান তামিম-মোস্তাফিজুর রহমানদেরও।
৩ ঘণ্টা আগে
ফুটবল বিশ্বকাপের সময় পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশও বুঁদ হয়ে থাকে ফুটবল উন্মাদনায়। প্রিয় দলের গোলের সময় পাড়া-মহল্লা, অলিগলিতে শোনা যায় চিৎকার। চায়ের কাপে ঝড় তোলার মতো সামাজিক মাধ্যমেও প্রিয় দলের প্রশংসার পাশাপাশি চলতে থাকে বিপক্ষ দলের সমর্থকদের ব্যঙ্গবিদ্রূপ। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা...
৩ ঘণ্টা আগে