Ajker Patrika

১২ মিনিটের ‘মৃত্যু’ থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে স্ত্রীকে চুম্বন

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ২৩: ০৯
১২ মিনিটের ‘মৃত্যু’ থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে স্ত্রীকে চুম্বন
নরওয়ে কোচের সেই ভাইরাল চুমুর দৃশ্য। মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে নতুন জীবন পেয়েছেন সোলবাকেন। ছবি: সংগৃহীত

সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয় এবং শেষ ৩২-এ নরওয়ের জায়গা নিশ্চিত হওয়ার পর কোচ স্টালে সোলবাকেনের একটি উদযাপনের মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ম্যাচ শেষে তিনি গ্যালারিতে উঠে গিয়ে স্ত্রী আননিকেনকে আবেগঘন চুম্বন করেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে সোলবাকেন বলেন, ‘আমি জানতাম না তারা কোথায় বসে আছেন, তাই গ্যালারিতে ওঠার একটা উপায় খুঁজতে হয়েছিল।’

ম্যাচে নরওয়ের তারকা ফরোয়ার্ড আরলিং হালান্ড দুই গোল করেন। তবে একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় তাঁকে নিয়ে কিছুটা রসিকতা করেন সোলবাকেন, ‘সে (হালান্ড) একটি পরিষ্কার সুযোগ মিস করেছে। সে আরও গোল করতে পারত।’ হাসিমুখে বলেন সোলবাকেন।

ম্যাচের শেষদিকে সেনেগালের কাছে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে নরওয়েকে। সেই মুহূর্তগুলোকে অত্যন্ত কঠিন ও মানসিকভাবে দুঃস্বপ্নের মতো পার হলেও পরবর্তী পর্বের কথা ভেবে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন সোলবাকেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা ইতিমধ্যেই যোগ্যতা অর্জন (নকআউট নিশ্চিত করা) করেছি।’

তবে এসবের পেছনেই রয়েছে সোলবাকেনের জীবনের এক ভয়াবহ অধ্যায়। ২০০১ সালের মার্চে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ক্লিনিক্যালি মৃত অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাঁর হৃদস্পন্দন প্রায় ১২ মিনিট বন্ধ ছিল বলে চিকিৎসকরা জানান।

সেই অভিজ্ঞতার স্মৃতি তুলে ধরে সোলবাকেন বলেন, ‘প্রথমে আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না, শুধু সম্পূর্ণ অন্ধকার। তারপর হালকা নীল আলো দেখা গেল… একে আমরা বলতে পারি সুড়ঙ্গ। এটা ছিল এক সুন্দর আলো। যখন তারা আমাকে জাগাল, আমি ভাবলাম: ‘ওহ না, আমি কি সেখানে একটু আরও থাকতে পারতাম?’ আমার কোনো ব্যাখ্যা নেই আমি কী দেখেছিলাম।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত চিকিৎসক ফ্রাঙ্ক ওডগার্ড তাকে সিপিআর ও ডিফিব্রিলেটরের মাধ্যমে পুনরায় জীবিত করেন। সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা সামনে আনতে গিয়ে সোলবাকেন বলেন, ‘এটা ছিল এক অলৌকিক ঘটনা, কারণ তার হৃদস্পন্দন ১২ মিনিট বন্ধ ছিল।’

সেই সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল সোলবাকেনের পরিবার। তিনি বলেন, ‘আমার মা আমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন। প্রথমে তারা ভাবছিল আমি বেঁচে থাকব কি না, পরে ভাবছিল আমি মস্তিষ্কে ক্ষতিগ্রস্ত হব কি না।’

ওই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকেই বদলে গেছে সোলবাকেনের জীবনবোধ, ‘এই ঘটনা আমাকে জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে। এখন আমি বুঝি কী আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আর তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করি না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত