Ajker Patrika

মেসিদের তীব্র সমালোচনায় আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৫৪
মেসিদের তীব্র সমালোচনায় আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর ফকল্যান্ড দ্বীপ ইস্যুতে এভাবেই প্রতিবাদ জানান আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ফাইল ছবি

ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে আবারও আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ডের পতাকা প্রদর্শন এবং ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ স্লোগান দেওয়াকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

একই সঙ্গে বিনোদন বা খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতিকে জড়ানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন মিলেই। উদাহরণ হিসেবে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এলভিস প্রেসলির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এলভিস মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কারণ তিনি নিজেকে বিনোদন জগতের মানুষ হিসেবে দেখতেন।

মিলেই বলেন, ‘তেল আর পানিকে যেমন একসঙ্গে মেশানো যায় না, তেমনি খেলাধুলা ও রাজনীতিও আলাদা থাকা উচিত। এটা একটা খেলা, এর বেশি কিছু নয়।’

সমালোচনা করলেও খেলোয়াড়দের প্রতি কিছুটা সহানুভূতিও দেখিয়েছেন মিলেই, ‘মুহূর্তের আবেগে খেলোয়াড়রা এমন কিছু করতেই পারে। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তার বক্তব্য অনেক সময় যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হয়ে যেতে পারে।’

সাক্ষাৎকারে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক দুই গোলের প্রসঙ্গও তোলেন মিলেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংযত থাকতে হবে। ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে দুটি গোল করেছিলেন, তার কোনোটিই আমাদের ফকল্যান্ড ফিরিয়ে দেয়নি।’

ফকল্যান্ড ইস্যুতে নিজের সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করে মিলেই বলেন, ‘আমরা কূটনৈতিক উপায়ে ফকল্যান্ড পুনরুদ্ধারের দাবিকে এগিয়ে নিয়েছি। জাতিসংঘকে আমরা এমন অবস্থানে নিয়ে যেতে পেরেছি, যেখানে তারা ইংল্যান্ডকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছে। আমরা এতটাই কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছি যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। চীনও সমর্থন দিয়েছে, এমনকি ইংল্যান্ডের কিছু মহল থেকেও সমর্থন এসেছে।’

এর আগে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় আপত্তি তুলেছিলেন মিলেই। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘খেলোয়াড়রা কূটনীতির অংশ নয়। এটি ছিল একটি অবিবেচক কাজ।’

সর্বশেষ সাক্ষাৎকারেও একই অবস্থানে অনড় থাকেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। ফুটবল ম্যাচ মানে ফুটবল ম্যাচই। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার, এবং আমরা তা কূটনৈতিক উপায়েই পুনরুদ্ধার করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত